somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্পনায় তাহারা

০১ লা জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তেতলার নন্দনকাননে বিকেলে চুপচাপ বসে ভাবছেন সে। কি ভাবছেন সে? কার কথাই ভাবছেন? দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চম পুত্র জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের অর্ধাঙ্গিনী কাদম্বরী দেবী। জ্যোতিরিন্দ্র সবার কাছে নতুন নামেই পরিচিত। তাই এ বাড়িতে সে নতুন বৌঠান। ৯ বছর বয়সে ঠাকুর বাড়িতে তার আগমন। মাতঙ্গিনী ছিল তার বাবা মায়ের দেয়া নাম। ছোট্ট রবির বয়স তখন মাত্র ৭। ১৯ বছর বয়সী জ্যোতির চেয়ে মনে হয় তাই রবিকেই বেশি আপন করে নিয়েছিলেন। কিছুটা নিভৃতচারী ছিলেন। তাই হয়ত মনের গভীর গোপন কথাগুলো একমাত্র রবিই বুঝত। জ্যোতির সাথে যে ছিল তার যোজন যোজন দুরত্ব! আসর মাতিয়ে রাখা জ্যোতির পাশে সে বড়ই অপ্রতিভ ছিল। কিন্তু রবির রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠায় যে তার ভূমিকা কি ছিল তা শুধু রবিই জানতেন। ভালবেসে গ্রীক দেবীর নামে নাম দিয়েছিলেন হেকেটি। সে যে ছিলেন রবির প্রণয়াকাশের ধ্রুবতারা।
"চেয়ে তব মুখপানে বসে এই ঠাঁই
প্রতিদিন যত গান তোমারে শুনাই
বুঝিতে কি পার সখি, কেন যে তা গাই?
বুঝ না কি হৃদয়ের
কোন খানে শেল ফুটে
তব প্রতি কথাগুলি
আর্তনাদ করে উঠে!"
হ্যাঁ হেকেটিকে উদ্দেশ্য করেই এই লেখা।
কিংবা পদ্মায় বোটে ঘুরতে গিয়ে তার পানে চেয়ে গেয়ে ওঠা..
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,
এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা।
চন্দননগরের মোরান সাহেবের বাড়িতে একাকী আনমনে, কখনো সখনো প্রিয়তম স্বামী জ্যোতির অপেক্ষায় থেকে থেকে দিন কেটে যেত কাদম্বরীর। রবি ডুবে থাকত কোন লেখায়। নতুন বৌঠান থাকতেন সেই লেখার প্রথম পাঠক, সমালোচক। ভোর পেরিয়ে সকাল হয়। জ্যোতি বাণিজ্য না হয় কোন আসরে গিয়েছেন কোথাও। আজ ফিরে তিনজনের বজরা নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা। কাদম্বরীর যে রাতে খুশিতে ঘুমই হয়নি। স্নান সেরে সোনালি চওড়া পাড়ের নীল এক রঙা শাড়ি, কুচি ওয়ালা সেমিজ, পায়ে আলতা, প্রিয় সুগন্ধি। টানা চোখে কাজল, যুগল ভ্রু, দীর্ঘাঙ্গী সব মিলিয়ে সত্যিই যেন গ্রীক দেবী এক। বাগানের দোলনায় আনমনে দুলতে দুলতে হঠাৎ রবির আগমন। একটু অভিমান হয় হেকেটির। সারাবেলা কোন খোঁজ নেই। কি এমন কাব্য রচনায় মগ্ন থাকতে হবে? নতুন বৌঠানের চোখে মুখে ফুটে ওঠা অভিমান অনুযোগ আর কেউ না বুঝলেও রবির চোখে ঠিকই ধরা দেয়। একটা রক্তজবা তার কানে গুজে দিয়ে আর কিছু মধুমঞ্জরিলতা হাতে তুলে দিয়ে গুনগুন করতে করতে দোলনায় দোল দিতে থাকলেন রবি। গুড়গুড় মেঘের ডাকে প্রকৃতিও যেন মানবীর রাগ ভাঙানোয় যোগ দিচ্ছে রবির সাথে।
"আমার লতার একটি মুকুল
ভুলিয়া তুলিয়া রেখো
তোমার অলকবন্ধনে
আমার স্মরণ-শুভ-সিন্দুরে
একটি বিন্দু এঁকো
তোমার ললাটচন্দনে
আমার মনের মোহেরও মাধুরী
মাখিয়া রাখিয়া দিয়ো
তোমার অঙ্গসৌরভে
আমার আকুল জীবনমরণ
টুটিয়া লুটিয়া নিয়ো
তোমার অতুল গৌরবে"
মানব-মানবীর যেন অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে কেটে গেল একবেলা।
আচ্ছা রবি নতুন একটা সুর বেঁধ তো আমি গেয়ে শোনাবো তোমায়..
রবির ভাবনাতে আসে...
"কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমারও চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া "

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×