
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া সময়ের দাবি। যদি তদন্তে কারও অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বে চরম ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া একটি প্রশ্নবিদ্ধ, অসম এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল শুধু একটি বেসরকারি হাসপাতাল নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। হাজারো রোগী প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া মানে শুধু একটি হাসপাতালকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে শত শত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও নার্সিং শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। লাইসেন্স বাতিলের ফলে তাঁদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ, চলমান শিক্ষা কার্যক্রম এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের বিষয়টি কি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে?
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু একটি বৃহৎ সেবামূলক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, রোগী, শিক্ষার্থী এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।
আমরা মনে করি, আবেগতাড়িত বা চাপের মুখে নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সরকারকে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
কারণ একটি দুর্ঘটনার বিচার করতে গিয়ে যদি একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষই। মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কখনোই সমাধান হতে পারে না। সুতরাং, অবিলম্বে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


