somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

দেশে চলছে তীব্র গৃহ কর্মী সংকট । কল কারখানাগুলোতে কাজ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না । মানুষ পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছে ভিক্ষা আর রিকসা চালনা

২০ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে মধ্যম আয়ের দেশে উঠে এসেছে এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয় । চারিদিকে তাকালেই এই উন্নতির চিত্র চোখে পরে । বিদেশিরা বা দাতারাও আমাদের প্রশংসা করতে বাধ্য হচ্ছে । অর্থনৈতিক উন্নয়নের জোয়ার শহর ছাড়িয়ে গ্রামে গঞ্জেও পৌঁছে গেছে । আগে পুরো গ্রামে ছিল একটি দালান বাড়ি দু চারটে টিনের ঘর । আর এখন সে চিত্র পাল্টে গিয়ে অগুনিত দালান কোঠা আর টিনের ঘরে ভরে গেছে গ্রাম । এটি মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র বলেই গণ্য করা যায় । মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিনোদনের জন্য ও মানুষ অর্থ কড়ি খরচ করছে ।

গ্রাম আর গ্রাম নেই । গ্রামে লেগেছে শহরের ছোঁয়া । ঘরে ঘরে শোভা পাচ্ছে টেলিভিশন । নাটক সিনেমায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পরেছে । দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হলিউড,বলিউড এর ছবি চলছে গ্রাম গঞ্জে । বিড়ির চল উঠে গিয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন ব্রান্ডের দেশি বিদেশি টোবাকো আর পানিয় । সবই যে হচ্ছে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে সকলের অজান্তেই একটি নীরব পরিবর্তন ঘটে চলেছে । বিষয়টি নিয়ে কেউ ভাবছে কিনা বলতে পারবো না । বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্যই আমার এই দীর্ঘ ভূমিকার অবতারণা ।

অর্থনৈতিক এই উন্নয়নের ফলে মানুষ কর্ম বিমুখে হয়ে পরছে । ধীরে ধীরে ঝুঁকে পরছে কি করে অল্প পরিশ্রমে বেশি আয় করা যায় সেই দিকে। যেহেতু মানুষের আয় এবং খরচ এর পরিমাণ বেড়ে গেছে সেই সুযোগটাই সবাই ব্যবহার করছে । চলুন একটু ব্যাখ্যা করে দেখা যাক ।

লাজ্জাতুল নামের আমার এক পরিচিতা স্কুল শিক্ষিকা তার বাসায় গৃহ কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন যার মাসিক বেতন খাওয়া দাওয়াসহ ধরা হয়েছে "দশ হাজার টাকা" । টাকার অঙ্ক শুনে অনেকে হয়তো অবাক হচ্ছেন ? আমিও অবাক হয়েছিলাম । যেখানে এখনও অফিস আদালতে চাকরী করা অনেক মানুষের মাসিক আয় এর চেয়ে কম বা কিছু বেশি । সেখানে একজন গৃহ কর্মীর জন্য দশ হাজার টাকা একটু বেশিই বৈই কি । এমন নয় যে, ঐ বাসায় অনেক লোক, অনেক কাজ । বাসায় লাজ্জাতুলের অসুস্থ শাশুড়ি,হ্যাজবেন্ড এক ছেলে, এক মেয়ে । মোটা মানুষের সংখ্যা পাঁচ জন ।
যে গৃহ কর্মী রাখা হয়েছে সে সকাল থেকে ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত কাজ করবে । তার কাজের মধ্যে রয়েছে মূলত অসুস্থ শাশুড়িকে দেখাশোনা করা,কাপড় চোপর ধোওয়া,রান্না করা । লাজ্জাতুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজের লোক না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই এই গৃহ কর্মীকে নিয়োগ দিতে হয়েছে ।

