somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাকির : কেরানি থেকে কুবের : মানুষ নয়, তিনি খুন করেছেন অর্থনীতি

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

::::ভোরের কাগজ:::::

ছাত্র হিসেবে মেধাবী ছিলেন না। স্নাতক পাসের পর কোথাও চাকরি না পেয়ে 1977 সালে যোগদান করেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে নিম্নমান করণিক হিসেবে। লোকে বলে, বর্তমানে শতাধিক কোটি টাকার মালিক। মানুষ খুন করে টাকা করেননি, খুন করেছেন দেশের অর্থনীতি। ব্যাংক প্রশাসনকে জিম্মি করে চালিয়েছেন দেদারসে কমিশনবাজি। কপর্দকশূন্য দশা থেকে রাতারাতি বেহিসেবি বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া কোনো ব্যাপারই হয়নি। একজন সামান্য করনিক থেকে পরিনত হয়েছেন ধনকুবেরে। ঢাকায় রয়েছে একাধিক জমি, গাড়ি, বাড়ি, ফ্লাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে বেহিসেবি অস্থাবর সম্পদ, বিপুল ব্যাংক ব্যালান্স।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, 1990 সাল পর্যনত্দ জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত সোনালী ব্যাংকের সিবিএ (সেন্ট্রাল বার্গেনিং এজেন্ট) নেতা জামাল উদ্দিনের একজন সাধারণ কমর্ী হিসেবে কাজ করতেন বি এম বাকির হোসেন। 1991 সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 1991 থেকে 1996 সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে একবার বিএনপি সমর্থিত সিবিএ নেতা হিসেবে পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচিত হন। সে সময় তেমন কোনো প্রভাব ব্যাংকে ফেলতে পারেননি বাকির। কিন' 2001 সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর তিনি পুনরায় পুর্ন প্যানেলে সিবিএ নেতা নির্বাচিত হন। সেই থেকে আজ পর্যনত্দ বাকির সিবিএ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই সময়টাই একজন করণিকের স্বর্ণযুগ। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। তিনি হয়ে ওঠেন ব্যাংক পাড়ার সম্রাট। শুর" হয় অর্থ উপার্জন। হয়ে ওঠেন কোটিপতি থেকে শতাধিক কোটি টাকার মালিক। গাড়ি, বাড়ি ও জমি ক্রয়ের মাধ্যমে তার সাম্রাজ্য বাড়তে থাকে।
2001 থেকে 2006 সাল পর্যনত্দ এই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) বাকিরের নির্দেশে চলতে হয়েছে। অঘোষিত এমডি হিসেবে তিনি ব্যাংকে সমধিক পরিচিত ছিলেন। বিএনপির ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তিনি ব্যাংক কোম্পানি আইন, প্রশাসন ও প্রচলিত আইনের ধরাছোঁয়ার উধের্্ব উঠে যান। ব্যাংক প্রশাসনের নির্দেশে বাকির চলেননি, বরং প্রশাসন তার নির্দেশে চলেছে। হাওয়া ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যনত্দ সর্বত্র তার অবাধ বিচরণ ছিল, কোথাও বাধা ছিল না। হাওয়া ভবনের সুনজরে থাকার সুবাধে তিনি ব্যাংকের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান। তার প্রভাব ও দাপটের কারণে ব্যাংকাররা তাকে সোনালী ব্যাংকের মালিক মনে করতেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের করণিক থেকে উপহিসাব রক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন বাকির, কিন' একটি মুহূর্তের জন্য তিনি উপহিসাব রক্ষকের চেয়ারে বসেননি। সারাক্ষণ সিবিএ অফিসে বসে তদবিরের কাজ করেন। সিবিএ অফিসে তাকে 1 মিনিটের জন্য ফ্রি পাওয়া যায় না।
টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ, নতুন ঋণ অনুমোদন, খেলাপিসহ যে কোনো ঋণের সুদ মওকুফ থেকে শুর" করে ব্যাংক প্রশাসনের সর্বত্র কমিশনবাজিতে তার একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রতিদিন তার ঝুলিতে গড়ে কতো টাকা জমা হতো তা নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। তবে তা লাখের হিসেবে বলে ধারণা তারই ঘনিষ্ঠজনদের। এ ছাড়া নানা 'থোক আয়'তো ছিলই।
বি এম বাকির ভিকার"নি্নসা নূন স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে 7 কোটি টাকার ওপরে ব্যয় করেন। এই নির্বাচনে অভিভাবকদের শাড়ি ও প্যান্ট পিস, মিষ্টির হাঁড়িসহ নানা উপহার পাঠিয়ে তাদের মন জয় করেন এবং অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বিতর্কিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-2 আসন থেকে এমপি পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে গত দুবছর ধরে প্রতিদিন ঢাকায় বসবাসরত নড়াইলবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ধরনের উপহার প্রদান, অর্থ সরবরাহ করে তাদের মন জয় করেন। ঢাকাস্থ নড়াইলবাসী তাকে এমপি হিসেবে পাওয়ার জন্য সর্বত্র চেষ্টা করেছেন। এছাড়া সপ্তাহে দু'দিন নড়াইলে গিয়ে অবস্থানকালে বাকির প্রতিদিন প্রচুর টাকা খরচ করতেন বলে নড়াইলবাসীরা জানায়। এই নির্বাচনে বাকিরের বাজেট ছিল 100 কোটি টাকা বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
একজন করণিক হয়েও বাকির ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী শহরে বিমান ছাড়া যাতায়াত করেন না। সোনালী ব্যাংকে গত 5 বছরে যতো নিয়োগ, পারস্পরিক বদলি, টেন্ডার, নতুন ঋণ অনুমোদন ও সুদ মওকুফ হয়েছে তা বি এম বাকিরের নির্দেশ ছাড়া হয়নি। ঢাকা থেকে যে কোনো জেলা শহরে পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে 50 হাজার থেকে 1 লাখ টাকা পর্যনত্দ কমিশন বাকিরকে দিতে হয়েছে।
প্রতিটি টেন্ডারের ক্ষেত্রে 25 শতাংশ হারে কমিশন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সকল সংস্কার কাজ, আসবাবপত্র ও স্টেশনারি ক্রয় বাকিরের নামে হতো, তিনি যে বিল করে দিতেন তাই পাস হয়ে যেতো। তার বিলের ওপর কারো কোনো মনত্দব্য করার অধিকার ছিল না।
ঋণ বিতরণ ও সুদ মওকুফের ক্ষেত্রেও বাকির ইচ্ছামতো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাকির 5 থেকে 10 শতাংশ হারে কমিশন নেওয়াসহ সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে কারো কোনো কথা বলার অধিকার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×