somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কনক দ্যুতি (শেষ অংশ)

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রুপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিষ্ট্রির ছাত্রী।হলে না থেকে পিসীর বাড়িতে থাকে।কংকাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তবে ও ম্যানেজম্যান্টে।বাসায় ফিরে দু’জনে পড়তে বসে।রুপার একটুকুও পড়তে ইচ্ছা করছে না। কতদিন পর তীর্থদাকে দেখল।কত লাজুক ছিল আগে।এখন দেখে অবশ্য তেমন মনে হলো না।আগে চোখাচোখি হলেই চোখ নামিয়ে নিত।এখন কেমন ভ্যাবলার মত তাকিয়ে ছিল ওর দিকে।
-কি রে পড়া বাদ দিয়ে দেয়ালে কি দেখছিস?মন্দিরের ওই লালটুকে?
কংকার প্রশ্নের কোন উত্তর দেয় না রুপা। রুপার গাল যে আবার লাল হয়ে গিয়েছে তা খেয়াল করে কংকা।
-রহস্যটা কি?মন্দিরেও লাল হলি,এখনও লাল।
-আমি তীর্থদার কাছে পড়তাম।এত লাজুক ছিল।পড়াতো কিন্তু চোখের দিকে চাইতো না।
কংকার প্রশ্নের উত্তরে রুপা বলে।
-মাষ্টরের প্রেমে পড়িসনি তো?
-কি যাতা বলছিস?
মুখে না বললেও রুপার অন্তর বলে প্রেমে রুপা পড়েছে।
-কোন ক্লাসে পড়াতো তোকে ?
-আমি তখন এইচ এসসিতে।আর তীর্থদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে।
-আগুন।আগুন।
কংকা জোর গলায় বলে উঠে।
-কোথায়?
রুপা জানতে চায়।
-পড়ার টেবিলে।মাষ্টর আর ছাত্রীর মধ্যখানে।
-পড় তো।খালি ফাজলামি।

মৌচাকের পিছনের মার্কেটে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিল তীর্থ।রুপাকে দেখতে পায়।সাথে আগের মেয়েটি।তীর্থের পাশ দিয়ে চলেই যাচ্ছিল ওরা। তীর্থ ডাক দেয়।
-এই রুপা।
-আরে তীর্থ দাদা ?এখানে?
রুপা বলে।
-আমি তো মন্দিরের পাশের বাসাতে থাকি।তুমি কি হলে থাকো?
-না,আমিও এখানে থাকি।৭৬ নম্বর বাড়ি।ফ্ল্যাট নম্বর ১২।আমার পিসীর বাড়ি।
-উনাকে চিনলাম না।তোমার বান্ধবী?
-না,আমি রুপার বান্ধবী নই।রুপার পিসতুত বোন।
কংকা হেসে বলে।
-চা খাও তোমরা?
-না থাক দাদা।আজ তাড়া আছে।
রুপা বলে।
-আমার কোন তাড়া নেই।আমি চা খেতে পারি।
কংকা বলে।
-ঠিক আছে,দাদা চা বলেন।
রুপা বলে।
তীর্থ দুই কাপ চা এনে ওদের হাতে দেয়।
-আমার চা কই?
কাব্য প্রশ্ন করে।
-এখন আমি ধূপ শলাকা পাবো কোথায়?
তীর্থ বলে।

চায়ের ফাঁকে ফাঁকে ওরা গল্প করে একে ওপরের সাথে।
-তীর্থদা আপনি প্রতিদিনই মন্দিরে যান?
কংকা প্রশ্ন করে।
-হ্যাঁ।একা একা থাকি।রুমে অত আগে গিয়ে কি করবো?তাই মন্দিরে বসে সময় কাটাই।
-আপনি কি ভক্ত?
-মন্দিরে কি শুধু ভক্তরাই যায়?
কংকার প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করে তীর্থ।

কাব্যের আজ পায়েস খাওয়ার শখ জেগেছে।তীর্থ কোনদিন পায়েস রান্না করেনি।মায়ের কাছে ফোনে পায়েস রান্নার পদ্ধতি জেনে নেয়।
-এইটা কি রান্না করলেন দাদা?
কাব্য প্রশ্ন করে।
-এইটা একটা নতুন ম্যানু।একে পায়েস না বলে ভাতেস বলা যায়।
তীর্থ বলে।

