somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শূন্য থেকে শুন্যতা

২৪ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




তখন ২০১০ সাল। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ Admission Test দিয়ে ঢাকা ফিরছিলাম ট্রেন এ। আমার সিটটা ছিল জানালার পাশে। আমার ঠিক Opposite সিটে একটা মেয়ে বসে ছিল। ওর নাম অরিন । অরিনের বাবাও পাশের সিটে ছিল। মেয়েটিও আমার মত Admission Test দিতে আসছিলো

ট্রেন চলছে। মেয়েটি আমার দিকে হঠাত হঠাত তাকাচ্ছে। আমিও। কিছুক্ষন পর মেয়েটি আমাকে বলল, তুমিও কি Admission Test দিতে আসছিলা? মেয়েটির প্রশ্ন শূনে অবাক হলাম দুইটা কারনে, এক, আমার হাতে ফাইল, Admit Card এইগুলা ছিল, তাই ওর বোঝার কথা ছিল যে, আমি Admission Test দিতে আসছি। দুই, প্রথম কথাতেই আমাকে ‘তুমি’ বলে ডাকলো। যাইহোক, আমি বললাম,

আমিঃ হুম। তুমি কোথায় কোচিং করেছ?
মেয়েটিঃ রেটিনাতে। তুমি?
আমিঃ Omeca তে।
মেয়েটিঃ তোমার নাম কি?
আমিঃ আলিম।
মেয়েটিঃ ওহ। আচ্ছা, রনি ভাইয়াকে চিনো? Omeca তে ক্লাস নেয়।
আমিঃ না।
মেয়েটিঃ তোমার দেশের বাড়ি কোথায়?
আমিঃ সিরাজগঞ্জ।
মেয়েটিঃ আমরা তো সিরাজগঞ্জ হয়েই যাবো, তাই না?
আমিঃ হুম।

ট্রেন চলছে। ও আমার সাথে গল্প করেই যাচ্ছে। আমিও। বিরতিহীন গল্প। ওর বাবা ঘুমিয়ে পরছে। মাঝে মাঝে ও আমার কথা শূনে এতো Loudly হেসে উঠতেছে যে, সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ও বিষয়টা খেয়াল করেনি। হয়তো করেও না করার ভান করছে। এই গুনটা সব মেয়েদের আছে। ও আমার সাথে এমনভাবে কথা বলতেছে, যেন, আমাকে অনেক আগে থেকে চিনে।

ট্রেন যমুনা সেতুর উপর উঠলো। রাত তখন ১০ টা বাজবে হয়তো। আমি জানালা দিয়ে আমার মাথাটা বের করলাম। জ্যোৎস্না রাত। পুরো নদীটা চাদের আলোয় চিকচিক করছিল। প্রকৃতির কি অপুরুপ সৌন্দর্য ! আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। একটু পর অরিনও আমার জানালা দিয়েই মুখ বার করলো। আমি আবারো খানিকটা অবাক হলাম, কারন, ও এখন আমার খুব কাছাকাছি। একই জানালা দিয়ে মধ্যরাতে দুজন চাঁদ আর নদী দেখছি। ও কোন কথা বলতেছে না। হয়তো প্রকৃতর রুপের কাছে হার মেনে মন খারাপ হয়ে গেছে। প্রচণ্ড বাতাস লাগছে আমাদের চোখ মুখে। অরিনের চুল বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আমার মুখে এসে লাগছে ওর চুলের ঝাপটা। এইবার ও চাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওর দিকে। চাদের আলোয় একটা মেয়েকে দেখতে এতোটা রূপবতী লাগে জানা ছিল না। কি অদভুত সেই মুহূর্তটা !
আমি বললাম, একটা গান সুনাবে? ও বলল, আজ থাক, অন্য একদিন। আমি বললাম আরে, তোমার সাথে কি আমার আর কোনদিন দেখা হবে নাকি। ও কি যেন বলতে চেয়েও বলল না। খানিক্ষন চুপ থেকে গান ধরল,

আমারও পরানও যাহা চায়,
তুমি তাই, তুমি তাই গো,
আমারও পরানও যাহা চায়...


আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। ওর গান চাঁদ, নদী, সমস্ত প্রকৃতর মাঝে মিশে যাচ্ছিলো। আমি ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। ও গান শেষ করে, আমাকে বলল, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। আমি বললাম কি কথা, বলো। ও বলল, না থাক। ও জানালা থেকে মুখ বের করে সিটে বসে পড়লো। আমি আরও কিছুক্ষন থাকলাম।

আবার দুজন গল্প করতে শুরু করলাম। ওর বাবা ঘুমিয়েই যাচ্ছে। ট্রেন প্রায় এয়ারপোর্ট স্টেশন এ চলে আসছে। একটু পর অরিন নেমে যাবে। বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার করে উঠলো। একটা মেয়ের সাথে পরিচয় মাত্রতো কয়েক ঘণ্টার জন্য। তার জন্য কেন এমন লাগছে? কে জানে ! আল্লাহ্‌ সবকিছু বোঝার ক্ষমতা মানুষকে দেন নাই।

অরিন নেমে যাচ্ছে। অনেক ইচ্ছা করছিল অরিনকে বলতে, তোমার ফোন নাম্বারটা দিবা? বলতে পারিনি। অরিন নেমে যাওয়ার সময় বলল, তুমি এতো ভিতু কেন? আমি কিছু বললাম না।

ট্রেন ছেড়ে দিল। আমি জানালা দিয়ে দেখছি, অরিন ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে!
এখন ২০১৬। অরিনের সাথে আর কোনদিন দেখা হয়নি। অরিন হয়তো কোনদিন জানতেই পারবে না যে, ওকে নিয়ে আমি আজ এতগুলো কথা লিখলাম। আর আমি এখনও ওকে মনে রেখেছি। অরিনের হয়তো আমার কথা মনেই নেই !

অরিন, তুমি কি মেডিকেল এ Chance পেয়েছিলে?
তুমি এখন অনেক বড়ো হয়ে গেছ ,না?
তোমার কি বিয়ে হয়ে গেছে?
ট্রেন এ আমার সাথে জ্যোৎস্না দেখতে তোমার কেমন লেগেছিল?
অরিন, তুমি আমাকে ওইদিন ভিতু বলেছিলে কেন?
আমার নাম কি তোমার মনে আছে?
আচ্ছা অরিন, তুমি সেদিন কি বলতে চেয়েছিলে?

জীবনে কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর কখনই খুজতে নেই !!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×