somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনিয়তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট।

০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাত্র নং অধ্যয়নং তপ।ছাত্র জীবন অধ্যয়নের জন্যই। আর অধ্যয়ন কেবল পুস্তকের বিষয় হবে কেন? পুস্তকের বিষয় অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে তারা অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ করে একজন সচেতন নাগরিক হতে গিয়ে যে জ্ঞান অর্জন দরকার তাও আহরণ করবে। মূল বিষয় অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে তারা ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, কুটনীতি সব বিষয় চর্চা করবে- এটাই তো স্বাভাবিক। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নিয়ে একজন সুনাগরিক হতে পারবে কি? রাজনীতি চর্চা একটি নাগরিক অধিকার-একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। ছাত্রদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন? তবে সে রাজনীতি চর্চা হবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি চর্চা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টা মুক্তবুদ্ধির চর্চা নয়-বা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি চর্চা নয়। গণতন্ত্রই যদি আমাদের মূল লক্ষ্য হয়-তাহলে অস্ত্র ধরা কেন? অস্ত্র পরিহার করেই রাজনীতির চর্চা করতে হবে। ছাত্রদের সে পথেই চালিত করতে হবে-সন্ত্রাস পরিহারে উৎসাহিত করতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার জন্য দায়ী কে? এজন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী তো শাসক দল। কারণ, ক্ষমতার জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দেয় তো শাসক দল। শাসক দলের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের মানসিকতা থেকেই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং শাক দিয়ে মাছ ঢাকবার অপচেষ্টা থেকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বিরত থাকুন। নইলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। ছাত্র আন্দোলন ঠেকাবার জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দুরভিসন্ধি স্বৈরতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক মানসিকতা প্রসূত। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই এর মূল লক্ষ্য। তাই একথা বললে অত্যুক্তি করা হবে না যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া পরোক্ষ সরকারী নীল নকশারই অংশ বিশেষ। দেশের জনগণ সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন দেখতে চায়। দেখতে চায়, ছাত্ররা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করুক-সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির চর্চা করুক। জনগণ পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস দেখতে চায় না। অথচ পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ দিয়ে ছাত্রদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। লেখাপড়ার প্রতি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মেধাবী ছাত্রদের বঞ্চিত, নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। জনগণ এ অবসান দেখতে চায় না।
শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সন্ত্রাস দূর করা। ক্ষমতা পাবার পর তাঁর দলের লেজুড় ছাত্র সংগঠন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অশান্ত করে রেখেছে। শেখ হাসিনা কি পারবেন তার দলের সন্ত্রাসীদের দেখা মাত্র গুলি করতে? বরং প্রধানমন্ত্রী যদি একথা বলতেন, যারা সন্ত্রাসীদের লালন করে, পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তাদেরকে দেখামাত্র গুলি করা হবে তবে হয়ত সন্ত্রাস দূর হত। তিনি জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হতেন। কিন্তু ক্ষমতার স্বার্থেই শেখ হাসিনা তা করবেন না। কেননা, ছাত্র রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করার কিংবা শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস মুক্ত করার লক্ষ্য তার সরকারের নয়। মুখে যা-ই বলুন, ক্ষমতায় আসতে এবং ক্ষমতায় থাকতে ছাত্রদের ব্যবহার করা একান্ত প্রয়োজন। সুতরাং ছাত্রদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা হবে সহিংসতার কাজে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশের অসত্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:২২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×