মাঝ রাত্রে তীর্থের ঘুম ভেঙ্গে যায়।ঘরময় নাগেশ্বর চাপা ফুলের ঘ্রাণ।সে আলো জ্বালে।আলো জ্বেলেই ভীষণ অবাক হয়ে যায়।কাব্যের পাশে কনক দ্যুতি।
-আপনিও কি মৃত?
তীর্থ প্রশ্ন করে।
-বলতে পারছি না।
দ্যুতি বলে।
-তাহলে আপনি আত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিভাবে?
-বলতে পারছি না।
দ্যুতি বলে।
-আপনারা সব আমাকে বেছে নিলেন কেন?
-একমাত্র আপনিই আমাদের দেখতে পান তাই।
দ্যুতি বলে।

তীর্থের ঘুম পুরোপুরি উবে যায়।ও ভাবে,এমন সমস্যায় পৃথিবীর আর কেউ পড়েছে কিনা কখনও।কনক দ্যুতি আর কাব্য দু’জনেই অনেক ধনী ঘরের সন্তান ছিল।কাব্যের তীব্র আকাংখা ছিল ওর প্রেমিকার হাতের রান্না খাওয়ার।ওর সেই আকাংখা অতৃপ্তই রয়ে গিয়েছে।অপর দিকে দ্যুতির মুখে যা শুনলো,সেটি খুব সুখকর নয়।ধনীর ঘরের একমাত্র দুলালী ছিল সে।সব কিছুতেই হাত পাকিয়েছে।নাইট ক্লাব,বয়ফ্রেন্ডের পিছনে দেদারচ্ছে অর্থ খরচ- সব কিছুই।ও আত্মা হওয়ার পর জানতে পারে ওর বয়ফ্রেন্ড একজন প্রতারক।দ্যুতির এখনকার চাওয়া উজ্জলকে একটা শিক্ষা দেওয়া।

মন্দিরে ঢুকেই কংকাকে দেখতে পায় তীর্থ।
-তীর্থদা,অফিস শেষ?
-হ্যাঁ।রুপা আসেনি?
-কেন আমি আসলে কোন ক্ষতি আছে?
কংকা বেশ ভারী গলায় বলে।
-কি যে বল?এমনি জিজ্ঞাসা করলাম।
-যাই তীর্থদা।আমার মন্দিরের কাজ শেষ।আপনি কত নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন?
-এফ-সিক্স।
কংকা চলে যায়।তীর্থ ওর চলে যাওয়া দেখে।চলে যাওয়া বললে ভুল হবে।কংকার পিছন দিকটা দেখে।
-মেয়েদের পেছন দিক দেখছেন।লজ্জা লাগে না?
দ্যুতির কথায় হকচকিয়ে যায় তীর্থ লজ্জাও পায়।তীর্থ আর কোন কথা বাড়ায় না।বাসার দিকে রওনা দেয়।


-আমাকে কবে সহযোগিতা করবেন?
কাব্য তীর্থকে বলে।
-চলেন আগামীকাল যাই মেঘার কাছে।
তীর্থ বলে।

মেঘাদের বাড়ি উত্তর বাড্ডায়।সে প্রতি মঙ্গলবার মেরুল বাড্ডার মন্দিরে আসে।কাব্যের কথা মত মন্দিরে আসে তীর্থ।কাব্য মেঘাকে চিনিয়ে দেয়।মেঘাকে দেখে খুব ভাল লাগে তীর্থের।কি স্নিগ্ধ চেহারা মেয়েটার!
-আপনার সাথে কথা ছিল?
তীর্থের কথায় পেছন ফিরে চায় মেঘা।
-আপনাকে তো চিনলাম না।
মেঘা বলে।
-আমি কাব্যের খুব কাছের একজন।
তীর্থের কথা শুনে মেঘার চোখ ছলছল করে উঠে।

তীর্থের কাছে পুরো ঘটনা শুনে মেঘা আশ্চর্য হয়ে যায়।
-কাব্য কি এখনও আপনার সাথে?
মেঘা প্রশ্ন করে।
তীর্থ মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে।
-আমরা লাষ্ট কোন সিনেমা একসাথে দেখেছি,তা কাব্যের কাছ থেকে জেনে জানান তো
মেঘা বলে।
তীর্থ কাব্যের দিকে তাকায়। কাব্য তীর্থকে সিনেমার নাম বলে।
-মনপুরা।
তীর্থ মেঘাকে জানায়।

