ছাত্র নং অধ্যয়নং তপ।ছাত্র জীবন অধ্যয়নের জন্যই। আর অধ্যয়ন কেবল পুস্তকের বিষয় হবে কেন? পুস্তকের বিষয় অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে তারা অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ করে একজন সচেতন নাগরিক হতে গিয়ে যে জ্ঞান অর্জন দরকার তাও আহরণ করবে। মূল বিষয় অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে তারা ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, কুটনীতি সব বিষয় চর্চা করবে- এটাই তো স্বাভাবিক। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নিয়ে একজন সুনাগরিক হতে পারবে কি? রাজনীতি চর্চা একটি নাগরিক অধিকার-একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। ছাত্রদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন? তবে সে রাজনীতি চর্চা হবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি চর্চা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টা মুক্তবুদ্ধির চর্চা নয়-বা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি চর্চা নয়। গণতন্ত্রই যদি আমাদের মূল লক্ষ্য হয়-তাহলে অস্ত্র ধরা কেন? অস্ত্র পরিহার করেই রাজনীতির চর্চা করতে হবে। ছাত্রদের সে পথেই চালিত করতে হবে-সন্ত্রাস পরিহারে উৎসাহিত করতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার জন্য দায়ী কে? এজন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী তো শাসক দল। কারণ, ক্ষমতার জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দেয় তো শাসক দল। শাসক দলের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের মানসিকতা থেকেই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং শাক দিয়ে মাছ ঢাকবার অপচেষ্টা থেকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বিরত থাকুন। নইলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। ছাত্র আন্দোলন ঠেকাবার জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দুরভিসন্ধি স্বৈরতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক মানসিকতা প্রসূত। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই এর মূল লক্ষ্য। তাই একথা বললে অত্যুক্তি করা হবে না যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া পরোক্ষ সরকারী নীল নকশারই অংশ বিশেষ। দেশের জনগণ সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন দেখতে চায়। দেখতে চায়, ছাত্ররা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করুক-সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির চর্চা করুক। জনগণ পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস দেখতে চায় না। অথচ পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ দিয়ে ছাত্রদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। লেখাপড়ার প্রতি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মেধাবী ছাত্রদের বঞ্চিত, নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। জনগণ এ অবসান দেখতে চায় না।
শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সন্ত্রাস দূর করা। ক্ষমতা পাবার পর তাঁর দলের লেজুড় ছাত্র সংগঠন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অশান্ত করে রেখেছে। শেখ হাসিনা কি পারবেন তার দলের সন্ত্রাসীদের দেখা মাত্র গুলি করতে? বরং প্রধানমন্ত্রী যদি একথা বলতেন, যারা সন্ত্রাসীদের লালন করে, পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তাদেরকে দেখামাত্র গুলি করা হবে তবে হয়ত সন্ত্রাস দূর হত। তিনি জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হতেন। কিন্তু ক্ষমতার স্বার্থেই শেখ হাসিনা তা করবেন না। কেননা, ছাত্র রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করার কিংবা শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস মুক্ত করার লক্ষ্য তার সরকারের নয়। মুখে যা-ই বলুন, ক্ষমতায় আসতে এবং ক্ষমতায় থাকতে ছাত্রদের ব্যবহার করা একান্ত প্রয়োজন। সুতরাং ছাত্রদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা হবে সহিংসতার কাজে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশের অসত্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

