somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নভেম্বার রেইন নাকি নো সেভ নভেম্বার

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং কালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে ক্যান্সারের অনেক প্রকারভেদ আছে, আছে ক্যান্সার হওয়ার নির্দিষ্ট কোন কারন না জানা, আছে প্রাথমিকভাবে ক্যান্সার সনাক্ত না হওয়া আর সেই সাথে আছে ক্যান্সারের সঠিক এবং কার্যকরী কোন চিকিৎসা না থাকা। আর আমাদের দেশে আছে অনেক কুসংস্কার।

২০০৯ সালে শিকাগোতে একজন বাবা মারা যান ক্লোন ক্যান্সারে। তাঁর জন্য তাঁর আট ছেলে মেয়ে শুরু করেন নো সেভ নভেম্বার। আর বছর না ঘুরতেই খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই বিষয়টা। সারা বিশ্বব্যাপি ক্যান্সারের সচেতনতা তৈরীতে শুরু হয় এই নো সেভ নভেম্বার। ছড়িয়ে পরে সোসাল মিডিয়াতে। ব্যাবহার হতে থাকে হ্যাশট্যাগ। আজকের দিনে এসে নভেম্বারের শুরুতেই আমরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই নো সেভ নভেম্বার। কিন্তু আমরা অনেকেই এর পিছনের ইতিহাস টা জানিনা। নভেম্বার মাসে সেভ না করে আপনি যে টাকা বাচাবেন সেটা আপনি চাইলে পাঠাতে পারেন ক্যান্সার রোগের রিসার্চের কাজে। আর এটাই আসলে নো সেভ নভেম্বারের উদ্দেশ্য।

এখন আপনি চাইলে সেই টাকাটা পাঠাতে পারেন আবার নাও পারেন কিন্তু আপনি যেহুতু নো সেভ নভেম্বার পালন করছেন সেহুতু আপ্পনার কাছে যখন কেউ জানতে চায় কেন আপনি সেভ করেননি, তখনও আপনি তাঁর সাথে ক্যান্সার নিয়ে কথা বলতে পারেন। তাকে জানাতে পারেন ক্যান্সার থেকে মুক্তি লাভের উপায়। আর এভাবে এই বিষয়টা ছড়িয়ে যেতে পারে সবার মাঝে। এটাও এই নো সেভ নভেম্বারের একটা উদ্দেশ্য।



নভেম্বার মাস আসলেই যেমন নো সেভ নভেম্বার কথাটা মাথায় আসে ঠিক তেমনি এখন থেকে প্রতি বছরের নভেম্বারে এই কথাটাও চিন্তা করবেন, নো সেভ নভেম্বার ফর এ রিজন। আর সেই রিজনটা হলো ক্যান্সার। এভাবেই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা ছড়িয়ে যাক সবার মাঝে। দাড়ি থেকে যদি ভালো কিছু হয় তাহলে দাড়িই ভালো। :)

নভেম্বার আসলে আর একটি কথা মাথায় আসে সেটা হলো নভেম্বার রেইন। মূলত নভেম্বার রেইন হলো ইংরেজী হার্ড রক ব্যান্ড "গানস এন রোসেস" এর একটি গান। কিন্তু কি এমন আছে এই গানে যার জন্য সারা বিশ্বে সবাই নভেম্বার আসলেই নভেম্বার রেইন কথাটা ভাবেন?



যেই চার্জে আজকে আপনার বিয়ে হচ্ছে আর সেই চার্জেই আগামীকাল আপনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এই কথাটা ভাবতেই গাঁয়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। আমি চোখ বন্ধ করে ভাবতে পারিনা যে আমি মারা যাচ্ছি। মানুষ মরতে চায় কিন্তু মরতেই ভয় পায়। যাইহোক একবার ভাবুন যে লোকগুলো গতকাল আপনার বিয়েতে খুশী হয়ে শ্যাম্পেইন ভেঙ্গেছিল আজকে তারা আপনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এসে কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ এরকমই একটা গল্পে বানানো হয়েছিল এই নভেম্বার রেইন গানের মিউজিক ভিডিও। ভিডিওর শুরুতে বিয়ে হয় এক দম্পতির আর এরপর শুরু হয় বৃষ্টি, নভেম্বারের বৃষ্টি। এরপরই মারা যায় সেই বিয়ের কনে।



মিউজিক ভিডিওটি এই পর্যন্ত বানানো সব ব্যায়বহুল মিউজিক ভিডিও গুলোর একটি। দামী সব কস্টিউম আর লোকেশান এই গানের ভিডিওটি গানটিকে নিয়ে গেছে এক ঐতিহাসিক জায়গায়। ব্যান্ডের গিটারিস্ট স্ল্যাশ এর গিটার প্লে করার দৃশ্যটা আপনাকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখবেই।



আর শেষের দিকের দৃশ্য যেখানে দেখা যায় আগের দিন বিয়ে হওয়া মেয়েটি আজকে শুয়ে আছে কফিনে।



গোলাপ ফুল বৃষ্টিতে ভিজে তাঁর লাল রঙ ছড়িয়ে দেয় কফিনে।



এসব তো গেলো গানের ভিডিও নিয়ে কথা। গানের লিরিক্স লিখেছেন এই ব্যান্ডেরই ভোকালিস্ট এক্সেল রোস। টানা নয় বছর কাজ করেছেন এই গানের জন্য তিলে তিলে গড়ে তোলা এই গান রিলিজ পায় ১৯৯২ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টপ চার্টে জায়গা করে নেয় গানটি। সব থেকে বড় গান হিসেবেও জায়গা করে নেয় আমেরিকার টপ চার্টে। গানের ডিউরেশান যে প্রাউ নয় মিনিট। মূল গানটি নাকি আরো বড় ছিল যেটা পরবর্তীতে ছোট করা হয়। গানের সুরে আছে ভিন্নতা যেটা কিছুটা গুগল করে জেনেছি যেহুতু সুর আমার মাথায় কোনদিনই বুঝে আসেনাই। :প

যাইহোক গানটি এখন ইতহাসের অংশ। এই গান নিয়ে আরো অনেক গল্প আছে। আছে অনেক রহস্য। সেটা গান শুনলেই বুঝবেন।



নভেম্বার রেইন আর নো সেভ নভেম্বার নিয়ে অনেক কিউরিসিটি ছিল। আজকে সেগুলো নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করে মোটামুটি অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। তাই সবার সাথে শেয়ার করছি ভুল কিছু লিখে থাকলে জানাবেন।

আর হ্যাঁ নভেম্বার রেইন পালন করছেন কিনা সেটা বিষয় না নো সেভ নভেম্বার কিন্তু অবশ্যই পালন করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৫২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×