রাজশাহী মহানগরী শাখা
অত্যান্ত বৈরী পরিবেশে ২০০৩ সালের ২৯ জুলাই এই শাখার সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল মমিনকে সভাপতি এবং জেডু সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট্য তালিকা তৈরী করে প্রাথমিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ত্যাগী কর্মীরা স্থান পায়নি বিধায় কেন্দ্রীয় কমিটি আট মাস পর আবারো পূর্বের তালিকা বহাল রেখে ১৩১ সদস্য বিশিষ্ট্য নতুন তালিকা করে চুড়ান্ত কমিটি গঠন করে। ১৩১ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটিতে বর্তমানে কয়জন ছাত্র রয়েছে কমিটির কোন নেতাই তা হলফ করে বলতে পারে না। জানা গেছে, এই কমিটির সদস্যদের অধিকাংশদেরই ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। অনেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি-ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেছে, অনেকে আবার বিয়ে-সাদী করে রীতিমত ঘর সংসার করছে। কিন্তু নির্বাচনের পর এইসব নেতারা নিজেদেরকে বর্তমান কমিটির সদস্য দাবি করে কমিটির নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটি গঠন করে দেয়ার নাম করে তৃণমুল কর্মীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করছে। টেন্ডারবাজীতেও থেমে নেই তারা। পাঁচ বছর ধরে কাউন্সিল না হওয়ায় দলের ভিতরে গ্রপিংয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কমিটিতে শফিক নামের এক মধ্য সারির নেতা কর্মীদের নিয়ে সংগঠিত হচ্ছে। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক গ্র“প হওয়ায় এবং রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন এই গ্র“পকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ায় অন্য গ্র“পগুলো তেমন সক্রিয় হয়ে উঠতে পারছে না। সভাপতি মমিন এবং সাধারণ সম্পাদক জেডু রাজশাহী কলেজের ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র। তাদের দুজনরই মাস্টার্সের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে প্রায় চার বছর আগে। মেয়রের একান্ত অনুগত হওয়ায় তাদের ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও সাহস পায় না কেউ। একারণেই দলের ভিতর এক ধরণের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরণের কর্মী বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিজ দলের বাইরে অন্য বাম সংগঠনগুলোর মধ্যেও এ ধরণের অসন্তোষ বিদ্যামান। যেমন ওর্য়াকাস পার্টির পুলিট ব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এবং মেয়র লিটনের সাথে বহু আগে থেকেই এক প্রকার অঘোষিত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। এ কারণেই মেয়র লিটন ওয়ার্কাস পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রমৈত্রীর উত্থানে বিশ্বাসী নয়। অপরদিকে ছাত্রমৈত্রীও বাদশাকে সাংসদ হিসেবে পেয়ে এবং ময়দানকে অনুকুল বিবেচনা করে ছাত্রলীগকে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

