somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : শ্রাবণ দিনের কদম ফুল

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখে মুখে পবিত্র আগ্রহ নিয়ে শ্রাবণীর খাওয়া দেখছি ।

শ্রাবণী এক মনে খেয়ে যাচ্ছে । মাথা পর্যন্ত উপরে তুলছে না । লজ্জায় বোধহয় । মাথা নিচু করে চুপচাপ হেঁটে এসে পাশে বসেছিল । আমি একটু নড়েচড়ে বসার জায়গা করে দিলাম । জিজ্ঞেস করলাম, আজকে দেরী হল যে ?


শ্রাবণী কিছু বলেনি । চুপচাপ বসে মাথা নিচু করে আঙ্গুল কচলাচ্ছিল । হাতের কদম ফুলগুলো আমার কোলে দিল । শ্রাবণ দিনে শ্রাবণীর দেওয়া কদম ফুল ।

আমি ভালবাসায় সিক্ত কদমগুলো নিলাম । অপূর্ব স্বর্ণচ্ছটার কদম । বাদল দিনের কদম । বিরহের কদম । প্রেমের অভিশাপ । তবু পরম ভালবাসায় স্বর্ণালীর ঘ্রাণ নিতে নিতে বললাম, ফুচকা খাবে ?

শ্রাবণী মাথাটা একপাশে হেলিয়ে দিল । এমন সৌন্দর্যের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়া থাকা ছাড়া কিছু করা যায় না ।
শ্রাবণী এক মনে খেয়ে যাচ্ছে । অনেকক্ষণ তাকিয়ে আছি, মানুষের দৃষ্টিরও এক ধরণের উত্তাপ আছে, তাই সে টের পেল । টের পেয়ে মাথাটা একটু তোলল । চোখে কাজল নেই,মুখে কোন ফেস পাউডার নেই কিংবা কোন আইশ্যাডো,লিপস্টিক নেই । তবু সব মিলিয়ে কত মায়াকাড়া একটা চেহারা । নাক কিছুটা বোঁচা ধরণের, বড় বড় দুটি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে নামিয়ে নিল । চোখ নিচু করেই বলল, তুমি খাবে না ?

আমি কিছু না বলে মাথায় হাত রাখলাম । ছোট চুলগুলোর মধ্যে বেণী করে জুটি বাঁধা । তেল দিয়ে জবজবে চুলগুলোর মধ্যে স্পর্শ মাত্রই কেমন প্রশান্তি আসে । 'তুমি খাও ' বলে চোখে মুখে পবিত্র আগ্রহ নিয়ে আবার দেখতে লাগলাম শ্রাবণী কে । আমার কদমদাত্রী ।


শ্রাবণীর সাথে আমার পরিচয় আজ নয়দিন হল । মেঘ জমে বৃষ্টি আসি আসি করছে এমন একটা বিকেলে সুন্দর কাউকে অসুন্দর একটা বিকেলের নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলাম । আসেনি । হয়তো ব্যস্ত । কিংবা হয়তো আমার জন্য তার ব্যস্ত শিডিউলে কোন সময় নেই । থাকার প্রয়োজন নেই । তাই আসেনি । আমি বসে আছি একা ।পার্কের বেঞ্চে সম্পূর্ণ একা ।
সামনে জড়ো করে রাখা গাছের ঝরে যাওয়া পাতার দিকে একমনে তাকিয়ে ছিলাম । শখ করে পরা লাল গেঞ্জিটা কুঁকড়ে গিয়েছিল । কুঁকড়ে গিয়েছিল আমার সমস্ত সত্ত্বা । তাই সামনে ব্রহ্মপুত্রের দিকে না তাকিয়ে স্থবির ঝরা পাতার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ।

এমন একটা সময়ে শ্রাবণী আমার কাছে আসলো । প্রথমে লক্ষ্যই ককরিনি । আমার পাশে বসেছিল ককোন দ্বিধা ছাড়াই । হাতে কদম । জিজ্ঞেস করেছিল, আজ কি বৃষ্টি হবে ?

মেয়েটির চোখে মুখে সরলতা ছিল । তাই সব ভুলে বললাম , হবে ? হলে ভাল হত ।

ভাল হবেনা মোটেও । আচ্ছা আমি তাহলে যাই ।
হাতে কদমগুলো নিয়ে ইতস্ততভাবে তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিল ।

পরদিন আবার দেখা, একই জায়গায়, নতুন কিছু কদম হাতে । এসেই কোন কথা নেই,সরাসরি অভিযোগ, 'কাল বৃষ্টি হয়নি ! '

যেন লজ্জা লাগছিল যেন বৃষ্টি না হওয়াটা আমার অপরাধ !

শ্রাবণীর সাথে আমার পরিচয় নয় দিনের । এর মধ্যে শ্রাবণী আমার পাশে বসেছে, অনেকগুলো বিকেল আমরা পার্কের বেঞ্চিতে কাটিয়েছি । আর শ্রাবণী প্রতিদিন নিয়ে এসেছে কদম ফুল ।

মাথা থেকে হাত সরিয়ে শ্রাবণী কে বললাম, আজকে একটু বলবা ? ওনেকগ চকলেট আছে তোমার জন্য । কিন্তু আগে বলতে হবে ।

শ্রাবণী মাথা না তুলেই জিজ্ঞেস করলো, বলব ? তারপর মাথা আরও নিচু করে দিল ।

'বলে ফেলো না ! '

শ্রাবণী আজকেও কিছু বললো না । ফুচকা শেষ করে আমার হাতে প্লেট ধরিয়ে দিল । তারপর নাকে ধরে একটা টান দিয়ে দৌড় দিল । আমি চেঁচিয়ে বললাম, আরে মেয়ে ! চকলেট তো নিয়ে যাও ! বলতে হবে না কিছু ।

পিতৃহীন পথশিশুর মুখে "বাবা" ডাক শোনার জন্য অপেক্ষায় বসে আছি । এক হাতে কদম আরেক হাতে মায়াকাড়া মেয়েটার খেয়ে যাওয়া ফুচকার প্লেট । অনেকগুলো বিকেল হয়তো আরও অপেক্ষা করতে হবে । হাতে কদম কিংবা অন্য কোন ফুল নিয়ে হাসি মুখে অপেক্ষা করবো । শ্রাবণীই এনে দিবে সেসব ফুল । শ্রাবণ দিনের কদমগুলো বাদল দিনের কদম থেকে ভিন্ন ।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×