আমি খুব জড়সড় হয়ে ভদ্রমহিলার সামনে বসে আছি। পা একটার উপর আরেকটা কিভাবে রাখব সেটা নিয়ে নিজের ভেতরে তুমুল ঝগড়া চলছে । বড় কারো সামনে একদম সোজা হয়ে বসার সময় পা একটার উপর আরেকটা রাখলে সেটা কি বেয়াদবির পর্যায়ে পড়ে ?
'তুমি কি কোন কারণে অস্বস্তি বোধ করছ ? ' সামনে বসে থাকা ভদ্রমহিলা প্রশ্ন করলেন ।
'না,না । আমি ঠিক আছি । ' খুব মৃদুভাবে উত্তর দিলাম আর নার্ভাসলি তার দিকে তাকালাম ।
শ্যামলা গায়ে জলপাই কালারের শাড়ি । এতদিন জানতাম শ্যামলা মানুষকে জলপাই রঙ্গে ভাল লাগেনা । উনাকে দেখে প্রথম বুঝলাম, আমি ভুল এবং ভাল মতনেই ভুল ।
কয়েকদিন আগে মাত্র দ্রৌপদীর কাহিনী পড়েছি । উনাকে দেখে সেই দ্রৌপদীর সৌন্দর্য বুঝতে পারলাম ।
'দেখ ছেলে । আমি যে তোমার দাদি লাগি সেটা জেনেছ । নরম্যাল হও । এমন কাঠ হয়ে বসে থাকার দরকার নেই । ছোটবেলায় তোমার প্যান্ট পর্যন্ত আমি বদলিয়েছি । হিহি । '
সামনে বসে থাকা দ্রৌপদী মহিলা সত্যিই আমার দাদি হন । গ্রাম সম্পর্কের দাদী । দাদি হলেই যে বয়স্ক বয়স্ক হতে হয়,এমন না । উনি খুব অল্পতেই দাদি হয়ে আছেন । মা হওয়ার আগেই দাদী হয়ে আছেন ।
আমি খুব মিনমিন করে বললাম, 'আমি ঠিক আছি । ' বলে শরীরটাকে আরেকটু মুছড়ে আরাম করে বসলাম ।
দ্রৌপদী আমার সাথে কথা জমাবার চেষ্টা করছে বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে, কিন্তু আর্লি টিন লাইফের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কারো সাথে আলাপ করার মত বিষয় পাওয়া যায় না । নিজেকে ঠিক বড় ভেবে বড়দের সাথে যেমন কথা বলা যায় না,তেমনি ছোটদের প্রতি অনীহা আসে । মনের মধ্যে 'বড়' হওয়ার টপিকগুলো ডাক ডাক গুড় গুড় করে,কিন্তু বলার মত সাহস পাওয়া যায় না । তাই দ্রৌপদীর সব চেষ্টা বিফলে দিয়ে তের চৌদ্দ বছরের আমি মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম । তখন নতুন এসেছি ফেসবুকে, তাই চ্যাট করার তৃষ্ণা তখন পুরোমাত্রায় । অন্ধ্র প্রদেশের মেয়ে অশ্বিনী যে কিনা আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়,তাকে লিখলাম --ফ্রেন্ডশীপে বয়স কোন ফ্যাক্ট নয় ।
কথাটা লিখেছিলাম এবং নিজের কথাতে নিজেই চমৎকৃত হয়েছিলাম । যে কথাটা লিখেছি,সেটা নিজে যদি বিশ্বাস না-ই করতে পারি,তবে লিখলাম কেন?
আর বিশ্বাস করলে সামনে বসে থাকা দ্রৌপদীর সাথেও ফ্রেন্ডশিপ সম্ভব । এই প্রথম একটু ইজি হওয়ার প্রয়োজন বোধ করলাম ।
দ্রৌপদী আমার মনের ভাব বুঝল কিনা কে জানে । ও আমার পাশে সোফায় এসে বসল । বলল,'মোবাইলে কি এত গুঁতাগুঁতি কর? কারো সামনে বসে থেকে এভাবে মোবাইল টিপা অভদ্রতা । দেখি,কি কর মোবাইলে? প্রেম কর? '
প্রশ্ন শুনেই আমার কান গরম হতে লাগল । এভাবে সরাসরি অল্প পরিচিত কেউ প্রেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারে এটা আমার ধারণার বাইরে ছিল ।
আমার অবস্থা দ্রৌপদী বুঝতে পারল । 'আরে,এত এম্রাসড হচ্ছ কেন? আমি সম্পর্কে দাদী হই। নাতীরা স্বামীর সমান । তুমি আমার দ্বিতীয় স্বামী । আহারে ছোটবেলায় কত চুমু দিতাম তোমায়! এই রে! এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? '
বলতে বলতে দ্রৌপদী আমার দিকে ঝুঁকে এল আর আমি আমার কানের পাশে গরম একটা কামড় অনুভব করলাম ।
আমি আমার জীবনে এত বড় বিব্রতকর অবস্থায় পড়িনি । কি করতে হবে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,শুধু বুঝতে পারছিলাম আমি আমার উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি ।
অবশ হয়ে যেতে থাকা হাতকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বাদ দিয়ে দ্রৌপদীর দিকে তাকালাম--- পূর্ণ মনোযোগের সাথে ।
নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে আর তিরতির করে চোখ কাঁপছে । শ্যামলা গালের বাম পাশে একটা তিল হাসি দিলে সেটা টোপরের মাঝে হারিয়ে যায়। দ্রৌপদী তখন হাসছিল,তাই বুঝতে অসুবিধা হয়নি ।
সা করে উনার মুখ আমার কাছে চলে এল আর আমার মনে হল কয়েকশ ওয়াল্টের একটা বাল্ব আমার মুখের সামনে । কড়া একটু জর্দার গন্ধ পেলাম তারপর নিজেকে সরিয়ে নিলাম ।
সেদিন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম, তবু মনে মনে চাইছিলাম দ্রৌপদী আবার আমাকে জর্দার ঘ্রাণ দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দিক । কিন্তু ও চুপসে গিয়েছিল আমার বিহ্বল মুখ দেখে । বলেছিল, "তুমি খুব বেশি লাজুক । লাজ ভাঙ্গাতে হবে । "
নৈতিকতার জ্ঞান খুব টনটনে ছিল সেই দিনগুলোতে । প্রেমের খাতিরে ফিজিক্যাল রিলেশন করেছে এমন শুনে শিউরে উঠেছিলাম একদিন । আর আজ ? নৈতিকতা আমার কাছে বড় অনৈতিকতা । অশ্লীলতার প্রলেপন নৈতিকতা ।
শিশুকাম অর্থাৎ পিডোফিলিয়া আমাদের দেশে নতুন নয়,প্রাচীন কালের সাথে পাল্লা দিয়েই এটা চলে আসছে । আগে গ্রহণযোগ্য ছিল বাল্যবিবাহের নামে, এখন বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও সুখি নেই শতকরা নব্বই এর অধিক শিশু । তারা কিছু বোঝার আগেই শিকার হচ্ছে পশু পিডোফিলিকদের, বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা । তবে ছেলেরাও নিরাপদ নয়,যদিও লাজ লজ্জার ভয়ে সেই গল্প উহ্য থেকে যায় । সময় এবার লড়াই করার ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




