somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিলন
আমার ব্লগবাড়িতে সুস্বাগতম !!! যখন যা ঘটে, যা ভাবি তা নিয়ে লিখি। লেখার বিষয়বস্তু একান্তই আমার। তাই ব্লগ কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন এই লেখা আপনার নিজের মস্তিস্কপ্রসূত নয়।

এক মেরু বিশ্ব আর নয় বহু মেরু বিশ্বের উত্থান সময়ের ব্যাপার মাত্র !

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণেরে খেলা চলছে! সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দ্বিমেরু বিশ্ব থেকে এক মেরু কেন্দ্রিক বিশ্বে বিশ্ব রাজনীতি পদাপর্ণ করায় লড়াই এখন আদর্শিক নয় বরং অর্থনৈতিক। একদিকে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসাবে চীনের উত্থান ও অন্যদিকে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কিছু অর্থনৈতিক জোট গঠন শংকিত করেছে যুক্তরাস্ট্র ও ইউরোপকে। এরমধ্যে BRICS গঠন ও এর উত্থান অন্যতম।ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, সাউথ আফ্রিকা ও ভারতের সমন্বয়ে এই অর্থনৈতিক সংস্থাটি গঠিত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির অধিকারী এবং মার্কিন বিরোধী দেশ ইরানও ব্রিক্স এর সদস্য হতে যাচ্ছে সম্ভবত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিক্স এর পরবর্তী মিটিংএ! মার্কিন ও ইউরোপদের অন্যতম মিত্র আরব রাস্ট্রগুলির অবস্থা তথৈবচ ! এই সব আরব দেশগুলি জ্বলন্ত উনুনে জ্বলতেছে। গণবিষ্ফোরণ অথবা জঙ্গীবাদের বিষ্ফোরণ যে কোনো একটি সহসাই গ্রাস করবে আরব দেশগুলিকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাস্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবের বিপরীতে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বাড়ছে দিনদিন আর আ্ঞ্চলিক রাজনীতি ও কুটনীতিতে সৌদি আরব ধরাশায়ী ইরানের কাছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উত্থান অপ্রতিরোধ্য। তাই তো ইরানের সাথে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হচ্ছে ইউরোপ ও যুক্তরাস্ট্র ! অন্যদিকে চীনের নেতৃত্বে আছে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন ! ব্রিকস এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন বিশ্ব ব্যাংক যা আধিপত্য খর্ব করবে পশ্চিমাদের।ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিকে নিয়ে আলাদাভাবে ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যা বাস্তবায়িত হলে ল্যাটিন আমেরিকার জনগণের জন্য সত্যি এক নব দিগন্ত উন্মোচন হবে ! যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে জোট ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করতেছে সেখানে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক জোট ইউরোপিয় ইউনিয়নের ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠেছে !মধ্য এশিয়াকে ঘিরে চীনের সিল্ক রোড নির্মাণ পরিকল্পনা পশ্চিমাদের ঘুম হারাম হওয়ার কথা ! হ্যান করতে ত্যান করতে পশ্চিমাদের কথায় কথায় তাদের দৃষ্টিতে অবাধ্য দেশগুলির উপর এক তরফা অর্থনৈতিক অবরোধ আর কতদিন কার্যকরী থাকে তা দেখার বিষয় !

অন্যদিকে অবশেষে বেয়াড়া ও অবাধ্য রাস্ট্র কিউবার সাথে যুক্তরাস্ট্রের দীর্ঘ ৫৩ বছরের স্নায়ু যুদ্ধের অবসান হতে যাচ্ছে ! যুক্তরাস্ট্র দীর্ঘ এই ৫৩ বছরে কিউবাকে নাস্তানুবাদ করতে, এক ঘরে করতে ও বিপ্লবী শাসনযন্ত্র উৎখাত করতে হেন কাজ নেই যা করেনি ! দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল কিউবার জনগণের উপর ! কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রোকে ৬০০ এরও অধিক বার হত্যা চেষ্টা করেছে! কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিফোন সংলাপে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, প্রত্যাহার ও দুই দেশ ৫৩ বছরের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উভয় দেশে পরষ্পর দুতাবাস স্থাপন করতে রাজি হয়েছেন ! কিউবার বিপ্লব ও শাসনযন্ত্রকে যুক্তরাস্ট্রের স্বীকৃতি শুধু কিউবা নয় পুরো ল্যাটিন আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও নিপীড়িত জনতার বিজয় ! এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরা্স্ট্র যে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে ও কিউবার বিপ্লবী জনতার কাছে মার্কিনদের পরাজয় এবং অবশেষে দেরীতে হলেও সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার নত শিকার তা সারা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়েছে ! আর কিউবা সারা বিশ্বের জনগণের কাছে একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে থাকল।আমাদের আশা, যুক্তরাস্ট্র শুধু কিউবা নয় বিশ্বের অন্যান্য বেয়াড়া ও অবাধ্য রাস্ট্রগুলিরও উপর থেকে অমানবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে ও তাদের সাথেও সম্পর্ক উন্নত করবে তবে অধীনতামূলক নয় পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে । যুক্তরাস্ট্র এখন আর বিশ্বের কোনো বাঘ নয় তবে কাগুজে বাঘ ! বিশ্ব আর এক মেরু নয় বহু মেরুর দিকে যাত্রা করেছে ! তাই সময় এসেছে যুক্তরাস্ট্রকে হয় এখন অনুশোচনা করতে হবে নতুবা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে !
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×