somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিউজিল্যান্ডের খুনিটাকে সন্ত্রাসী বলা জায়েজ হবে কি?

১৬ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিউজিল্যান্ডের খুনিটাকে সন্ত্রাসী বলা জায়েজ হবে কি?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার আল নূর জামে মসজিদে নামাজরত মুসল্লীদের উপর হামলা হয়েছে। কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদেও হামলা চালানো হয়।

সয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র চালিয়ে অর্ধশত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী ব্যক্তির ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছুটোছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর পর ১৬/১৭ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ঠিক যেন ভিডিও গেম খেলছে কেউ একজন। ভিডিও গেমের মতো করে একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল। ধারণা করা যায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন। অবশ্য কিছু সময়ের ভেতরে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেয়া হয় সে ভিডিওটি। কিন্তু ততক্ষনে অনেকেই দেখেছেন সে ভিডিও। কেউ কেউ ডাউনলোড করে রেখে দিয়েছেন সেটি।

ঠান্ডা মাথায় যাদের খুন করা হয়েছে তাদের পরিচয় হচ্ছে তারা মুসলিম। আর যিনি বন্দুক হাতে মসজিদে ঢুকে পাইকারীভাবে খুন করলেন তার পরিচয় হচ্ছে, তিনি মুসলিম নন। ভিন্নধর্মী। যতটুকু জানা যায়, খৃষ্টান বংশোদ্ভূত। তার এই পরিচয়টির জন্য তিনি আজ অর্ধশতাধিক মানুষকে খুন করেও সন্ত্রাসী নন। জঙ্গি নন। জিহাদী কিংবা টেররিস্ট নন। বিশ্বখ্যাত মিডিয়াগুলো তাকে অন্তত একটিবারের জন্যও এসব খেতাবে ভূষিত করেনি। তারা ঘূনাক্ষরেও তাকে খৃষ্টান জঙ্গি বলেনি। ইহুদি সন্ত্রাসী তকমা লাগায়নি তার নামের সাথে।

আচ্ছা, এই হামলাকারী ব্যক্তিটি যদি মুসলিম হতেন? তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াতো? 'মুসলিম জঙ্গি', 'মুসলিম সন্ত্রাসী' বলে এতক্ষণে তারস্বরে চিৎকার করে করে তারা কি কান ঝালাপালা করে তুলতেন না? 'মুসলিম জঙ্গি' বলে পৃথিবীর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলতেন না? তাবত বিশ্বের মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য তারা কি মুখে ফেনা তুলতেন না? কেন এই দ্বিচারিতা? কেন? এই বৈষম্য কেন? 'জঙ্গি', 'সন্ত্রাসী', 'জিহাদী', 'চরমপন্থী', 'উগ্রবাদী', 'টেরোরিস্ট' শব্দগুলো কি শুধুই মুসলিমদের জন্য? এই জাতীয় শব্দাবলীর যাবতীয় পেটেন্ট কি কেবলমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই বরাদ্দকৃত? ধিক! শত ধিক! সভ্যতা নামের এমনতরো নিকৃষ্ট দুরাচারী দ্বিচারিতার প্রতি!

বন্দুক হাতের লোকটি অমুসলিম হলে কোনো সমস্যা নেই। বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। 'মানসিক ভারসাম্যহীন' কিংবা 'অসংলগ্ন' অথবা এই জাতীয় কোনো অযুহাতে বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা পরিলক্ষিত হবে। তিনি মুসলমান হন? তাহলে এটা নির্ঘাৎ এক ‘জেহাদি’ সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র। 'জঙ্গি' অপতৎপরতা। আর একমাত্র সমাধান: তাবত বিশ্বের সকল স্থান থেকে মুসলমান খেদাও। মুসলিম জঙ্গিদের ঝেটিয়ে তাড়াও।

এফবিআই ডেটাবেইস থেকে বের হওয়া একটা প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ১৯৮০-২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটা মাত্র ৬ শতাংশ সন্ত্রাসী ঘটনায় মুসলিম সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল। যুদ্ধাক্রান্ত সিরিয়াকে বাদ দিলে ২০১৬-১৭ সালেও বিশ্বের মোট সন্ত্রাসী ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে অমুসলিমদের দ্বারা (গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০১৮)।

ছবিঃ অনলাইন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:২৩
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×