somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশী...

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোসানা ফ্লরেস।
পড়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বাইরের দেশের ছেলে বলে তার প্রতি ছেলেমেয়েদের বাড়তি একটা উৎসাহ সে দেখতে পেতো। এতে তার মজাও লাগতো।
কিন্তু তারপরও তার দৃষ্টি ছিল একজনের প্রতি, সায়রা।
মেয়েটা কথা বলে কম। পারত পক্ষে কারো সাথে কথা বলে না। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট বেঞ্চেই বসবে ও। ও শুধু মেয়ে বন্ধুদের সাথেই কথা বলে। মানে একটু কনজারভেটিভ।
অন্যদের কাছে অনেক প্রিয় হলেও ফ্লরেস সায়রার আশেপাশেও যেতে পারে না। সত্যি কথা বলতে সায়রা ওকে পাত্তাই দেয় না।
দেখতে দেখতে ফার্স্ট সেমিস্টার ফাইনাল চলে এসেছে। পরীক্ষা হল, রেজাল্টও দিলো।
সায়রা ফার্স্ট, আর ফ্লরেস সেকেন্ড।
পরেরবার উল্টো। ফ্লরেস ফার্স্ট আর সায়রা সেকেন্ড।
রেজাল্ট দেখে ফ্লরেস সায়রার সাথে কথা বলতে এগিয়ে যাচ্ছিলো। আর সায়রা তা বুঝতে পেরে ওখান থেকে চলে গেলো।
এই নিয়ে ৫ বার সায়রা এই কাজটি করেছে। এতে ফ্লরেস আরও আকৃষ্ট হচ্ছে সায়রার প্রতি।
কিন্তু সায়রা কোন ভাবেই পাত্তা দেয়না ওকে।
এতদিন হয়ে গেছে, কিন্তু দুজনের কথা হয়নি এখনো
আজ ফ্লরেস সায়রার পথ আগলে দাঁড়াবে বলে চিন্তা করেছে, বলবে সে সায়রাকে অনেক পছন্দ করে। এককথায় ভালোবাসে।
-----------------------
যথারীতি সায়রা ওকে পাত্তা দিলো না।
এবারো ফ্লরেস হতাশ। কিন্তু ও দমে যাবার পাত্র নয়। একের পর এক নতুন পদ্ধতিতে সে সায়রার কাছে যেতে চেষ্টা করছে। মনের কথা বলা দূরে থাক, এখনো তো ও কোন কথাই বলতে পারেনি।
অদ্ভুত একটা মেয়ে।
-----------------------
দীর্ঘ একবছরের চেষ্টার পর ফ্লরেস সায়রার মন জিতে নিতে পেরেছে।
ওদের চিন্তা পড়ালেখা শেষ করে দুজন দুজনের ফ্যামিলিকে সম্পর্কের ব্যাপারটা জানাবে।
-----------------------
ফ্লরেস এখন ফ্লরেস হোসানা নেই। আহসান-উল-হক হয়ে গেছে। এখন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরী করে, সাথে সায়রাও।
ওদের বিয়ে হলো মাসখানেক আগে।
-----------------------
সায়রা অসুস্থ। ও এখন আর চাকুরী করে না। কিভাবে যে বিয়ের প্রায় বছর হতে চলল নিজেই বুঝে উঠতে পারেনি।
-----------------------
সায়রার ছেলে হয়েছে। নাম ফাহিম।
-----------------------
ও আবারো চাকুরী করছে। আগের জায়গাতেই।
একবছর বয়সী ছেলেটাকে নানা-নানি খুব ভালই সামাল দিতে পারে।
কিন্তু আহসান কেমন যেন পাল্টে গেছে। ওকে একটু সময় কম দিতে চাইছে। দিন-রাত নিজেকে অনেক ব্যস্ত বলে বুঝায়। অফিসে আসার পর থেকেই ও বুঝতে পারে আসলে সমস্যাটা ব্যস্ততা নয়, সোহানা। ওদের কলিগ। সোহানার হাবভাব মোটেও ভালো ঠেকছে না সায়রার কাছে।
কেমন যেন একটা ঠেস দিয়ে কথা বলে সায়রাকে, আর আহসানের গায়ে গায়ে লেগে থাকতে চায়।
-----------------------
সংসারের অবস্থা খুব খারাপ। ওদের মধ্যে এখন কথা হয় খুবই কম।
-----------------------
আহসানের সকালের ঘুম ভাঙলো সায়রার ডাকে।
-এই যে, উঠো। আমি বাইরে যাচ্ছি। তারেক [ওদের ক্লাসমেট] ফোন করেছিলো।
বলেছে আমরা যেন দুপুরে ওর বাসায় খাই।
-আমি যেতে পারবো না। আমার অনেক কাজ। অফিসে গতকালের কাজগুলো শেষ করতে পারিনি।
-আজকে কিসের অফিস? আজকে তো উইক এন্ড।
-হুম। কিন্তু ফাইলগুলো বাসায় নিয়ে এসেছি। তুমি একাই যাও।
-ওকে।
[কিছুক্ষণ পর আহসানও বের হবে। সোহানা আসবে ওর সাথে দেখা করতে। একসাথে কফি খাবে বলেছে সকালের দিকে।]
------------------------
যে মেয়ে তারেকদের সাথে কথাই বলতো না, ও এখন ওদের ভালো বন্ধু হয়ে গেছে।
তারেককে একদিন ও সব কথা খুলে বললো।
তারেকও ওকে সাহায্য করবে বলেছে।
আজকাল তারেকের সাথে সায়রা অনেক গল্প করে, সময় কাটায়।
------------------------
আজ তারেক এসেছে সায়রার বাসায়। আহসান নেই বাসায়। বাইরে গেছে। একটু পরেই হয়তো আসবে। ও এসেছে আহসানকে সায়রার কথাগুলো বুঝাবে বলে।
আহসান বাইরে বলে উঠে চলে যাবে, এমন সময় ধাম্...ম্...ম্।
লাঠির এক বাড়ি দিতেই তারেক বেহুশ...।
-----------------------
তারেক মারা গেছে এখন এক মাস হলো।
আহসানও জেলে।
সায়রা ওকে দেখতে এসেছে।
-তুমি কেন ওকে মারলে? ও কেন এসেছে জানতে চাইতে পারতে অন্তত? ও তোমাকে বুঝাতে এসেছিলো। বলতে চেয়েছিল সোহানার সাথে না মিশতে।
-লোকজন তোমাদের নিয়ে অনেক কথা বলতো। তা শুনেই আমার মেজাজ চরে গিয়েছিলো।
-কই, তুমি সোহানার সাথে এতদিন মিশেছো, আমার তো মেজাজ চরেনি...। এখন আমি কোথায় যাবো? তোমার কিছু হলে আমি কি করবো? ফাহিমকে নিয়ে কোথায় থাকবো?
------------------------
আহসানের ফাঁসির আদেশ হলো। ওর ফাঁসিও হবে ও জানে। এতদিনে ও নিজের ভুলটা বুঝতে পারছে। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×