মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার, বিনিয়োগের অংশীদার এবং প্রবাসী আয়ের উৎস।
এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাকে শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং কোটি মানুষের জীবিকা।
একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনো আবেগ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে না। রাষ্ট্রকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হয় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বাস্তবতা বিবেচনা করে।
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- কোনো শক্তি বলয়ের অন্ধ অনুসারী না হয়ে, সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। রাষ্ট্রনীতি আবেগের নয়, বাস্তবতার শিল্প। আর সেই বাস্তবতার নামই- বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।
আগামী দিনে জ্ঞানবিজ্ঞানে, সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে ইরান হবে এশিয়ার অন্যতম নিয়ন্তক। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ইরানের সমর্থক। তারপরও পাবলিক সেন্টিমেন্ট বা মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়। স্লোগানের চেয়ে জনগণের কল্যাণ বড়। সময়ের বিবেচনায় বাংলাদেশ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



