somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ স্বীকারোক্তি - ১

১০ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজারবার চেষ্টার পরও লিয়া রাগ কন্ট্রোল করা শিখতে পারেনি ।
ধমকটা দেওয়ার পর রাগ কমে গিয়ে অনুতাপ বোধ এল । ততক্ষণে দিয়া চুপচাপ বসে গিয়েছে । আজ আবার কয়েক ঘন্টার ধাক্কা । এই কয়েকঘন্টা এভাবে চুপচাপ বসে থাকবে, কোন শব্দ করবে না,কারো প্রতি কোন অভিযোগও করবে না কিন্তু টপটপ করে পানি ফেলবে ।
'অসহ্য! ' বলে লিয়া দাঁত কিড়মিড় করল, 'দিয়ানি, এদিকে আয় । আয় কার্টুন দেখি । আয়। আসবি না ? মাথা না নাড়িয়ে, মুখে বল । আসবি মানে,অবশ্যই আসবি । '

লিয়ার জানতে হবে কোথা থেকে এসব শিখে এসেছে । বাচ্চা মেয়ে,মাত্র নার্সারিতে পড়ে,এসে জিজ্ঞেস করে,"লিয়াপ্পু,বিয়ে­­ না করলে বেবি হয়না কেন? "

লিয়ার কান লাল হয়ে উঠল । কোনমতে অস্বস্তি কাটিয়ে জোরেসোরেই বলল, ' বিয়ে ছাড়া বেবি হয় না কে বলল? আজগুবি কথা । আর তোর এখন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে । '

-' আমি জানতাম লিয়াপ্পু,তুই বলবি না । আঈয়াজ ভাইয়া ঠিকই বলেছে,কেউ এটা বলতে চায়না । কিন্তু আমার দরকার আছে । আমার ড্যান্সিং প্রিসি পুতুলটার নতুন একটা বেবি এনেছি । ওই যে তুই নতুন একটা গিফট করলি না ? সিসি ? সেই সিসিকে প্রিসি'র মেয়ে বানিয়েছিলাম । কিন্তু আঈয়াজ ভাইয়া বলল আমার প্রিসি'র বিয়ে হয়নি । তাই ওর বেবি থাকতে পারেনা । কিন্তু বিয়ে না হলে বেবি হবে না কেন?'


লিয়ার কানের উষ্ণতা মাথায় পৌঁছাল । লজ্জা আর অস্বস্তি মিলে রাগে পরিণত হল । চড় মারতে গিয়ে থেমে গেল,কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা। ধমকটা দিয়েই ফেলল, "যা সর্ ! বাচ্চা মেয়ের মুখে কি খারাপ খারাপ কথা ! "

বলেই বুঝতে পারল ভুল হয়ে গেছে । ইশ,ধমকটা যদি ফিরিয়ে নেওয়া যেত ! বেচারির তো কোন দোষ ছিল না,এটা খারাপ কথা নাকি ভাল কথা সেটাও ও বুঝেনি । অযথা ধমক খেল । নিজের উপর ললিয়ার বিরক্তি লাগল । কবে যে রাগ কন্ট্রোল করতে শিখবে !
ধমক দিতে হবে আঈয়াজ লম্পটটাকে । শুধু ধমক না,গালে চড়ও দেওয়া উচিৎ ।

লম্পটটার কত বড় সাহস, বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে বিয়ে-বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে আলাপ করে । এসব খেলাখেলি আর আলাপের পরবর্তী ফলাফল বেশ ভাল জানা আছে লিয়ার ।

'পিডোফিলিক! ' লিয়া বিড়বিড় করল । তার আবার রাগ উঠে যাচ্ছে । এভাবে খেলার ছলে খারাপ কথা বলার সাহসটুকু কোথায় পেল? ছেলেটাকে এখন সামনে পেলে হয় । হাড় মাংস আলাদা করতে হবে ।

লিয়া আবার ডাকতে লাগল,'দিয়ানি । এদিকে আয় । ' লিয়াকে পুরো ব্যাপারটা জানতে হবে । আলাপের চেয়ে বেশি কিছু করেনি তো ? কিন্তু দিয়া আসছে না,আসবেও না ।


লিয়ার মাথায় আগুন ধরে গেছে । মেয়েদের এত রাগ ভাল না । রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছ সে,'Three Two One and One Two Three,
What the heck is bothering me? ' ফর্মুলা কোন কাজে আসছে না । শেষ কবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল মনে করার চেষ্টা করছে ।

***

মৌলির বিয়েতে এমদাদ ভাইয়ের সাথে দেখা । মাঝখানে প্রায় নয় বছর । লিয়াকে দেখে এমদাদ ভাইয়ের গলায় কী আহ্লাদ, 'আরে! লিয়া নাকি রে! '


লিয়ার শরীরে জ্বর আসতে লাগল হঠাৎ করেই । মাথার ভেতরে কেউ যেন ভায়োলিন বাজাচ্ছে ঝড়ের বেগে -----I wanna watch you burning !


কিন্তু বাইরে নিজেকে খুব শান্ত করে নির্মোহীভাবে লিয়া বলল, 'সন্দেহ আছে নাকি? আইডেন্টিফায়িং সাইন দেখাব? '

"সিরিয়াসলি। একদম বড় হয়ে গেছিস রে । তোকে সত্যিই চেনা যায় না । '

'তোমাদের জন্য সারাজীবন ছোটই থাকব নাকি ? আগের মত সুন্দর নেই হয়তো, তাই চিনতে পারছ না । তবে আগের মত ছোটও নেই ।' বলেই একটা অর্থপূর্ণ হাসি দিল ।
এমদাদ সেই হাসি বুঝল কি-না কে জানে । বুঝেনি । তাই বলল, ' আমাদের জন্য ? মানে কি ? 'এমদাদের চোখে মুখে বিস্ময় ।


'আরে ধুর । বাদ দাও তো । এমনি এমনি বললাম । ভুলেই তো গেলে । যাক,তোমার সাথে কিছু কথা ছিল । সময় হবে? সময় হলে চল ছাদের ওখানটায় বসি। '

শেষের দিকে তরল একটা হাসি দিল । ইচ্ছা করেই । অনেক চেষ্টায় রপ্ত করা হাসি । লিয়া জানে,কাজ হয়ে গেছে ।


'সে কি! সময় হবে না কেন? এখানে তো বেড়াতেই এসেছি । কতদিন পর দেখা বলতো? সেই বিদেশ যাওয়ার আগে দেখা, তখন তুই ফ্রক পড়া । তোর সেসব মনে নেই হয়তো...

এমদাদ ভাই তার গল্প বলতে লাগল,আমেরিকার গল্প । তার কী কী ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতা । লিয়ার মাথায় কিছুই ঢুকল না। সে শুধু মনে মনে বলল, ফ্রক পড়া লিয়ার মনে আছে । সব মনে আছে । মনে আছে এই ভাইটা কত আদর করত তাকে,চকোলেটের আদর । সেসব কি ভুলা যায়? মাথার ভেতর I wanna watch you burning আরো জোরে বাজছে । আজ সেই দিন । স্বীকারোক্তির দিন ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×