১০০ নাম্বারের পরীক্ষায় ১৫ নাম্বার পুরো ছেড়ে দিয়ে আসবো এই ব্যাপার তো আমি কোনোভাবেই মানতে পারবো না। হাতে সময় আছে এখনো ৩০ মিনিট। প্রশ্ন কমন পরেনাই ঠিক আছে তাই বলে ছেড়ে দিয়ে আসতে হবে? একদম না। এইসব চিন্তা করতে করতে যখনই ঠিক করলাম লিখবো তখনই দেখি ৪ টা বেজে গেছে। খাতাটা নিয়ে যাবে। সময় শেষ! যাহ ৮৫ তে কমপক্ষে ৭৫-৮০ তো পাবোই! যা লিখসি খারাপ লিখি নাই।
হল থেকে বের হয়েই ইন্টারভিউ কল! খুব ভালো অফার। লোকটার নাম মাইদুল। খুব সফটলি সুন্দর করে কথা বলল। আমি আবার এই মুহুর্তে খুব ব্যস্ত। পরে কল ব্যাক করবো বলে ফোন রাখলাম।
খুব টেনশন আর উত্তেজনা কাজ করছে মনে। মানুষজন কিভাবে দেখবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত ঘটতে যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই না, বিশ্বের ইতিহাসেও প্রথম। আর এই ঘটনার মূলে আমি! আমাকে ঘিরে এত্ত হৈচৈ, এত্ত ক্যামেরা, এত্ত কলাম, সংলাপ, আলোচনা!! আচ্ছা এবার বলি কি হতে যাচ্ছে। এই প্রথম বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম একাদশে একটা মেয়ে খেলতে যাচ্ছে। উহু ভাববেন না যে নারী ক্রিকেট টিম। এটা সাকিব মুশফিকদেরই বাংলাদেশ টিম। আর ওদের সাথে সেই মেয়েটা আমি!! কিভাবে কি হল জানিনা। শুধু একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি। বেশি রান করতে পারিনি। তারপরই টিম একাদশ ম্যানেজমেন্ট ঘোষণা করল। মিডল অর্ডারে আমি থাকব মুশফিকের সাথে। চিন্তা করছিলাম যে মুশফিক তো সেঞ্চুরি করবে। তখন তো আমাকে এসে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করতে পারবেনা। আমরা দুইজন তখন লাফাবো শুধু। ইশশশ জিতে যাওয়ার পর সেলিব্রেশনটা যা হবে না!!!
আচ্ছা খেলা শুরু হওয়ার আগেই কেউ একজন বলল একটু ভিআইপি গ্যালারির দিকে যাওয়ার জন্য আমাকে। গিয়ে দেখি পিএম ডেকেছে আমাকে। সালাম দিয়ে এগিয়ে যেতেই হাত ধরলেন হাসিমুখে। খুব করে শুভকামনা জানালেন। আদর করে দিলেন। তারপর সামনের সারিতে বসা কাউকে ডাকলেন। দেখি এক লোককে ডেকে বলছেন আমার কথা। লোকটা তো মাইদুল। স্বয়ং পিএম মাইদুলকে বলে দিচ্ছেন আমি কে। মাইদুল তো একদম বিনয়ে গলে পড়ছে। নতুন জবটাও বেশ!! আহহ জীবন!! বাংলাদেশ একাদশে খেলা আর আকর্ষণীয় জব সাথে পিএম আবার আদরও করে দিয়েছে।
একটি স্বপ্নের খণ্ডাংশ।
পিএমের সাথে কথা বলা প্রায় শেষ যখন, বিদায় নিয়ে আসব ঠিক তখনই নির্ঝরের গলা। এইইই রূপা, রূপা!! উঠবানা তুমি?? যাবা না অফিসে? মনে কামড় দিল সাথে সাথেই। এটা স্বপ্ন ছিল!!! উফফফফফ!!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




