অফিস থেকে বের হয়ে একটা সিগারেট ধরায় অপু। প্রায় চারমাস বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাশ্রম দেয়ার পরও মালিক পক্ষের ঘনিষ্ট দু'জন মানুষ যখন তার আগে একটি কলমের খোঁচায় চাকরি পেয়ে যায় তখন সিগারেট টানতে টানতে অপু ভাবে, সব কিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছে। কারণ, তার যোগ্যতা যাই থাকুকনা কেনো, অযোগ্যতা আর মামা চাচার আমল এখনো শেষ হয়নি। এর ব্যতিক্রম ঘটার অর্থ হচ্ছে, দেশে বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু এমন কোন কিছুও অপুর চোখে পড়েনি গত চারমাসে। অপু সিগারেট টানে।
অপু সিগারেট টানতে টানতে সমুদ্রের পাড়ে চলে যায়। এবং নিভু নিভু সূর্যের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকে। অবশ্য এসময় অপুর মুখের ভেতর এদলা কাপড় না পাথর না তুলা কি ছিলো জানা যায় না। তবে মুখটা শক্ত করে বাঁধা ছিলো। এবং দু’হাতের তালুতে ছিলো দু'টো সার্প ব্লেড। অপু দু’হাত মুট করে। তারপরে হাতের তালু বিভৎস ভাবে কেটে জবাই করা গরুর মতো ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। কান্নার শব্দ না শোনা গেলেও চোখ দিয়ে খুব ধীরস্থির ভাবে পানি গড়িয়ে পড়ে। যেমন পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া পানি যখন বিভিন্ন নালাপথ ডিঙিয়ে সমুদ্রে মেশে; সেরকম আরকি। এদিকে নির্বাক এ বিভৎসতা অপুকে অন্য রকম মাদকতা দেয়।
সে যাই হোক, এরই মাঝে কে যেনো পেছন থেকে বলে, এই যে ভাই পাগল হইসেন। পিছন ফিরে অপু দেখে একটা ট্রাক হেড লাইট জ্বালিয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। অপু রাস্তায় ফিরে আসে। অপু আবার ভাবে সবই ঠিকঠাক নিয়মেই চলছে। সে আবার সিগারেট টানতে থাকে। অপুর মতো চৌরাস্তার মোড়ের বেশ্যারাও ভাবে সবই ঠিক আছে। ঠিকঠাক ভাবেই চলছে।
ওদিকে খবরে বের হয়েছে জনৈক সব্যসাচী কবি হাজারো জনতার সমানে বলেছেন, দেশে সুবাতাস বইছে। অপু তাই এই জৈষ্ঠের শেষরাতের সুবাতাস উপভোগ করতে চেষ্টা করছে। আকাশে চাঁদও আছে। তবে পূর্ণিমা নেই আজ।
(০১ জুন ২০১৫, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