তীর্থ সব আয়োজন করেই রেখেছিল।মেঘা এসেই রান্না ঘরে ঢুকে পড়ে।কাব্য যা যা বলেছিল একে একে সব রান্না করে মেঘা।তীর্থ সব খাবার টেবিলে সাজিয়ে দেয়।তারপর ধূপ শলাকা জ্বালিয়ে দেয়।মেঘা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করে সব কয়টি খাবার পাত্র দুইটি হয়ে যাচ্ছে।দ্বিতীয় পাত্রের খাবারগুলি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়।
-তীর্থ দা,খুব তৃপ্তি করে খেলাম।আপনি অসম্ভব একজন ভাল মানুষ।মেঘাকে বলুন আমি মঙ্গল লোকে চলে যাচ্ছি।
তীর্থ কাব্যের কথা মেঘাকে জানায়।মেঘা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।তীর্থ বুঝে পায় না এখন ওর কি করণীয়।এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠে।তীর্থ দরজা খুলে দেয়।
-তীর্থদা,আজ বাড়িতে পূজো ছিল।তাই প্রসাদ নিয়ে এলাম।
তীর্থ দরজা থেকে সরে দাঁড়ায়।কংকা ঘরে প্রবেশ করে মেঘাকে কান্নারত অবস্থায় দেখে।
-প্রসাদ কোথায় রাখবো?
কংকা বলে।
- রান্না ঘরে রেখে দাও।
যাবার সময় কংকা জানাতে চায় মেয়েটার কথা। তীর্থ জানায়-পরিচিত। কংকার মুখে মলিন ভাব তীর্থ লক্ষ্য করে।
-জটিলতা বাড়লো।
দ্যুতি তীর্থকে বলে।

সাতদিন পর রুপা আর কংকার সাথে তীর্থের দেখা হয়।রুপাকে ডাক দেয় তীর্থ।না শোনার ভান করে চলে যায় ওরা।
-কি হলো ওদের?
দ্যুতিকে প্রশ্ন করে তীর্থ।
-হয়তো মেঘার কান্নাভেজা মুখ দেখে কংকা ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা করেছে রুপার কাছে।
তীর্থ আর কথা বাড়ায় না।শ্লথ গতিতে বাসার দিকে রওনা দেয়।সেদিন সারা রাত রুপার কথা ভাবে তীর্থ।

পরদিন সন্ধ্যায় কোন কিছু না ভেবেই কংকার বাড়িতে চলে যায়।রুপা দরজা খুলে দিয়ে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
-ভেতরে আসতে বলবে না?
রুপা সরে দাঁড়ায়।
সোফায় বসে ঘরের চারপাশ দেখে নেয় তীর্থ।
-কংকা নেই?
-কংকাকেই লাগবে?বাসায় কেউ নেই।সবাই পিসীকে নিয়ে ল্যাব এইডে গিয়েছে।
-উনি কি অসুস্থ?
-না।রুটিন চেক আপ।
রুপা বলে।
-বলে ফেলেন।
দ্যুতি তীর্থকে বলে।
তীর্থ বড় করে একটি দম নেয়।
-রুপা,আমি তোমাকে ভালোবাসি।
এক নিঃশ্বাসে তীর্থ বলে ফেলে।তীর্থের কথা শেষ হতে না হতেই দ্যুতি নাচতে শুরু করে দেয়।আর রুপা এক দৃষ্টিতে তীর্থের দিকে চেয়ে থাকে।যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছে তারা সকলেই এই দৃষ্টি চেনে।কিন্তু মুখে রুপা জানায় যে সে এটা বিশ্বাস করে না।
-কেন?কেন তুমি বিশ্বাস করো না?
-আপনি তো ব্যাচেলার?তবে আপনার বাসায় মেয়ে যায় কেন?
রুপার কথায় তীর্থের মেঘার ঘটনা,কংকা যে ওর বাসায় গিয়েছিল,এ সবই মনে পড়ে।সে সব ঘটনা খুলে বলে।বলতে বলতে রুপার পাশে গিয়ে বসে।
-আপনি তো বিজ্ঞানের ছাত্র।আপনি আমাকে ভূত,আত্মা এসব বিশ্বাস করতে বলছেন?
-বিশ্বাস কর।সব সত্যি।এখনও আমার সাথে এক আত্মা আছে।
-আমি আপনার জন্যে চা করে নিয়ে আসি।
-তোমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছেনা?
কথা বলতে বলতে তীর্থ রুপার হাত চেপে ধরে। আর ঠিক সেই সময় দ্যুতি রুপার শরীরে প্রবেশ করে।কথা থেকে কি হয়ে যায়,রুপা আর তীর্থ দীর্ঘ এক চুম্বনে আবদ্ধ হয়। এরপর কেউ আর কোন কথা বলে না।তীর্থ দরজা খুলে বেরিয়ে যায়।