একটু খোজ খবর নিয়ে বুঝতে পারলাম । ঢাকা শহরে আসলেই তীব্র গৃহ কর্মীর সংকট চলছে । বাসা বাড়িতে কাজ করার মতো লোক পাওয়া যাচ্ছে না বলা চলে । যারা কাজ করছে তাদের ও ডিমান্ড অনেক বেশি । বিনোদনের সকল উপকরণ দেখার সুবিধা, সেই সঙ্গে স্নো, পাউডার,লিপিষ্টিক পর্যন্ত তাদের কিনে দিতে হয় ।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সকল কিছু ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির ফলেই বাসা বাড়িতে কাজ করার লোক কমে গেছে । গ্রামের লোকজন শহর মুখো হলেও মেয়েরা বেছে নিচ্ছে গার্মেন্টস আর পুরুষেরা বেশে নিচ্ছে রিকসা । রিকসা একটু পরিশ্রমের কাজ হলেও অল্প পরিশ্রমে বেশি আয় করা যাচ্ছে । এ কারণেই ঢাকা শহরে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রিকসার সংখ্যা । বিভিন্ন ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রিকসার মালিকেরা নামে, বেনামে দশ,বারোটা,বিশটা করে রিকসা নামিয়ে দিচ্ছে শহরের রাস্তায় । চালাবার লোকের অভাব নেই । গ্রাম থেকে মানুষ আসছে । রিকসা নিয়ে নেমে যাচ্ছে । তিন মাস পর পর গ্রামে গিয়ে ঠাট ভাট করে,বাবু সেজে সেই টাকা খরচ করে আসছে ।

নগদ টাকা পাওয়া যায় বলে কৃষিকাজ বা অন্য কোন পেশা থেকে এই পেশাটাই মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে । নগদ টাকা আর কারো অধীনে থাকতে হয় না বলে গ্রামের মানুষ শহরে এসে রিকসাই বেছে নিচ্ছে । ফলে গ্রামেও চলছে কাজ করার লোকের অভাব । ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ বা অন্য কোন কাজের জন্য লোক পাওয়া দুস্কর হয়ে পরেছে । কল-কারখানায় কাজ করার মানুষের সংখ্যাও কমছে দ্রুত হারে । অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কল-কারখানা শ্রমিকের অভাবে ।

রিকসার ভাড়ার ব্যাপারে কোন নিয়ম নীতি না থাকায় রিকশা চালকের যে যার মতো ভাড়া আদায় করছে । অদক্ষ এই সকল চালকদের জন্য প্রতিদিন শহরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে । ঢাকা শররের বর্তমান জ্যাম এর কারণ হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত রিকশা । এই রিকশা চালকেরাই শারীরিক ভাবে রিকসা চালাতে অক্ষম হয়ে পরলে তখন পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছে ভিক্ষা । একটু বয়স্ক মহিলা,পুরুষ বা অলস প্রকৃতির মানুষ পেশা বেছে নিচ্ছে সেটা হচ্ছে, ভিক্ষা বৃত্তি ।
এই কারণে ঢাকাসহ অন্যান্য নগরীতে এখন ভিক্ষুকের সংখ্যা চোখে পরার মতো । দিনকে দিন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে ভিক্ষুক আর ভবঘুরে লোকের সংখ্যা । উপরের দুটি পেশার মতো এটিও বিনা পুঁজিতে করা যায় । সরকার বেশ কয়েকবার নগরীগুলোকে ভিক্ষুক মুক্ত করার চেষ্টা করলেও সে প্রচেষ্টা কাজে লাগেনি ।

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, বিদেশে গৃহ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজার হাজার লোকের সারা পেলেও দেশে মানুষ গৃহ কর্মী বা কল-কারখানার শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে । অথচ মালয়েশিয়া, সৌদি গিয়ে তারা যে অমানুষিক পরিশ্রম করছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না ।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ধরে রাখতে হলে চাই যোগ্য কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা । তা না হলে যোগ্য ও দক্ষ লোকের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মুখ থুবরে পরতে পারে । মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে । মানুষ এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে । বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে এটাই সকলের কাম্য । আমার মনে হয়, সরকারের এখনই এ বিষয়ে ভাবে চিন্তে পরিকল্পনা করার সময় এসেছে । তা না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জোয়ারে মানুষের নৈতিক উন্নয়নের জোয়ার বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×