অছাত্র আর মেয়াদ উত্তর্ণী কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহীর ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী মহানগরী, এবং রাজশাহী জেলা শাখার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নেতা-কর্মীরা কেউ কারো আনুগত্য স্বীকার করছে না। ফলে নির্বাচনত্তর সময়ে দলীয় কোন্দল আর লাগামহীন নিয়ন্ত্রণের কারণে ছাত্রলীগের দৌড়াত্ব বা সহিংসতা রাজশাহীর প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে এখন তুঙ্গে। ছাত্রলীগের এহেন হিংসাত্বক কর্মকান্ডের কারণে অচল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর শিক্ষা ব্যবস্থা। নিজ দলের বিভিন্ন গ্র“প এবং অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর প্রধান প্রধান সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠিানের প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের অপরাজনীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অতি উৎসাহী দলীয় নেতাকর্মীরা কেউ যেন কারো কথা শুনতে নারাজ। ছাত্রলীগের এসব নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই মুল সংগঠন আওয়ামী লীগসহ সাধারণ মানুষের আস্থা হারাতে বসেছে। এর কারণ হিসেবে রাজশাহীর অভিবাবক মহল কমিটিগুলোতে অছাত্রদের প্রাধান্যকেই দায়ি করছে। তারা মনে করছেন গত নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইতিবাচক ভুমিকা দেখিয়ে আসলেও বর্তমানে তারা লাগামহীন অবস্থায় চলছে। দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা শিক্ষা নগরী রাজশাহীকে নতুন করে আতংকের নগরীতে রুপ দিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালের ১৯ জুন। ইব্রাহীম হোসেন মুন এবং আয়েন উদ্দিনকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে কমিটিতে নির্বাচিত সদস্যদের মাত্র ১৩ থেকে ১৫জন ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে বলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এদিকে ক্যাম্পাসে অবস্থানকৃত নেতাদের বেশির ভাগরই ছাত্রত্ব নেই বলেও কর্মীদের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে। কর্মীরা বলছেন, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ন সম্পাদকসহ গুরত্বপূর্ণ পদের অধিকারীদের ছাত্রত্ব বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন মুনের ছাত্রত্বও শেষ হয়ে গেছে প্রায় ৫ বছর আগে। এ অবস্থায় নতুন কমিটির দাবি করে সাধারণ কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। কর্মীদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এ দাবি জোরালো করছে দীপায়ন সরকার দ্বীপ। দ্বীপ ২০০৭ সালের ২২ আগষ্ট ছাত্র বিক্ষোভ মামলার অন্যতম আসামী ছিলেন। ওই মামলায় জেলেও খেঁটেছেন তিনি। কর্মীদের একটি বড় অংশ তার ব্যানারে কাজ করে আসছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কর্মীরা কমিটি গ্র“পের বাইরে থেকে কার্যক্রম চালালে সেই সময় মহানগর নেতৃবিন্দু অতিদ্রুত কমিটি দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে সংগঠনের ব্যানারে একত্রিত করতে সমর্থন হন। পরে কমিটি না দিলে কর্মীরা সভাপতি মুন ও সাধারণ সম্পাদক আয়েনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে নিজেরা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রেও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো অনতিবিলম্বে কমিটি গঠনের প্রতিশ্র“তি দিয়ে সংগঠনের উপর মহল বিষয়টি সমাধান করেন। তাই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে বড় রকমের দ্বন্দ্বের রুপ নিচ্ছে। অন্যদিকে কমিটি, কর্মী আর স্থানীয় গ্র“পের দলাদলিতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কার্যক্রম দিন দিন বিতর্কিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মহা বিজয়ের পর ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্র“প সক্রিয় হয়ে উঠছে। গ্র“পগুলোতে নব্য ছাত্রলীগ কর্মীদের যোগদানের হিড়িক লেগে গেছে। চারদলের আমলে যারা সুবিধা নেয়ার জন্য অন্যদলে ছিলো তারাই গ্র“পগুলোতে প্রাধান্য বিস্তার করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আর তাদের অতিৎসাহী মনোভাবের কারণেই ক্যাম্পাসে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকদের অনেকে এই অবস্থার জন্য অছাত্র আর বহিরাগতদের দ্বারা সংগঠন পরিচালিত হওয়াকেই দায়ি করে আসছেন। একই কারণে দলের ভেতরের কোন্দল যেমন প্রকট আকার ধারণ করছে তেমনি অন্য সংগঠনগুলোর সাথেও গ্র“প ভিত্তিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনের পর তারা ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে করে মরিয়া হয়ে উঠছে। স¤প্রতি ক্যাম্পাসের অন্যতম সংগঠন শিবিরের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মেধাবী ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান নোমানী নিহত সহ এবং এই সংঘর্ষের জের ধরে ক্যাম্পাস অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়ায় ছাত্রলীগ সাধারণ ছাত্রদের কাছে ইমেজ সংকটে পড়েছে। এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারুপ করায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের মধ্যকার কোন্দল জোরালো হয়ে উঠছে। রাবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের রোষানল থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষক-সাংবাদিকরাও। প্রতিটি মারপিটের সময় আহতের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ মানিব্যাগ ছিনতাই করা হচ্ছে। এইসব কর্মকান্ডে সাধারণ ছাত্ররাও আতংকের মধ্যে রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

