
বাংলাদেশে আমরা যে যেই ব্যন্ডই শুনি না কেন, আমাদের দেশে মেইনকোর্স ব্যান্ড বলতে এল আর বি, নগরবাউল, সোলস এসবই বোঝায়। তো, ইংলিশ গানের ভক্ত হওয়ার সুবাদে সারাদিন মাথায় ঘুরাঘুরি করে যে ওদের মেইনকোর্স ব্যন্ড কারা !
আমি কারও সাথে কারও তুলনায় যাচ্ছি না। একজনের পজিশন বুঝাতে চাচ্ছি শুধু । তুলনাটা পজিশনে, গুণের না।
মেইনকোর্স শিল্পী অদের বহুত। আমাদের আছে আঁখি আলমগীর, ইভা রহমান। ইংলিশ গানের বেলায় শাকিরা, ব্রিটনি স্পিয়ার্স। আমাদের আসিফ, মুনীর চৌধুরী ওদের ব্যকস্ট্রীট বয়েজ, ওয়েস্ট লাইফ। আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন আর রুনা লায়লা। ইংলিশ গানের বেলায় ট্রিসা ইয়ারউড, এলিসন ক্রস। লন্ডনে কিছু হিট ব্যন্ড আছে। দ্য কোরস, ইভানিসিন্স।
তবে, কী না ইংরেজি গানের সেক্টর বা ক্ষেত্র অনেক বেশি বিস্তৃত। তাই ওদের মেইঙ্কোর্স শিল্পী বা ব্যন্ডের অভাব নেই। প্রধাণত, নিউ ইয়র্ক আর অতি সম্প্রতি লন্ডনের মেইনকোর্সরাই ইঙ্গলিশ গানের ফ্রন্টে থাকে। যেমনটা আমাদের বেলায় রুনা লায়লা বা মমতাজ।
আমি আমার ভাল লাগা কিছু মেইনকোর্স ব্যন্ড’স আর শিল্পীদের কথা জানাই। বাংল্কাদেশে যারা আনকমন তাদের কথাটাই বলা যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ, ব্যকস্ট্রিট বয়েজ, ওয়েস্টলাইফ, লিঙ্কিন পার্ক, লিমবিজকিট এসবের বর্ণনা বাদ দিচ্ছি। শিল্পীদের কথা কম বলে ব্যন্ডের কথা বেশি আনছি। তাই জেনিফার লোপেজের কথা বাদ দিব বলে ভাবার কোন কারণ নাই যে তাকে চিনি না।
একদম সিম্পল আর জাস্ট খুবই ইজি করে গায় দ্য ক্লিক ফাইভ। অথচ সুরের কোন অভাব নেই ওদের। দারুণ গায়। এমন ভাবে গায়, যেন এই গান দুনিয়ার সবাই সিঙ্গেল টেকেই গাইতে পারবে। অথচ, গান গুলা সুরে ভরা। পপের লিডে থাকা ব্যকস্ট্রিট বয়েজের চাইতে কম না মোটেও। সিম্পল প্ল্যানও ইদানীং তাদের একটা এনিমেশন মুভি ল্যাম্ব এর কারণে নাম কামাচ্ছে। ব্লু কয়েকদিন আগেও হিট ছিল খুব।
ইভানিসিন্সকে চেনে আসলে সবাই। এই মেয়েটা অনেক দিন সবার কালেকশনে ছিল। কিন্তু, একদম হঠাত করে সে সবার সামনে এসে পড়ে। মেয়েটার ব্রেস্ট ক্যান্সার। মেয়েটার কণ্ঠ একদম অন্যরকম। দারুণ গায়। ওর গান শুনলে ভাল লাগবেই। এরকম অন্য ধরণের সুর না শুনে পারা যায় না।
Rap বা নু মেটালের বস হল লিঙ্কিন পার্ক। সবাই এক কথায় ওদের লিড স্বীকার করে। এরপরে ফোর্ট মাইনর, স্টাইলস অব বিয়ন্ড। আর, হার্ড Rap এ নেলি, ফিফটি সেন্ট, এমিনেম এরা ত আছেই।

