somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিন প্রতিদিন(গল্প ২য় পর্ব )

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গেটের ভেতর একটা আইসক্রীমওয়ালা বিকেল হলে রোজ আসে। খেলা শেষ হলে অনেকেই আইসক্রীম হাতে বাড়ি ফেরে। টন্সিলের সমস্যা আছে বলে তিশার ঐ জিনিষের দিকে তাকানোও হারাম। মাস দুয়েক আগে মার কড়া নিষেধ উপেক্ষা করে পুরো দু সপ্তাহ জ্বরে ভুগেছিলো। তাই সন্ধ্যা হবার আগেই বাড়ি ফিরে আসে ওরা।
সকালের ঝগড়ার রেশটা তখনও ছিলো। তাই অবস্থা বুঝে সখিনাই তিশাকে রাতের খাবার খাইয়ে , বিছানায় ঘুম পাড়িয়ে , নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলো।
ভাংগা রাস্তার দুপাশের বড় বড় সোয়েরেজ পাইপে প্লাস্টিক দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকছে ওদেরই বস্তির অনেকে। শোনা যাচ্ছে, বস্তির ঘর ভাংতে আসবে সরকারের লোকেরা।
কিছু করবার নেই জেনেই ,ওসব নিয়ে মাথা ঘামায় না সখিনা।
ঘরের কাছাকাছি আসতেই দেখা গেলো, একজন লোক দাড়িয়ে আছে ঠিক ওর দরজার সামনে। কালো মুখের গড়ন, গলায় সবুজ মাফলার প্যাচানো, লুঙী পরা, পান চিবিয়ে চিবিয়ে মুখ লাল করে বিচ্ছিরি ভাষায় কথা বলছে লোকটা।
সখিনাকে দেখামাত্রই, একটা বাজে ভাষা ব্যবহার করে জিগ্গেস করল," ওই মাতারী তোর ভাতার কই?"
"হের আইতে দেরী হইবো", বলে কোনরকমে ঘরে ঢুকে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করলো ওই বদমাশটার কুনজর থেকে।
সারাদিন রিক্সা চালিয়ে যা টাকা-পয়সা কামাই হয় ,তার পুরোটাই শেষ করে আসে জুয়া খেলা আর বাংলা পানিতে। মাঝে মাঝে সখিনাকেও হতে হয় বন্দক। তাই পয়সা উসুল করবার জন্য ঘর পর্যন্ত চলে আসে শকূনগুলো।
হঠাৎ চ্যাঁচা মেচি শুনে দরজা খুলে দাড়ায় সখিনা কি হলো দেখবার জন্য। পুলিশের দাবড়ানি খেয়ে ,এলোপাথাড়ি দৌড়াচ্ছে হিরোইন বিক্রেতারা।
মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছে হিরোইন খোরদের ,পুলিশ কনস্টেবলরা।
তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দেয়, পাছে কোলের ছেলেটা ওসব দেখে না ফেলে। কিন্তু ভয় হয়, কতদিন এভাবে আড়াল করতে পারবে। ভাবতে ভাবতেই চুলোয় দুমুঠ চাল বসায়।
ঘরটা ঝাড়ু দেবার জন্য যেইমাত্র সখিনা উঠে দাড়াল, অমনি শামু হাত থেকে ঝাড়ুটা নিয়ে বললো," মা , আইজকা ঘরের কাম আমিই করমু। আমি বড় হইয়া বাবার মতো রিক্সা চালামু না, আমি হমু হলুদ গাড়ীর ডেরাইভার। তোমারে ট্যাকা আইনা দিমু, তুমি আর কাম করবা না। এই জায়গাই আমরা ছাইড়া দিমু,মা।"
ছেলের কথা অবাক হয়ে শোনে সখিনা। এভাবে কেউ ওর মাথার উপর ছায়া ধরবে, আশার আলো দেখাবে ,এ যেন ভাবতেই পারেনি কখনো। অবশ্য সখিনাদের ভাগ্যটাই এমন।
বিছানাপত্র পরিষ্কার করে, তার উপর একটা পেপার বিছিয়ে দেয় শামু। গরম ভাত আর আলুর ভর্তা থালায় নিয়ে শামুকে ডাক দিয়ে সখিনা বলে, " আইও বাজান, আইজকা তোমারে ভাত আমিই খাওয়ায় দিমু।" দৌড়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে সে। মা আর সন্তানের সম্পর্ক- এক নাড়ী ছেড়া সম্পর্ক।
শামুকে কোলের মধ্যে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ায় সখিনা। রাত বাড়ার সাথে সাথে আশপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসতে থাকে। এক পর্যায় চোখ লেগে আসে তারও।
হঠাৎ লোকজনের চিৎকারে ঘুম ভেংগে গেলো সখিনার। কি হচ্ছে কিছু বুঝে উঠবার আগেই দেখতে পেলো আগুন। ঘরের কোণা অবদি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনরকমে শামুকে কোলে তুলে, পরনের একখান কাপড়, ছেড়া কাঁথা আর বালিশটা নিয়ে বেরিয়ে আসে সে।
চোখের সামনে পুড়ে যাচ্ছে সমস্ত বস্তি। মানুষের হাহাকার, কান্নার রোল পরে গেলো চারদিকে। কেউ কেউ কোনরকমে জানটা নিয়ে বেরিয়ে এলো।
পাশের লেক থেকে পানি নিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করছে লোকজন। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি সরু-ভাংগা রাস্তা দিয়ে কোনরকমে এসে পৌছলেও পানির উৎস পাওয়া যাচ্ছেনা। কিভাবে বাঁচাবে তাদের এই বসতভূমিকে। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিইবা করতে পারবে ওরা যেখানে ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায়, সমস্ত আকাশ লাল হয়ে গেলো।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ কি জরুরি ছিল?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



'...শুন্যে দিলাম উড়ারে ভাই যাইতে চান্দের চর,
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর ।
তোমরা আমায় চিনোনি... '

পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল-
তার বাবাকে কথা দিয়েছিলেন তিনি কবিতা লেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×