বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের তিন মাস অতিবাহিত করলেও এখনও কোন কাজ শুরু করতে পেরেছেন বলে মনে হয়না । সরকার যে ভিশ্অন২০২০ নিয়ে দিন বদলের সনদ ঘোষনা করেছে তা বাস্তবে রুপ দেয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ- এ পরিণত হয়েছে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদিচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশে এত গুরুত্বপুর্ন সমস্যা থাকলেও সরকার সে দিকে নজর দিতে পারছে না। বিভিন্ন কৃত্তিম সংকট তৈরী করে সরকারকে সার্বক্ষনিকভাবে ব্যস্ত রাখার একটি ব্যবস্থা করে রাখা হচ্ছে। যেখানে দেশের মানুষের হাতে কাজ নেই, ঘরে দুবেলা দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা নেই, রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর একটা জায়গা নেই সে রকম একটা নাজুক পরিস্থিতিতে বিডিয়ার বিদ্রোহ সামাল দিতেই সরকার ব্যস্ত। ইতোমধ্যে সরকার ও সেনাবাহিনীর টানাপড়েন সম্পর্ক দেশবাসী ও বিশ্বের মানুষ সবাই প্রত্যক্ষ করছে। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মাতম উঠেছে। জঙ্গী জঙ্গী ধোয়া তুলে আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাস্ট্র হিসেবে পরিচিত করার সব রাস্তা পাকা করা হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। ইতোমধ্যে অভিবাসী শ্রমিক ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সময়েও বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাস্ট্র করার সকল অপচেষ্টা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের কালো থাবা আজও জাতির কাধে ভর করে আছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । প্রধান মন্ত্রী স্বয়ং নিজে ঘোষনা দিয়েও ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছেন।
তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে কার ইন্ধনে ছাত্রলীগ এমন বেপরয়া হয়ে উঠছে? কে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছে? সাংগঠনিক নেত্রীর কথা তারা শুনছে না কেন? কারা দেশে জংগী জংগী মাতম তুলছে? দেশের এত বড় বড় সমস্যা রেখে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জংগীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা কেন? জাতীয় সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলছে না কেন? বিডিয়ার কে ঢেলে সাজানোর জন্য এত ব্যস্ত কেন? দেশে কি আর কোন সমস্যা নেই? স্বয়ং সরকারের মন্ত্রীরাও এর থেকে দূরে নয়। অনবরত তারা জংগীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করছেন । বিডিয়ার বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা নানামুখী কথা বলছেন। অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা কোন দিন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না সে সকল মন্ত্রীরাই এখন বেশি কথা বলছেন । দেশ থেকে জংগী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মুল হোক এটা সবাই চায় কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা যখন এটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান এবং দেশ জংগীতে ছেয়ে গেছেবলেন তখন আন্তর্জাতিক অংগনে একটা জংগী রাস্ট্র হিসেবেই পরিচিতি মেলে । তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে ।এর পিছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা খুজে বের করা দরকার। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে সরকার গঠন করেছে তা বাস্তবে রুপ দিতে হলে এগুলোকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। বংগবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ স্বাধীনের ডাক দিয়েছিলেন সে দায়িত্ব আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার কাধে। উনি কি হেরে যাবেন এ যুদ্ধে? নিজেকে গুটিয়ে নিলে অপতৎপরতা বাড়তেই থাকবে। কাজেই প্রত্যাখান নয়, বরং শক্ত হাতে দমন করুন । বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে মানুষের অনেক আশা আপনার কাছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী হিসেবে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব আপনারই ।জনগণ ভোটের মাধ্যমে সে দায়িত্ব আপনাকে দিয়েছে। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে জাতি বংগবন্ধুর মত আপনাকেও আজ়ীবন স্বরন রাখবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

