somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

বন্যা ও মানুষ

১৮ ই জুন, ২০২২ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি: জীবন আহমেদ

“দ্যা গুড, দ্যা ব্যাড অ্যান্ড দ্যা আগলি” সিনেমার মতো মানুষের জীবনটাই এমন । লোভ মানুষকে ধ্বংস করে । এত অর্থবিত্ত আসলেই কিছু নয় । সবকিছুই ভেলকি!

বন্যায় প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে । কোনভাবে নিজের জীবনটা বাঁচিয়ে একটা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, কেউবা ভেসে গেছে । পরনের দুই সেট কাপড়ও হয়তোবা অনেকেই নিতে পারেনি । অথচ একটা সাধারণ বাড়িতেই খাট, আলমারি, ওয়্যারড্রোব, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশনসহ কত দামী জিনিসপত্র থাকে । এছাড়াও ঘরে ড্রামভর্তি চাউল থাকে, সারাবছরের জন্য কিনে রাখা পেঁয়াজ, আদা-রসুন থাকে, কিচেনে সবজি-ফল থাকে, রান্নার সামগ্রী থাকে ।

মানুষ যখন একটা বাসা থেকে অন্য বাসায় শিফট করে তখন রুমের বাল্বটাও খুলে নিয়ে যায়, বাথরুমে ব্যবহার করা চটিটাও নিয়ে যায় নতুন শিফট করা বাসায় ব্যবহার করার জন্য । বন্যা কবলিত মানুষগুলো সেই রুমের লাইট, ফ্রিজ, টিভি, খাট, এসি কোনোকিছুরই পরোয়া করেনি । পরোয়া করেছে শুধুমাত্র নিজ এবং পরিবারের জীবনের । কোনোহালে পরনের লুঙ্গি পড়েই বের হয়ে এসেছে ঘর থেকে । তবুও যেন জীবনটা শুধু বাঁচে!

বন্যাতে কত লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে গেলো । ভেসে গেলো গরু-ছাগল, ঘরের আসবাবপত্র, বিয়ের দিনে তোলা দু’জনের সেই শেরওয়ানী আর শাড়ি পরা ছবিটি, ছেলের বউয়ের জন্য যত্ন করে রাখা হাতের বালাটা, ভেসে গেলো কত মূল্যবান সম্পদগুলো । অথচ একটা অঞ্চলে কত ধনী মানুষ থাকে, দরিদ্র মানুষ থাকে । কত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকে । অথচ সবাই এক নিমিষেই নিঃস্ব হয়ে গেলো ।

বন্যা পরবর্তী সময়ে এই মানুষগুলো কি আগের সেই জীবন ফিরে পান বা পাবেন! যা বন্যায় ভেসে গেছে সেগুলো কি আর ফেরত আসবে? আসবেনা!


ছবি: জীবন আহমেদ

এই দুর্যোগ, দুর্ভোগের সময়গুলোই আসলে আমাদের মানুষ গড়তে শেখায় । নিজের লোভ-লালসা, অহংকার, হালাল-হারাম, ক্ষমতা, আধিপত্য এসব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান শেখায় । মানুষ হিসেবে আমাদের কাজ কি, মানুষের কতটা সাধারণ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, মানবতা এবং নিঃস্বার্থভাবে জীবন অতিবাহিত করা উচিত সেসব শেখায় ।

পরিশেষে আরেকটি কথা, সেই ৬০ লক্ষাধিক মানুষগুলোর মধ্যে এমনও মানুষ ছিল যাঁরা আমার-আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে আছে । তাঁরা তাঁদের বাসার ছাদে ছবি তুলে আপলোড করতো, তাঁদের গ্রামীন পরিবেশের প্রকৃতির ছবি আপলোড করতো, ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পোজ দিয়ে ছবি তুলে সেটা আপলোড করতো ।

ঘরহীন এই ফেসবুক বন্ধুগুলো হয়তোবা আর কখনও সেভাবে ছবি দিতে পারবে কি-না তা নিশ্চিত করে বলা যাবেনা । তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে কি-না সেটাও অজানা ।

এটাই আমাদের জীবন । এটাই স্রষ্টার নিদর্শন । যেই জীবনকে নিয়ে আমরা এত বড়াই করি, অহংকার করি, ক্ষমতার লোভে হানাহানি করি, আধিপত্য বিস্তারের জন্য অন্যকে বলি, ‘তুই আমারে চিনস?’...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৪ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ১৮ জুন ২০২২ ইং | নেত্রকোনা
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২২ রাত ১০:৩৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×