somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

আসুন, জেনে নিই, হালাল পশুর সব কিছু খাওয়া কি হালাল? না কি কোন অংশ এমন আছে যেগুলো খাওয়া হারাম?

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হালাল পশুর গোশত আমরা খেয়ে থাকি। কিন্তু সঠিকভাবে অনেকেরই হয়তো জানা থাকে না যে, হালাল পশুর সব কিছুই খাওয়া কি হালাল? না কি কোন অংশ এমন আছে যেগুলো খাওয়া হারাম?

ফলে প্রায়শই সমস্যার সৃষ্টি হতে দেখা যায়। দ্বিধা দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। যদিও কারও কারও কাছে এটি খুবই ক্ষুদ্র মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু আমার নিকট অতিব গুরুত্বপূর্ন। কারন, এর সাথে হালাল হারামের প্রশ্ন। জেনে হোক আর না জেনে হোক, হারাম দ্রব্য ভক্ষন কোনো অবস্থাতেই কারও কাম্য নয়। এই কারনে প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিরই জানা থাকা উচিত বিষয়টি।

আসুন, সমাধানের দিকে লক্ষ্য করি- মূলত: হালাল পশুর সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গই খাওয়া হালাল নয়। কিছু অংশ এমন আছে যেগুলো খাওয়া মুসলমানের জন্যে হারাম। সেগুলো সংখ্যা ৭টি। যথাঃ

১। প্রবাহিত রক্ত।
২। নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ।
৩। অন্ডকোষ।
৪। মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ।
৫। মাংসগ্রন্থি।
৬। মুত্রথলি।
৭। পিত্ত।

এছাড়া বাকি সবই খাওয়া হালাল এবং জায়েয। দেখুন-

وَأَمَّا بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ فَاَلَّذِي يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْهُ سَبْعَةٌ: الدَّمُ الْمَسْفُوحُ، وَالذَّكَرُ، وَالْأُنْثَيَانِ، وَالْقُبُلُ، وَالْغُدَّةُ، وَالْمَثَانَةُ، وَالْمَرَارَةُ لِقَوْلِهِ عَزَّ شَأْنُهُ {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157] وَهَذِهِ الْأَشْيَاءُ السَّبْعَةُ مِمَّا تَسْتَخْبِثُهُ الطِّبَاعُ السَّلِيمَةُ فَكَانَتْ مُحَرَّمَةً. (بدائع الصنائع، كتاب التضحية، باب صفة التضحية، فَصْلٌ فِي بَيَانُ مَا يَحْرُمُ أَكْلُهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْحَيَوَانِ الْمَأْكُولِ-5/61، وكذا فى الفتاوى الهندية-5/290، وفى رد المحتار، كتاب الأضحية

الغُدَّةُ والغُددَةُ: كُلُّ عُقْدَةٍ فِي جَسَدِ الإِنسان أَطاف بِهَا شَحْم. والغُدَدُ: الَّتِي فِي اللَّحْمِ، (لسان العرب، فصل الغين المعجمة

রেফারেন্স যা উল্লেখ করা হয়েছে ধারনা করি এগুলো অথেন্টিক। আরবি বুঝতে হয়তো কারও কারও একটু অসুবিধা হতে পারে। তাই আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রেফারেন্সে উল্লেখকৃত কিতাবগুলোর নাম বাংলায় যুক্ত করে দেয়া হল পোস্টে:

১। বাদায়িউসসানায়ে'।
২। ফাতাওয়া হিন্দিয়াহ।
৩। রদ্দুল মুহতার এবং
৪। লিসানুল আরব।

এছাড়াও কোন কোন আলেমের মতে হালাল জবেহকৃত পশুর মেরুদন্ডের হাড়ের ভিতরের মগজ খাওয়া মাকরূহ। তাই তা না খাওয়া উচিত। (দ্রষ্টব্য: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী)

উল্লেখ্য, গ্রামে সাধারনত: দেখা যায়, গৃহস্তরা কিছু মুরগী পালন করে থাকেন, যা ছেড়ে দেয়া হয় এবং শস্যাদি ও নাপাক ইত্যাদি সবকিছুই খায় তা খাওয়া যাবে কি না- এ ব্যাপারেও অনেকের প্রশ্ন থাকে। এর উত্তর হচ্ছে- যেসব মুরগি খোলা থাকে এবং নাপাক বস্তু খেয়ে বেড়ায় তাদেরকে তিন দিন বেঁধে রেখে জবেহ করতে হবে। তিন দিন না বেঁধে এগুলো ভক্ষন করা মাকরূহ। আর যদি শিউর হওয়া যায় যে, খোলামেলা থাকা সত্বেও এগুলো নাপাক কোনো বস্তু ভক্ষন করার সুযোগ পায় না, কিংবা খায় না তাহলে সেগুলো তিন দিন বাঁধা ছাড়া খাওয়া যাবে। (দ্রষ্টব্য: হেদায়া)

আল্লাহ পাক আামাদের জেনে বুঝে সঠিকভাবে সকল আমল করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

ছবি কৃতজ্ঞতা: গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:০০
১০টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×