somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

রাঙ্গা পাতার দেশে

২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাল বেশ খানিকটা সময় পেলাম দুপুরের পর। ঘরে বসে ভালোলাগল না বেরিয়ে পরলাম বাড়ির কাছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। সে বেড়িয়ে পরা আমাকে হাঁটিয়ে নিল আপ ডাউনে পাঁচ পাঁচ দশ কিলোমিটার। অনেকদিন পর অনেকটা লম্বা পথ হাঁটলাম। পাহাড়ি চড়াই বেয়ে উঠা নামার মাঝে হাফ ধরে যাচ্ছিল। কখনো মনে হলো অনেকদিন আগের চীনের প্রাচিরে হাঁটার মতন লম্বা পথ ধরে হাঁটছি যেন।
পার্কে পৌঁছে দেখলাম আমি একা না। আমার মতন বোহেমিয়ান আরো বেশ কিছু আছে। কেউ ফিরছে কেউ আসছে। কারো সাথে মিলে মিশে এক সাথেই চলছিল পথ চলা।
গাছপালার ভিতর দিয়ে আঁকাবাঁকা হাঁটা পথ চলে গেছে একটি ছোট্টো জলপ্রপাতের কাছে। সেই জলপ্রপাত ধরতে পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত হাঁটা। হাঁটা পথে অনেক শুঁয়োপোকা দেখলাম গাড় খয়েরি এবং কালোর মিশেলে। আমি দুচারটাকে না মাড়িয়ে চলতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু অনেকগুলো চিরে চ্যাপ্টা হয়ে আছে মানুষের হাঁটার পথে এসে। এই ঝর্ণা কাছে এসে গেলো ভাবছি কিন্তু তার কাছে কিছুতেই পৌঁছানো হচ্ছে না। শুধু সুরের মূর্ছনা শুনতে পাচ্ছি বনের মর্মরের সাথে।


তার সাথে দেখা হওয়ার পর িফরার পথে উপরে উঠতে টের পেলাম পাহাড়ে চড়ার কষ্ট। অনেকটা সময় নিয়ে ধীর পায়ে চলতে হলো উপরে উঠে অাসেত ।



রাতের তুমুল বৃষ্টি শেষে ভেজা বুনোঘ্রাণ উজ্জ্বল রোদের আলোয় মনমাতানো সময় ছিল।
গাছের রঙিন পাতার ভিতর দিয়ে পাহাড়ি উঁচু নিচু ট্রেইল ধরে হাঁটতে মন্দ লাগছিল না। কাল উষ্ণতাও ছিল বেশ ।
কোথাও শান্ত জলে পদ্মপাতার স্থির ভেসে থাকা । কোথাও পাতার মর্মর ধ্বনী। কোথাও রোদের আলোর উজ্জ্বলতা তো কোথাও ছায়া গম্ভীর ঘন অন্ধকার। পাইনের সারি তো পপলারের ডালের দোল খাওয়া।
ঝরে পরা জলের শব্দ আর কাকের ডাকের সাথে মিশে ছিল কাটবেড়ালি আর চিপমাঙ্কের ছুটাছুটির শব্দ। মিলে মিশে বেশ আনন্দময় বনভূমি। এখানে অনেক পার্ক ন্যাচারেল ভাবে বাড়তে দেয়া হয়, গাছ তৃণ, গুল্ম সেভাবে বেড়ে উঠে বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে বনভূমি আপন ভঙ্গিমায়। নতুন কোন লতাপাতার দেখা পেলাম না। যাদের সাথে দেখা হলো সবার সাথে আমার নিত্য বসবাস। ভীষণ চেনা তাই পাহাড়ি চড়াই উতরাই পেরুনা ছাড়া তেমন বৈচিত্র ছিল না। তবু অনেকটা হাঁটার সুখ পেল শরীর। বাতাস এবং পাতার শেষ ঘ্রাণ টেনে আলোকিত হলাম।


আপনমনে হাঁটতে হাঁটতে গান করছিলাম গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গা মাটির পথ। কিন্তু মনে হলো রাঙ্গা মাটি নয় হবে রাঙ্গা পাতার বনভূমি।দুপুর যখন বিকাল হয়ে গেলা সূর্যের মুখােমুখি চলেত হচ্ছিল। মুখ চোখ কুচকে উঠে সূর্যের প্রখরতায় সরাসরি মুখের উপর অালো পড়ায়।



ফিরার পথে কাছেই একটা গলফ ক্লাবে ঢু মারলাম। একদম আদি অকৃত্তিম থেকে চূড়ান্ত সাজানো এবং ভীষণ ধনীদের খেলার এই গলফ ক্লাবের বিশাল চত্তর একটি গাছের পাতাও অযত্নে অবহেলায় কোথাও পড়ে নাই। ঘরের চেয়ে বেশি সাজানো এর প্রতিটি ইঞ্চি। আরো বিস্তৃত হচ্ছে কর্মযজ্ঞ চলছে অনেকটা জায়গা জুড়ে।



হুসহাস দামীদামী গাড়ি চালিয়ে আসছে যাচ্ছে সদস্যরা। ছোটছোট গাড়ি নিয়ে সব যত্নে রক্ষা করছে কর্মিরা। তার মাঝে চক্কর দিলাম কয়েকবার আমি গাড়ি নিয়ে। রেস্টুরেন্টে ঢুকে পরলাম খাবার খেতে। তেমন বৈচিত্র কিছু পেলাম না। দামের ব্যাতিক্রম ছাড়া। সূর্যটা লাল হয়ে উঠেছে। আলো ছড়িয়ে রক্তিম করে তুলেছে পৃথিবী। লাল পাতার বনে মনে হয় আগুন লেগে গেছে। সোনা বরণ রূপ ঠিকরে পরছে।



দারুণ সুন্দর একটা সন্ধ্যা নামছে। সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে তার আলো ফুরানোর আগেই বাড়ি পৌছাব ভেবে পথে নামলাম। সারা সময় আকাশের নানা রঙ দৃষ্টি নন্দন হয়ে মন ভোলানোর খেলা খেলল আমার সাথে।



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৪:৩৭
১২টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×