নরমাল গানে কেলিওন ডিওন এখনো চলে। ট্রিসা ইয়ারউড আমার শোনা সবচেয়ে সুরে গাওয়া ইংলিশ শিল্পী। দারুণ গান উনি। আমাদের দেশে রুনা লায়লার যেই পজিশন, উনার সেই পজিশন আছে ইংলিশ গানে। কত মুভিতে যে উনার প্লেব্যাক তা বলে শেষ করা যাবে না। এলিসিয়া কীইজ, ক্রিস্টিনা মিলান এরাও কেউ ফেলনা না। ক্রিস্টিনা মিলান ত এখন ড্রামাগুলার প্লেব্যাকে এক চেটিয়া। কীম পসিবল নামের কার্টুনে গেয়ে নাম কুড়িয়েছে অনেক।
কোর্সের গান এখন অনেকেই শোনে। পাঁচটা মেয়ে বাজায়। ভোকালের মেয়েটা গানের ফাঁকে ফাঁকে বাশীতে সুর তোলে। ১৭ বছরের একটা মেয়ে ১৬ সেটের ড্রাম বাজিয়ে আমকে অবাক করে দেয় প্রতিবার।
ক্লাব বা পাংকু যারা আছে তাদের মেইনকোর্সে আছে এইস অব বেইজ। আমাদের দেশের পেন্টাগনের মত বোধহয়। নাম জানি, কালেকশনেও থাকে। শুনি না। তবে, এদের কিছু গান আছে, মাথা ঘুরিয়ে দেয়। ভেঙ্গাবয়েজ সেই কবে থেকে মেইনকোর্সে।
আমাদের দেশে লাকি আখন্দ, হেপি আখন্দের যেমন সমাদর ওখানে ফিল কলিন্স, পিংক ফ্লয়েড। এদের কথা আর নাই বলি। সবাই জানে এসব। কাইম ফিসার, জর্জ মাইকেলও হিট ছিল অনেক দিন।

আর, রক বা মেটালের মেইনকোর্সে আছে স্লিপনট, বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইনস আরো অনেক অনেক অনেক। চিলড্রেন অব বটমসও আছে। ব্রিটনীর গানকে পঁচায়া ব্রিটনীর গানকে নকল করে টানা নয়টা এলবাম বের করেছে ওরা। যেমন বাজিয়েছে, তেমনই হাসিয়েছে।

নিকেলবেক, ব্রেকিং বেঞ্জামিনের পজিশন আমাদের এখানকার ইয়াত্রীর মতন। তবে, তুলনাটা গুণে না। পজিশনে। বারবার পরিষ্কার করছি কিন্তু। ব্রেকিং বেঞ্জামিনের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের কীই বোর্ড প্ল্যার নেই। ছয়জন শুধু গীটার বাজায়। অথচ, কারও থেকে কম না। রাসকেল ফ্লাট আরেক চিজ। দারুণের উপর চরম। তবে, ওরা একটু পুরোনো। বাংলাদেশের ডিফারেন্ট টাচের মতন পজিশন আর কী! অথবা মাক্সুদ ও ঢাকা। তুলনাটা পজিশনে।
কান্ট্রি সং যারা শোনে, তাদের কাছে সবার উপরে মেইনকোর্সে বর্তমানে এলিসন ক্রস। কণ্ঠ বটে মেয়েটার। গায় দারুণ। পিউর ওয়েস্টার্ন। অফ স্প্রিংও ভাল গায়। আগের যুগের মহানদের নাম নাই-ই নিলাম।
সুরের টপে ইনিগমা, যোগ্যতার বলেই। তবে কেনি জি, ইয়ান্নিও কম যান না। ভেনেসা মেই ভায়োলিনে থার্ড হ্যান্ড বাজিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে অনেক।
[ স্বাভাবিক ভাবেই এক পর্বে শেষ হবে না। মনে হল কত কথা বাকী ! এখন শুধু জানিয়ে রাখি।এদের থেকে গান শেয়ার করব সামনে। বাংলা বা ইংলিশ গানের কেউ কোন বিশেষ ধারা সম্পর্কে জানতা চাইলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। ]
© আকাশ_পাগলা
আগের পর্বের জন্য Click This Link
পরের পর্বের জন্য Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