-রুপা মা দরজা খুলে বসে আছ যে?
রুপার পিসী ঘরে ঢুকে জানতে চায়। ঠিক এই সময় দ্যুতি রুপার শরীর ছেড়ে চলে যায়।রুপা সম্বিত ফিরে পায়।
-কখন এলে পিসী?
পিসী আর কথা বাড়ায় না।বাথরুমের দিকে চলে যায়।পিসো চলে যায় তার ঘরে।কংকা রুপার কাছে এসে বসে।
-কেমন একটা গন্ধ এই ঘরে।
কংকা বলে।
-কিসের গন্ধ?
-এই ধর কোন একটা ফুলের।কেমন চাপা একটা গন্ধ।
-কই আমি তো পাচ্ছি না?
-আসার সময় দেখলাম তীর্থ দা বাসা থেকে বেরুচ্ছেন।এসেছিল?
প্রশ্ন করে তীব্র দৃষ্টিতে রুপার দিকে চেয়ে থাকে কংকা।রুপা কোন উত্তর করে না।ওর ঘরের দিকে চলে যায়।

তীর্থ ছাদে এসে বসে।আজ পূর্ণিমা।আর ওর কাছে জীবনের সব থেকে স্মরণীয় দিন।
-সবই তো হলো। এবার আমাকে সহায়তা করুন।
দ্যুতি বলে। তীর্থ স্মিত হেসে বলে ঠিক আছে।

পরদিন গুলশানের নাইট ক্লাবে তীর্থ যায়।দ্যুতি বলে দেয় উজ্জল আর প্রভাকে কোন স্থানে পাওয়া যাবে। তীর্থ সেখানে গিয়ে দু’জনকেই পেয়ে যায়।সে কোন ভাণিতা না করেই প্রভার হাত চেপে ধরে।বলে-কেন তুমি আমার ফোন ধরছো না?
-হাত ছাড়ুন?কে আপনি?
প্রভা রাগত স্বরে বলে।
-এই ম্যান,আপনি আমার গার্লফ্রেন্ডের হাত ধরেছেন কেন?মাতাল নাকি?
হিংস্র ভাবে উজ্জল বলে।
-না ভাই উজ্জল,আমি মাতাল নই।প্রভা আমার গার্লফ্রেন্ড।আপনার হতে যাবে কেন?
তীর্থ আমুদে গলায় তীর্থ বলে।
-কি আবোল-তাবোল বকছেন?আমি আপনাকে চিনিই না।
প্রভা বেশ নার্ভাস ভাবে বলে।
-ও সোনা,এ কি বলছো?তোমার বাম স্তনের নীচের ছোট্ট তিলে গত দুপুরেও তিন বার চুমু খেলাম।আর তুমি ভুলে গেলে?
তীর্থের কথা শুনে দ্যুতির হাসি আর থামে না।এই তথ্যগুলো দ্যুতিই তীর্থকে দিয়েছে।
-উনি তোমার তিলের কথা জানলো কি করে?
উজ্জল বলে।
-আমি কিভাবে বলবো?
প্রভা রাগত স্বরে বলে।
-তুমি মনে হয় টাকা পেলেই যার তার বিছানায় শুয়ে পর, না?
হিসহিসিয়ে উজ্জল বলে।তারপর হনহন করে ক্লাব হতে বেরিয়ে যায়।প্রভা তীর্থের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উজ্জলের পিছু নেয়।

