বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা আর সাধারণ শিক্ষার্থীর মত নই, কিভাবে হব?আপনারাই বলেন । কারন সাধারন ছাত্রদের মত আমাদের হাতে খাতা কলম তো নেই , আছে বড় বড় সব অস্ত্র। বই পত্র নেই আছে নেশার সব উপকরণ। আর আমাদের হাতে এসব থাকবে না তো কাদের হাতে থাকবে?আমরা যে যোদ্ধা, দিন বদলের কর্মী।
২৯ ডিসেম্বর আমাদের হাত ধরে পুনরায় শুরু হয়েছে দেশের সব জায়গাতেই দিন বদল আর এর পর থেকেই মিডিয়াতে আমাদেরকে নিয়ে কভারেজ দিতে শুরু করে। তারা খুব সুন্দর করে ফলাও করে প্রচার করে আমাদের এই সুমহান কীর্তিকলাপগুলো। আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন বর্তমানে আমরা ইচ্ছা করলেই বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম হতে পারি। সুতরাং আনন্দিত আমাদের হওয়ারই কথা।
আমাদের বুদ্ধিজীবি , দেশদরদী নেতা-নেত্রী, বড় বড় কলামিস্ট যারা অন্যদের পান থেকে চুন খসলেই শুরু করে দেয় লম্প ঝম্প।বর্তমানে তারা আমাদের দিচ্ছেন উপদেশ। বাবারা এইসব কাজ করতে নেই। কে শোনে কার উপদেশ?
এরকম উপদেশ আমরা অনেক শুনেছি। শুনেছি সেঞ্চুরী পালন করে মিষ্টি বিতরণের পরও। আর এই আনন্দগুলোতো আমাদের পাওয়ারও দরকার আছে। আপনারাই বলেন সৈনিকদের কি আনন্দ ফুর্তির প্রয়োজন নেই?
আমাদের মিডিয়া গুলোকে আর ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না । ১৩/০৪/০৯ইং তারিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যা করেছি তার সাথে নানান ধরনের সত্য মিথ্যা যোগ করে একটি অভিনব ঘটনা তুলে ধরেছে আমাদের একটি দৈনিক(প্রথম আলো)। ছাত্রশিবির নাকি হলে হলে আমাদের তালা লাগিয়ে রেখেছিলো। হতেই পারে না। আমাদের মত যোদ্ধাদেরকে ঐ মৌলবাদরা তালা লাগিয়ে আটকিয়ে রাখবে? আমাদের বড় বড় সব অস্ত্র শস্ত্রের কাছে ওরা কিছুই না।সেদিন এ্যম্বুলেন্স ভরে ভরে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র আনিয়েছি। আর উক্ত দৈনিকটি বলছে আমাদের তারা তালাবদ্ধ করে রেখেছে? মিডিয়াগুলো পারেও বটে!
সুখের কথা হচ্ছে আমরা সেদিন ছাত্রশিবিরকে অস্ত্রের মুখে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিম্মি করে রেখেছিলাম হলে হলে। কিন্তু তার অবসান ঘটাতে যাচ্ছিলো ঐ শাখারই এক বড় নেতা । কি করলাম আমরা দেখেছেন? এক কোপে তার মগজ বের করে ফেলেছি। কিনা পারে আমাদের যোদ্ধারা!
আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে আগের মত সাভাবিক নিয়মে তো চলতে দিতে পারি না। দিন তো আমাদের বদলাতেই হবে। এজন্য হলের খালি সিট গুলো দখল করতে হবে? হোক। ছাত্রদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হল থেকে বের করে দিতে হবে? হোক। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে হবে? হোক। দিন আমরা বদল করবই (নয়া দিগন্ত,২৬/০২/০৯ইং পৃ:৩ কলাম-৭)।আমাদের কথা হলো ছাত্রশিবির, ছাত্রদল তোরা আবার কে ? দিন বদলের সূত্রে তোরা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে থাকতে পারিস না। অতএব বের হ এখান থেকে।
আমাদের এহেন কার্যকলাপ নাকি আমাদের সুমহান ঐতিহ্যের পরিপন্থি। (প্রথম আলো,১৯/০১/০৯ইং পৃ-১ ক-২) হতেই পারেনা। এর আগে ১৯৯৬ সালে ঢাবির উপাচার্য , আর তার সহযোগীদের নিয়ে কত কি করলাম! এছাড়াও আরো হাজারো হাজারো উদাহরণ আছে আমাদের উজ্জল ঐতিহ্যের। ১৯৯৯সালে চবিতে কিনা করলাম(ইত্তেফাক ২০/১২/৯৯ইং) এরও অনেক পূর্বে ১৯৮২ সালে রাবিতে আমরা এবং আমাদের সহযোগী দের দ্বারাই প্রথম শুরু হয়েছে দিন বদলের । সেদিন এখান থেকে রগকাটা দলের(কোন প্রমাণ নেই ) ছাত্রদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম আমরা। তাদের চার জনকে খতমও করেছিলাম আমরা (ইত্তেফাক ১২/০৩/৮২ইং)।আমরা এভাবেই দিনের পর দিন ,দিন বদলের কাজ করছি। আর আপনারা বলবেন এগুলো আমাদের ঐতিহ্যের পরিপন্থি ?হতেই পারে না। আর এগুলো তো আমাদেরই করতে হবে। আমরা না যোদ্ধা দিন বদলের সৈনিক। সুতরাং আমরা বলতে চাই যে এরকম করে দিন বদল করা আমাদের ঐতিহ্যের পরিপন্থি নয়,কখনো ছিল না বর্তমানেও না। আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা এই কাজে যে কত পটু ,কত নৈপুন্যশীল বর্তমানেও তার অনেক প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছি। অলরেডি ছাত্রদলকে ক্যাম্পাস ছাড়া করেছি।
দেশবাসী আরও উদাহরণ দেখবেন? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরাই তালা ঝুলিয়েছি । আমরাই তো জাবিতে দুই গ্রুপে বড় বড় অস্ত্র সস্ত্র রামদা, গুলি , হকিস্টিক, রড লাঠি সোটা নিয়ে যুদ্ধ করেছি দিন বদলের জন্য। যুদ্ধ আমরা করবো নাতো সাধারণ ছাত্ররা যুদ্ধ করবে?
রাবিতে জোহা হলে আমাদের দলের মেয়র সাহেবকে ছাত্র শিবির কেন অভিনন্দন জানাবে? (১৮/০২/০৯)। তাতো আমরা হতে দিতে পারিনা। দিনতো আমাদের পাল্টাতেই হবে। তারপরেও কিভাবে তারা মেয়র সাহেবকে ফুল দিয়ে কিভাবে শুভেচ্ছা জানালো?সেই ক্ষোভে আমাদের রাতের ঘুম হারাম। আমাদের একজন অকুতভয় কর্মীর বক্তব্য শুনুন : আমরা যতদিন হলে থাকব, ততদিন প্রভোস্ট কোন এ্যালোট দিতে পারবে না। আর ১৯৯৬সালে যেই রুমগুলো আমরা দখল করেছিলাম, সেই রুমগুলো আমাদের দিতে হবে। (রাবি,জোহা হল)
আমরা আমাদের মন্ত্রীর চেয়েও একহাত উর্দ্ধে। তার প্রমাণ রেখেছি ১৮ ফেব্রুয়ারির পূনর্মিলণী অনুষ্ঠানে। আমরা কি না করতে পারি , আপনারা তা দেখেছেন মিডিয়ার মাধ্যমে। মন্ত্রী থানায় থানায় আমাদের এ সহিংসতা বন্ধের চিঠি দিয়েছেন, তো কি হয়েছে ? আমরা তো আর তার কথায় দিন বদলের কাজে পিছপা হতে পারিনা । আমরা যোদ্ধা, আমরা সৈনিক। আমরা দিন বদলের কাজে সদা ব্যস্ত। সদা নির্ভীক।
আমাদের আরেকটি বড় আলোচিত বিষয় হলো আমাদের মধ্যে নানা জনে নানা ধরনের গ্রুপ্রিং। সত্য কথা কি জানেন আমরা নেতা উৎপাদন করি। তাই আমাদের মধ্যে অনেক নেতা অনেক গ্রুপ।আর একটা বড় কারণ হলো আমাদের নির্ভীক নেতারা ,যারা বছর বছর ধরে আমাদের নেতা ,বর্তমানেও তারাই নেতা ,তা হবেনা কেন? এই যোগ্য নেতৃত্ব তো আমরাই তৈরি করি। দেশবাসী দেখেছেন ,আমাদের নেতাদের কি যোগ্যতা ,কি নেতৃত্বূদানের গুণাবলী! দেশবাসীর কাছে বলতে চাই ,আপনারা দিন বদলের যে গুরু দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ,তা যেন আমরা ঠিক ভাবে পালন করতে পারি। আর আমাদের মত যোদ্ধারাই পারে দেশের পরিবর্তন আনতে, দিন বদল করতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

