somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষয় যখন মুদ্রাদোষ; মুদ্রাদোষ নিয়ে কিছু কথা

০৩ রা মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষয় যখন মুদ্রাদোষ; মুদ্রাদোষ নিয়ে কিছু কথা

মুদ্রাদোষ কাকে বলে?

মুদ্রাদোষ হলো এমন একটি অভ্যাস, যা কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার ব্যবহার করেন। এটি কথায় বা আচরণে গভীরভাবে প্রোথিত থাকে। শব্দটি "মুদ্রা" (অর্থাৎ ছাপ বা চিহ্ন) এবং "দোষ" (অর্থাৎ ত্রুটি) এর সমন্বয়ে গঠিত।

কেন একে মুদ্রাদোষ বলা হয়?

এটিকে মুদ্রাদোষ বলা হয় কারণ এটি ব্যক্তির কথায় বা আচরণে এমন একটি ছাপ ফেলে, যা বারবার ফিরে আসে। যেমন: কথায় কথায় "এই যে", "মানে", বা "হলো গিয়ে" বলা, কিংবা শারীরিক অভ্যাস যেমন নখ কামড়ানো। এই অভ্যাসগুলো সাধারণত অনিচ্ছাকৃত এবং পরিবর্তন করা কঠিন, তবে সচেতন প্রচেষ্টায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জীবনে এমন কিছু মানুষের সাথে কখনও কখনও দেখা হয়ে যায়, যাদের কথা শুনলে মনে হয় তারা বাংলা ভাষাকে নতুন এক মাত্রা দিয়েছেন। তাদের কথার ফাঁকে ফাঁকে এমন কিছু শব্দ বা বাক্যাংশ লেগে থাকে, যা শুনতে শুনতে আমাদের কানে পাক খায়, মস্তিষ্কে দোলা দেয়, আর হৃদয়ে এক ধরনের হাস্যরসের সৃষ্টি করে। আজ আমি এমনই কয়েকজন ব্যক্তিত্বের কথা বলব, যাদের মুদ্রাদোষ আমাদের জীবনে এক বিশেষ রং যোগ করেছে।

প্রথমেই আসি "হলো গিয়ে" মহাশয়ের কথায়। এই ভদ্রলোকের কথা শুনলে মনে হয়, তিনি বাংলা ভাষায় একটি নতুন টেন্স চালু করতে চান। তার প্রতিটি বাক্যে "হলো গিয়ে"র একাধিক ব্যবহার থাকবেই। যেমন:

"কাল রাতেই হলো গিয়ে, আমার খুব ঘুম হলো গিয়ে পেলো না।"

"আমি তো হলো গিয়ে বাজারে হলো গিয়ে গিয়েছিলাম, হলো গিয়ে দেখলাম সব দোকান বন্ধ।"

"তুমি হলো গিয়ে এটা হলো গিয়ে করলে কেন হলো গিয়ে?"

শুনতে শুনতে মনে হয়, "হলো গিয়ে" শব্দটি তার মুখ থেকে বেরোতে বেরোতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, কিন্তু তিনি "হলো গিয়ে" শব্দ দু'টিকে বিশ্রাম দিতে নারাজ। শ্রোতা হিসেবে আমরা ক্লান্ত, তিনি কিন্তু অটল।

এরপর আসি "মোট কথা" মহাশয়ের প্রসঙ্গে। এই ভদ্রলোকের কাছে সব কথাই "মোট কথা"। তিনি যেন প্রতিটি বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করার জন্য "মোট কথা"র আশ্রয় নেন। যেমন:

"মোট কথা, আমি তো বলেছি, মোট কথা, তুমি শুনলে না।"

"মোট কথা, কাল রাতেই বৃষ্টি হচ্ছিল, মোট কথা, আমি ভিজে গেলাম।"

"মোট কথা, তুমি যদি মোট কথা শুনতে চাও, মোট কথা, আমি বলব।"

শুনতে শুনতে মনে হয়, তিনি যেন প্রতিটি বাক্যের আগে "মোট কথা" বলেই নিশ্চিত করেন যে, শ্রোতা তার কথার সারমর্ম বুঝতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে, "মোট কথা" শব্দটি এতবার শুনে আমরা কথার মূল কথাই ভুলে যাই।

সবশেষে আসি "এই যে" মহাশয়ের কথায়। এই ভদ্রলোকের কথা শুনলে মনে হয়, তিনি যেন প্রতিটি শব্দের আগে "এই যে" বলে নিশ্চিত করেন যে, তিনি কথা বলছেন। যেমন:

"এই যে, কাল রাতেই এই যে, আমি এই যে, বাজারে গিয়েছিলাম।"

"এই যে, তুমি এই যে, এটা এই যে, করলে কেন?"

"এই যে, আমি এই যে, বলছি এই যে, শুনছো?"

শুনতে শুনতে মনে হয়, তিনি যেন প্রতিটি শব্দের মধ্যে "এই যে" ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, যাতে কথার ফ্লো ঠিক থাকে। কিন্তু বাস্তবে, "এই যে" শব্দটি এতবার শুনে আমরা কথার ফ্লোই হারিয়ে ফেলি।

এই সব মুদ্রাদোষের মহান ব্যক্তিত্বদের কথা শুনতে শুনতে আমরা কখনো হাসি, কখনো বিরক্ত হই, আবার কখনো তাদের কথার মধ্যে এক ধরনের মজা খুঁজে পাই। কিন্তু একথা ঠিক, তাদের এই অভ্যাস আমাদের জীবনে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। তাই, "হলো গিয়ে", "মোট কথা", এবং "এই যে"-র রাজত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন আমাদের কথোপকথনেও থাকবে একটু হাসি, একটু বিরক্তি, আর একটু মজা।

মোট কথা, এই যে, হলো গিয়ে, এটা হলো গিয়ে আমাদের জীবনের হলো গিয়ে এক বিশেষ অধ্যায়। এই যে, হলো গিয়ে, মোট কথা, এটা হলো গিয়ে আমাদেরকে হলো গিয়ে হাসাতেই থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×