-রাতে রাস্তা কেমন নির্জন, না?
তীর্থ দ্যুতিকে বলে।
-আপনি খুব ভাল একজন মানুষ।কোন অহংবোধ নেই।আমি যদি আত্মা না হতাম তবে আপনাকেই ভালোবাসতাম।
দ্যুতি বলে।
-উপকারের বিনিময়ে প্রশংসা।
তীর্থ বলে।
-না সত্যি বলছি।
এ কথা বলেই দ্যুতি বাতাসে মিলিয়ে যায়।
-আপনাকে দেখতে পাচ্ছিনা কেন?
তীর্থ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে দ্যুতিকে । কিন্তু দ্যুতিকে আর পাওয়া যায় না।


ভবেশ বাবু স্ত্রীকে নিয়ে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে আসেন।আজ তিন মাস ধরে একটি সংবাদের জন্যে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ অপেক্ষা করে আছেন।যদি ঈশ্বরের কৃপা হয়।মেয়েটার জ্ঞান ফেরে।
-আপনার মেয়ে কোমা থেকে ফিরে এসেছে।
কর্তব্যরত নার্স ভবেশ বাবুকে জানায়। ভবেশ বাবু আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।
-আমরা কি ভেতরে যেতে পারি?
-কেন নয়?
-বাবা।
দ্যুতি মৃদ গলায় বলে।
-মা।মারে।
দ্যুতির হাত জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন দ্যুতির বাবা। দ্যুতির মা বার বার রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে থাকেন।

এক মাস পর।দ্যুতি বাসার ছাদে বসে আছে।এমন সময় উজ্জল সুন্দর একটি ফুলের তোড়া নিয়ে আসে।
-দ্যুতি,মাই বেবি।
-তুমি এখানে কেন?
ঝাঁঝালো গলায় দ্যুতি বলে।
উজ্জল ফুলের তোড়া দ্যুতির হাতে দেয়।দ্যুতি তোড়া ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
-বেবি,আমি কিন্তু কষ্ট পাচ্ছি।
উজ্জল বলে।
-তুমি প্রভার কাছে যাও।
এই কথা বলে দ্যুতি নীচে নেমে আসে।ড্রাইভারকে বলে গাড়ি বের করতে।
-কি মা,এই শরীর নিয়ে তুই কোথায় যাচ্ছিস?
-সিদ্ধেশ্বরী।খুব কাছের একজনের কাছে।
-যাস না মা।ফোন করে আসতে বল।আর তা না হলে ড্রাইভার পাঠিয়ে দে।
দ্যুতির মা বলেন।
-ফোন নম্বর নেই।আর আমাকেই যেতে হবে।
বেরুতে বেরুতে দ্যুতি বলে।


আজ তীর্থ আর রুপার বাসর রাত।ব্যস্ততার মধ্যেও টিভির স্ক্রলে তীর্থের চোখ পরে।স্ক্রলে ভেসে বেড়াচ্ছে-বাংলা মোটরে প্রাইভেট কারের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষ।ঘটনা স্থলেই কারের আরোহিনী আর ড্রাইভার মারা গিয়েছে।মৃতা ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতির একমাত্র কন্যা।

তীর্থ ঘরে প্রবেশ করে।রুপার কাছে গিয়ে বসে।
-তারপর?
-কি তারপর?
রুপা জানতে চায়।
-ছাত্রী তো এখন আর ছাত্রী নেই।
তীর্থ বলে।
-আর কোন আত্মাও নেই।
রুপা হেসে বলে।
-তুমি কোন গন্ধ পাচ্ছো?
তীর্থ প্রশ্ন করে।
-তুমি সেন্ট স্প্রে করেছো,তারই গন্ধে ঘর মৌ মৌ করছে।
-আরে সেই গন্ধ নয়।
-তবে কিসের গন্ধ?
-নাগেশ্বর চাপার গন্ধ।
-ও ফুলই কোন দিন দেখিনি।তার গন্ধ কেমন, বুঝবো কিভাবে?
দ্যুতি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিল ।এবার সে রুপার শরীরে প্রবেশ করে।

প্রথম অংশ (Click This Link )
দ্বিতীয় অংশ( Click This Link )
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×