somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুড়িয়ে পাওয়া শাক - ৫ : সেচি শাক/ হেচি শাক/ চিড়া শাক/ইছা শাক/ বেং বেং জাথং

০৯ ই আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :









স্থানীয় নাম :
বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় এই কুড়িয়ে পাওয়া শাকটি বাঙালিদের কাছে সেচি শাক নামেই বেশী পরিচিত। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে স্থানীয় বাঙালিদের ভেতর হিন্দু সমপ্রদায় এই শাকটিকে চিড়া শাক বলেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় এই শাকটিকে ইছা শাক বলেন।
টাঙ্গাইলের মান্দি(গারো) আদিবাসীদের মধ্যে এই শাকটি বেং বং জাথং নামে পরিচিত।

বৈজ্ঞানিক নাম :
Polycarpon prostratum
Forsk
( Syn. P. loeflineae Benth.
et Hook


উদ্ভিদ পরিবার:
Caryophylaceae


ব্যবহার :
শেকড় বাদে পুরো গাছটিই শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কোথায় পাওয়া যায় :

বাংলাদেশের বিভিন্ন সমতল এলাকার গ্রামে পাওয়া যায়। নিচু জমিতে, ভেজা ও স্যাঁতস্যাতে জায়গায় বেশী জন্মে। যেখানে জন্মে সেখানেই বিস্তৃতি দেখা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই শাকের বিভিন্ন নাম আছে। সাধারনত বসতবাড়ীর আশপাশের আলান পালান ও মরিচ বেগুন ও টমেটোর টালে (ক্ষেত) এই শাক বেশী জন্মে।


দেখতে কেমন :

চিড়া শাক স্থানীয়দের একটি অতি প্রিয় শাক । Caryophylaceae পরিবারভূক্ত এই উদ্ভিদটি বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত সপুষ্পক শাক। এর পাতা দেখতে চিড়ার মত হওয়ায় স্থানীয়রা একে চিড়া শাক বলেন। এই শাক মাটিতে ঘন ভাবে বিছিয়ে থাকে। শাকের মূল কান্ড থেকে ছোট ছোট ডাল বের হয় যা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা রং সবুজ তবে কান্ড লালচে খয়েরী রংয়ের হয়। অগ্রহায়ন মাসে এই গাছে ছোট ছোট হলুদ রংয়ের ফুল ধরতে দেখা যায়। পাতা গুলো মোটা এবং রসালো। ফুল গুলো কান্ডের সাথে লেগে থাকে। ফুল থকে ছোট ছোট লাল রংয়ের বীজ হয়। বীজের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটলেও অনেকে শাক তোলার পর বাড়ির আশেপাশে কাটা শেকড় গুলো নরম মাটিতে গেঁথে রাখেন যাতে এর বংশবৃদ্ধি ঘটে।

কখন পাওয়া যায় :
বৃষ্টি বেশী হলে এই শাক বেশী দেখা যায় তবে সারা বছর কমবেশী এই শাক দেখা যায়। বর্ষার পরবর্তী সময়ে বাড়ীর আশে পাশের স্যাঁত স্যাঁতে জমিতে এই শাক পাওয়া যায়।

কিভাবে খাওয়া যায় :
এই শাক খেতে একটু টক টক লাগে। শাক তোলার পর তাজা শাক ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই শাক অন্যান্য শাকের মত তেল, মরিচ, পেয়াজ, লবন দিয়ে ভেজে খাওয়া হয়। এলাকাভেদে রান্নায় হলুদ-মরিচ বা অন্য মশলা স্বাদ মতো মেশানো যেতে পারে। টাঙ্গাইলের মান্দি(গারো) আদিবাসীরা কলাপাতার ভেতর এই শাক ভরে চুলার কয়লার আগুনে পোড়া দিয়ে খান।

উপকারিতা :
এই শাক দিয়ে ছোটদের সবজী খিচুড়ী করে খাওয়ালে শিশুদের খুব উপকার হয়। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই শাকের ঝোল খুব উপকারী।

অন্যান্য :
গ্রামীণ পর্যায়ে এই শাক মূলত নারী ও শিশুরাই সংগ্রহ করে থাকে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য এই শাক যেমন পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটায় একইভাবে তা পুষ্টি চাহিদাও দূর করে।

সতর্কতা :
• শাক নরম বিধায় সাবধানে তুলতে হয়।
• শাক তোলার পর বেশী সময় রাখা যায় না, তাজা থাকতে থাকতে রান্না করে ফেলতে হয়।
• যেসব জমিতে রাসায়নিক সার এবং রাসায়নিক কীটনাশক দেয়া হয় সেসব জমির শাক না খাওয়াই ভাল।
• রান্নার আগে শাক ভাল করে ধুয়ে নেয়া দরকার।
• শাক তোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই এর বংশ যাতে একবারেই শেষ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
• ফুল আসার পর শাক খেতে তেমন স্বাদ লাগে না আর তাছাড়া বংশবৃদ্ধিতে সমস্যা হয় বলে ঐ সময় সংগ্রহ না করাই ভাল।

=============================================


কুড়িয়ে পাওয়া শাক : ১ শুষনি/শুনশুনি/আবুল ঘাস/ শুশুনি/শুনশুনিয়া শাক
Click This Link

কুড়িয়ে পাওয়া শাক : ২ = শ্বেতদ্রোণ/ দন্ডকলস/দল কলস/ ধুবরি/ দোর কলস/ কান শিশা/ কাউন শিশা/ ধুরপ/ দুলফি শাক : Click This Link

কুড়িয়ে পাওয়া শাক : ৩ = মালঞ্চ শাক / শান্তি শাক
Click This Link

কুড়িয়ে পাওয়া শাক : ৪ -তেলাকুচা/ কুন্দ্রি শাক
Click This Link


-----------------------------------------------------------------------------
তথ্যসূত্র : সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এলাকার গ্রামীণ নারী এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম।
United Nations Development Programme
-----------------------------------------------------------------------------



==========================================
উৎসর্গ:

সানজানা হক লিলি
রুপালী ভবন
৬৭৬, হালিশহর রোড
বড়পোল, আগ্রাবাদ
চট্টগ্রাম।
===========================================
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×