somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমাজউদ্দিন এক ভয়ংকর সত্য উন্মোচন করলেন!

০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এমাজউদ্দিন স্যারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তিনি জামায়াত সম্পর্কে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন আর তা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেছেন এ ধন্যবাদ শুধু সে কারণে নয়।
এমাজউদ্দিন জামায়াত সম্পর্কে কথাগুলি বলে একই সাথে বিএনপির স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। বিএনপি আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকার বা বরাবরের মত কুট চালে প্রসঙ্গ এড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে না। ফলাফলটিও এসেছে তাৎক্ষনিক। মির্জা ফখরুল বলেই দিয়েছেন ওটা বিএনপির কথা নয়। তার মানে হল, এবার ধোঁয়াশাটা কাটাতে বিএনপি বাধ্য হল। জামায়াতকে তারা কখনোই তালাক দিবে না। এটা স্পষ্ট হল।
বিএনপি যে কখনোই জামায়াতকে তালাক দিতে পারবে না এটা পূর্ব থেকেই অনুমিত। প্রয়োজন ছিল প্রকাশ্য প্রমাণ। এবারে সেটা সামনে এলো।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা একটি রাজনৈতিক দল। সরকার চাইলে যে কোনও মুহূর্তে ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে। দেশের বিরোধী দলের নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০ দলের মধ্যে এ দলটিকে আর রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। দলটি এখন বোঝায় পরিণত হয়েছে। এটি এখন আর সম্পদ নয়।’
তার এমন বক্তব্যের পর দেশ জুড়ে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ সুস্থির নিশ্বাস ফেলেছিলেন এই ভেবে যে, এতদিন পরে হয়ত বিএনপি নেতৃত্বের বোধোদয় হল। কেননা এমাজ উদ্দিন প্রকারান্তরে দল মত নির্বিশেষে সকলের মতামতকেই এক কথায় তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বিধি বাম, এমাজউদ্দিনের বিবৃতি প্রদানের অব্যবহিত পরেই জামায়াতে ইসলামী কঠোর ভাষায় গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায়। ওই বিবৃতিতে এমাজউদ্দীনের বক্তব্য প্রত্যাহার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অযাচিত ও এখতিয়ার বহির্ভূত বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় জনগণ ধরে নিতে বাধ্য হবে তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আলো ও অন্ধকারের খেলায় লিপ্ত রয়েছেন।

বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ. তাহের বলেন, ২০-দলীয় জোট এমাজউদ্দীন আহমদকে মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। জোটের পক্ষ থেকে কোনও কথা বলার অধিকার তার নেই। তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত ও অযাচিত আচরণ করছেন। সূত্র: যুগান্তর৪/৮/১৬

জামায়াতের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিভিন্ন দলের নেতারা এর বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করছেন। সেটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু এর মধ্য দিয়ে যে ভয়ংকর দিকটা উন্মোচিত হল তা হচ্ছে, জামায়াত নিজেদের এখনো পূর্বের মতই সমান গ্রহণযোগ্য ও ক্ষমতাশীল একটি রাজনৈতিক দল বলেই মনে করে। আর বিএনপিও স্পষ্ট করে দিয়েছে জামায়াতের সাথে তাদের যুগলবন্দী ঠুনকো নয়। আর ওটা কোন কারণেই ভাঙ্গারও নয়। এ তো গেল বিপদের এক দিক।
বিপদের দ্বিতীয় যে দিকটি উন্মোচিত হল। তা হচ্ছে, জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না এটাও স্পষ্ট হল। কেননা এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য কোনও আইন করছি না। তবে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে যাতে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যায় সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি এখন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’সূত্র:- ঐ
অতএব একইসাথে এটাও স্পষ্ট হল যে, বাংলাদেশের রাজনীতির খেলায় জামায়াত নামক তুরুপের তাসখানা থেকেই যাচ্ছে। বিদগ্ধজনেরা জামায়াতের এমন ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের সাহস দেখে আশ্চর্য হচ্ছেন। তারা কি এটা দেখতে পান না যে, অন্তরালে জামায়াত নয় বড় দুই দলই বরং জামায়াত তোষণে ব্যস্ত! তাহলে তারা ঔদ্ধত্য দেখাবে না কেন?

বিএনপি শত দোষে দুষ্ট আর তারা এখন ক্ষমতায় নেই বলে আমরা তা অহরহ বলেও যাচ্ছি কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমরা কি বলতে পারছি জামায়াত ইস্যুতে তারা যা করছে সেটাকে আসলে কি বলা যায়। আমরা জানি অথচ বলতে পারছি না। তার কারণ আমরা যারা আওয়ামীলীগ বেচে খাই, আমরা যারা আওয়ামীলীগের ক্ষমতার বেনিফিসিয়ারী তারা নিজেদের পকেটের দিকে আগে তাকাই।
আর যারা শুধুমাত্র দেশকে ভালবেসে আওয়ামীলীগকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে তারাও বলতে পারছি না কারণ কখন যে কোন কথায় নেতার মানহানি হয়ে যায়! সেই ভয়ে।
আমাদের তো পেছনে কোন খুঁটিরই জোড় নেই। তাই বলছি না, কেবল শঙ্কায় মরে যাই। হায় আমরা ভাল না বেসেও মার খাই, আবার ভালবেসেও শঙ্কায় মরে যাই। ভালবাসার এ দানও তো কম কিছু নয়!
দুর্ভাগ্য আমাদের, অপ্রিয়কে তো তাও অভিশাপ দেয়া যায় কিন্তু প্রিয়কে নিয়ে কি করি?
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:২৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×