somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা ছেলের গল্প বলবো,.,,,,, একদম বাস্তব জীবনের গল্প!

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটার জন্ম হয় প্রচন্ড অভাবের এক সংসারে। ১৯৮৪ সালে পেটের দায়ে ছেলেটার বাবা পরিবার নিয়ে চলে আসেন ঢাকার সামান্য বাইরে “ধামালকোট” নামক বস্তিতে। বাবা কখনো ট্যাক্সি চালাতেন, কখনো বা চালাতেন অটোরিকশা। এভাবেই কাটছিল দিনগুলো। বস্তির ঐ জায়গাটা ভালো ছিল না। এর মাঝেই বড় হচ্ছিল ছেলেটা। বাবা-মা খুব দুশ্চিন্তায় থাকতো, ছেলেটা বখে না যায়। না, ছেলেটা বখে যায় নি! দেখতে দেখতে স্কুলে ভর্তি হলো সে। ছেলেটা তখন ক্লাস টুতে পড়ে। পাশের বাড়ির এক ছেলের সাথে একদিন চুপি চুপি চলে যায় ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে। ধামালকোটের বস্তি থেকে মাইলখানেক দূরে ছিল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা গলফ খেলতো, আর ছেলেটা বল কুড়িয়ে আনতো। দিন শেষে ৩০ টাকার মত পেতো সে। এইভাবে বল কুড়াতে কুড়াতেই সে ঢুকে যায় অন্য এক জগতে! ছেলেটার ছিল গলফ খেলার প্রতি তীব্র
ভালোবাসা। একদিন বাসায় গিয়ে সে চিন্তা করতে থাকলো, কীভাবে গলফখেলা যায় ? গলফ তো বড় লোকের খেলা। তারাতো দামি জুতা, দামি গলফ খেলার সরঞ্জাম- কিছুই নেই। ছেলেটা হাল ছাড়ে না। লোহা
লক্কড়ের দোকানে গিয়ে রড দিয়ে গলফ খেলার স্টিক বা ক্লাব এর মত বানিয়ে ফেলে সে। ছেলেটা পড়াশুনা চালাতে থাকে, পেটের দায়ে গলফারদের সরঞ্জামও টানতে থাকে আর লোহার রডের সেই ক্লাব দিয়ে গলফ খেলতে খেলতে নিজের স্বপ্নের পিছুও ছুটতে থাকে। সেদিন স্কুল থেকে এসে গলফ ক্লাবে দৌড়াচ্ছিলো সে। মা বললো, “বাবা! ঘরে তো খাওন কিছু নাই !!” ছেলেটা একটুও মন খারাপ করলো না। বললো, “সমস্যা নাই, আম্মা” এভাবেই ছেলেটার স্বপ্ন পূরনের দিন চলে আসলো। তার কঠোর অনুশীলন ও প্রবল আগ্রহ দেখে বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন থেকে গলফ খেলার সুযোগ দেয়া হলো। সবাইকে সকাল ৮ টায় চলে আসতে বলা হতো। কেউ ৯টায় আসতো, কেউবা ১০ টায় আসতো। কিন্তু ছেলেটা সাড়ে ৭ টায় এসে বসে থাকতো। স্বপ্ন ছুঁতে হবে না তার ? এর পরের কাহিনীটা সবারই কমবেশ জানা। একটার পর একটা শিরোপা জিততে থাকলো ছেলেটা। ১২ টার মত অপেশাদার টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে ফেললো ছেলেটা !! ২০১০ সালের আগস্টের ১ তারিখ ইতিহাস গড়ে ফেললো ছেলেটা। প্রথমবারের মত এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকা তুলে
ধরলো ছেলেটা। ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর আবারো আরেকটা ইতিহাস গড়ল ছেলেটা। জিতে গেলো ইন্ডিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন। সবাইকে পিছনে ফেলে এই লাল সবুজ পতাকাটা উপরে তুলে ধরলো। ছেলেটার নাম ‘সিদ্দিকুর রহমান’ বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট দেশটাকে সারা বিশ্বে হেয় করা হয় গরীব দেশ কিংবা অভাবের দেশ বলে । আমরা গরীব আমাদের অনেক
অভাব আছে। এত অভাবের মধ্যেও আমাদের মাঝে দুইটা জিনিসের অভাব নেই। একটা হলো আবেগ আরেকটা হলো স্বপ্ন ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছা ।সেদিনের ঐ দরিদ্র ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের আজকে কোন অভাব নেই। এরকম কয়েকটা সোনার টুকরা ছেলে থাকলে আমাদের দেশে আসলেই আর কোন অভাব থাকবে না । এই সিদ্দিকুর রহমান শুধুমাত্র একজন খেলোয়ার নয়। সে হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরনাও। আমি নিশ্চিত, সিদ্দিক ভাইয়ের জীবনের গল্প পড়ার পর অনেক হতাশ হয়ে যাওয়া মানুষও আবার নতুন করে স্বপ্নের পিছু ছুটবে !!
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×