somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিঝুম দ্বীপের নির্ঘণ্টর শেষ গল্প-উল্টো বাইকে ৩২ কিলো......! (অ্যাডভেঞ্চার)

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিঝুম দ্বীপের নিঝুম ও শান্ত ভ্রমণের শেষদিন। সকালে ফেরার পালা, সবাই তোড়জোড় শুরু করলো। আমার মনের ভিতর খানিক খচখচ! কেননা, এবার তেমন কোন এডভেঞ্চার হলনা! আমি একটা ভ্রমণ করবো আর সেই ভ্রমণ এতটুকু এডভেঞ্চার থাকবেনা, সেটা মানতে একটু কষ্ট হচ্ছিল। যাইহোক খুঁজে-খুজেও কোন অ্যাডভেঞ্চার এর উপায় বের করতে না পেরে বাইকের পিছনে চেপে রওনা হলাম।

ট্রলারে উঠে মোক্তারিয়া ঘাট এলাম, এরপর আবার বাইকে উঠলাম। কিন্তু মনের ভিতরের খচখচানিটা রয়েই গেল! এই ভাবনা, সেই ভাবনা, ভাবতে-ভাবতে জাহাজমারা চলে এলাম, এখানে গরম-গরম জলাপি আর চায়ের বিরতি নেয়া হল। জিলাপির অমৃত স্বাদ নিচ্ছি আর ভাবছি, কি করা যায়?

ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ মনে হল, আরে যে রাস্তায় যাব, সেই রাস্তাতো এতোটা ব্যাস্ত না, তেমন বড় বা ভারী যানবাহন ও তো চলেনা, তাহলে বাইকের পিছনে যে বসি, সেই বসাটা উল্টো দিকে ফিরে বসলেই তো একটা বেশ ভালো এডভেঞ্চার হতে পারে?
ভাবনাটা মাথায় আশা মাত্রই শরীরে সমস্ত শিরা উপশিরায় সেই রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেল! প্রতিটি রক্ত বিন্দু এই ভিন্ন ধর্মী রোমাঞ্চের স্বাদ নিতে মরিয়া হয়ে উঠলো! এবার আর আমাকে পায় কে? সুতরাং যে ভাবনা, সেই কাজ, কিন্তু ব্যাগ? ব্যাগের কি হবে, কোথায় রাখবো? এটাতো কাউকে দেয়াও যাবেনা। কারণ, অন্য সবার কাছেই তো তাঁদের ব্যাগ রয়েছে, এই বুদ্ধিও পেয়ে গেলাম! যে ব্যাগটা আমার বুকের সাথে আঁটকে নিয়ে, মানে পিঠের ঠিক উল্টো পাশে নিয়ে নেব, বেশ নিশ্চিন্ত হলাম। আর সেই আনন্দে আরও একপিচ জিলাপি খেয়ে নিলাম!

সবাই যে যার ব্যাগ কাঁধে তুলছে, আর আমি আমার ব্যাগ বুকে তুলছি! সবাই-ই একটু অবাক হলো, কি ব্যাপার? “ব্যাগ পিঠের পরিবর্তে বুকে কেন ভাই?” “একটু পরেই দেখবেন, কেন?” সবাই যে যার বাইকে উঠে গেল। আমি একটু শেষে যেহেতু একদমই নতুন একটা অ্যাডভেঞ্চার, কিছুটা অসস্থিতো লাগছিলই।

যাই হোক উঠে পড়লাম পিঠ বাইক চালকের পিঠের সাথে মিশিয়ে দিয়ে আর ব্যাগ বুকের সাথে বেঁধে রেখে! কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল যখনই বাইক কোন বাঁক নেয়, তখনই আমি পরে যাই-যাই অবস্থা, বুকের ভেতর বেশ একটা ধড়ফড়ে ভাব শুরু হল! আর ভাবছি, পারবো তো?
আবার যেহেতু গ্রামের ইট ও মাটির রাস্তা (ফেরার রাস্তাটা বাইক চালকেরা সর্টকার্ট করে ফেলেছিল) সেহেতু বেশ উঁচু-নিচু আর কিছুটা প্যাচপ্যাচে কাঁদাও ছিল! তাই মাঝে মাঝেই এতো বেশী ঝাঁকুনি লাগছিল যে পরে যাই-যাই অবস্থা! আবার ব্যাগটাও ঠিক সেট হচ্ছিলোনা বুকের সাথে! আসলে মানসিক ভাবে তখনো শক্ত হতে পারিনি! তাই সিটের পিছনে সামান্ন বেরিয়ে থাকা স্টিলের রডই ছিল প্রাথমিক ভরসা! এভাবে ১৫ মিনিট চলার পরে, কিছুটা ভারসাম্য হলাম, বাইকের বাঁক, উঁচু-নিচুর ঝাকি আর ব্যাগের এদিক-সেদিক সরে যাওয়া থেকে।

ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারটা ছিল এই রকম... বাইক যদি ডানে মোড় নেয় তো আমাকে বামে ঝুঁকতে হত, আর বাইক যদি বামে মোড় নেয় তো আমাকে ডানে! আর উঁচু-নিচুর এবং বিপরীত মুখী কোন বড় যান এলে সতর্কতা মূলক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টা ছিল একটু অন্য রকম... সেটা হল আমার বাইকের পিছনে সব সময় আর একটা বাইককে রাখা, যেন তারা আমাকে আগে থেকেই সংকেত দেয়!

তো যেহেতু আমাদের পাঁচটা বাইক আছে, সেহেতু পালা করে কেউনা কেউ আমার বাইকের পিছনে ছিল সব সময়-ই! আর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন উঁচু-নিচু বা অন্য বড় কোন যান আসতো সাবধান হয়ে যেতাম, কিছুটা আড়ষ্টও! এভাবে চলতে চলতে প্রায় এসে গেছি, চালককে জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাই কত কিলো এলাম, আর কত কিলো বাকি আছে?” এইতো আর পাঁচ কিলো বাকি আছে, আর প্রায় ২৫-২৭ কিলো আসছি।

এবার কোমর ধরে গেছে, আর ভালো লাগছেনা, এবার একটু সোজা হয়ে আরাম করে আয়েশে যাই! যে কারণে, বাইক চলন্ত অবস্থায়-ই সোজা হতে উদ্ধত হলাম, কিন্তু এ যাত্রা সবাই নিষেধ করলো, কারণ চলন্ত অবস্থায় পুরো দিক পরিবর্তন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ আর কষ্টকর আরও যদি হয় বাইকে উঠার ক্ষেত্রেই আনকোরা! তো কথাই নেই। কিন্তু না, আমি এই চলন্ত বাইকেই দিক ঘুরবো এবং ব্যাগও পিঠে নেব! যে কারণে চালককে শুধু বলা হল যে আপনি গতি একই রাখেন, শুধু উঁচু-নিচুটা একটু এড়িয়ে চলেন।

এবার শুরু হলো, নতুন যুদ্ধ! এক পা ঘুরিয়েছি তো অন্য পা আর ওঠেনা! কারণ কি? জুতোর বেল্টে কোথাও আঁটকে গেছে! এখন ছাড়াবো কিভাবে, বুকেতো ব্যাগ! সবাই এই বিষয়টা বাদ দিতে বলল, কিন্তু আমি দেবনা! যে কারণে বেশ ঝুঁকি নিয়েই, ব্যাগ খুলে মাথার উপরে ধরে, জুতোর বেল্ট ছাড়িয়ে, দিক ঘুরে সোজা হয়ে গেলাম, আর ব্যাগ মাথার উপর থেকে পিঠে রাখার সময় একদম পরে গেছিলাম বলে! পরলেও তেমন অসুবিধা হইতনা, কারণ পাশেই বেশ নরম কাঁদা যুক্ত ধান খেত আর অন্য পাশে টলটলে জলের পুকুর! সুতরাং একটু আধটু কাটা-ছেড়া বা ব্যাথা পাওয়া ছাড়া বড় ক্ষতির সম্ভবনা কমছিল!

যাইহোক, অবশেষে কোন রকম ঝামেলা বা দুর্ঘটনা ছাড়াই পৌঁছে গেলাম, হাতিয়া লঞ্চঘাটে আর সেই সাথে শেষ হল,

আমাদের নিঝুম দ্বীপের সার্থক ও স্মরণীয় নির্ঘণ্ট......!!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৩৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×