পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা নাকি আল্লামা ইকবাল ।'সারা জাহাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্তাঁ হামারা 'এর লেখক হিন্দুস্তানকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করার স্বপ্ন কিভাবে দেখেন আমার মাথায় আসেনা ।অনেকে বলেন এটা নিছকই জিন্নাহ'র আবিস্কার- 'দ্বি-জাতি তত্ব' ।এই তত্বের সাফল্য বা ব্যর্থতার কাসুন্দি এখানে ঘাটবোনা ।দেশ বিভাজনের সময় উভয় অংশের একটা বিপুল অংশের উদ্বাস্তু হয়ে পড়া, দাংগা এবং নবগঠিত পাকিস্তান এবং আরো পরের বাংলাদেশে বারবার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি আমাদেরকে দেশ বিভাজনের পর্দার অন্তরালের অন্য কারণের দিকে ইংগীত করে ।
এটা কি নিছকই ধর্ম ? নাকি ক্ষমতা ? নাকি আরো বড় ব্যাপার- অর্থ ? কোন কারনে ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল ? টাটা-বিরলাদের অর্থনৈতিক প্রতিপত্তির সাথে পেড়ে না উঠে পাকিস্তানের নব্য ধনিক শ্রেণী জিন্নাহর মাথায় এই বুদ্ধি ঢুকিয়েছিল ? তাহলে বাংলাদেশ কেন স্বাধীন হলো ? নিছকই পশ্চিমাদের অবহেলা ? এখানের ধনিক শ্রেণীর কোন ইন্দন ছিলনা ? এখানের রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার লিপ্সা ছিলনা ?
যদি আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মূলমন্ত্র ছয় দফার দিকে তাকাই তাহলে কী দেখতে পাই ? প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পাই রাজনীতিবিদদের অধিকারের কথা । তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চমে পাই ব্যবসায়ীদের অধিকারের কথা আর ৬ষ্ঠে পাই একটা আধা সামরিক বাহিনীর কথা । তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সর্বস্তরে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতের জন্য হয়েছে এ দাবী কি ধোপে টিকে ? বলতে পারেন এই ছয় দফার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্র সমাজের ঘোষিত ১১ দফা বাস্তবায়নের জন্যই মুক্তযুদ্ধ হয়েছিল ।হ্যাঁ এখানে ৬ ও ৭ নম্বরে কৃষক এবং শ্রমিকের অধিকারের ব্যাপারে বলা হয়েছে । কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যাপারে কি কিছু বলা ছিল ওখানে ? ধরে নিলাম ঐ সময় যা উচিত ছিল তা-ই বলা হয়েছে । কিন্তু স্বাধীন দেশে আমরা কী দেখতে পাই ? ৯০ ভাগ দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বাধীনতার কোন সুফল এসেছে ? এখানকার খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক মুক্তি ? কিংবা জীবন ধারনের অন্যান্য উপকরনের সহজলভ্যতা এসেছে কারো জীবনে ?
দেশ স্বাধীন হওয়ায় রাজনীতিবিদগণ ক্ষমতা পেয়েছেন । পাকিস্তানের ২২ পরিবার থেকে এদেশের অর্থনীতি ১০০ পরিবারের হাতে এসেছে । সেই ১০০ পরিবার আজ হাজার ছাড়িয়ে লাখের দিকে দৌড়াচ্ছে ।কিন্তু কী লাভ হয়েছে আমাদের মত আম জনতার ? হারিকেন, মোমবাতি, আইপিএস, মশার কয়েল কিংবা এরোসল বা এজাতীয় ইন্ডাস্ট্রির ফুলে ফেঁপে ওঠা, চাল ছেড়ে গম,গম ছেড়ে আলুতে দৌড়ানো, সাতটার দৌড় ছয়টায় শুরু করা ছাড়া আর কী আছে আমাদের স্বাধীনতার সুফল ?
একটা সময় বৃটিশরা শোষণ করত, এলো পাকিস্তান; তারাও শোষণ করত, এল বাংলাদেশ । এখন আর কী আসবে ? এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে বিষ ।অলিতে গলিতে শোষকের ক্রীড়নক । কোথায় পালাবে ? ছুটবে আর কত ? কোন মরিচীকার পেছনে দৌঁড়াবে ? পারবে বাংলাদেশকে আবার স্বাধীন করতে ? কার হাত থেকে স্বাধীন করতে হবে জানে ?শিরায় শিরায় দাপিয়ে বেড়ানো অমিমাংসিত ক্ষোভের ভাত নেই এখানে । এখানে হা-হা মরুভূমি কেড়ে নেয় সব ।
আমরা বৃটিশ আমলে পরাধীন ছিলাম । আমরা পাকিস্তান আমলে পরাধীন ছিলাম । আমরা বাংলাদেশ আমলে পরাধীন আছি । আমরা এখনো অর্থনৈতিক মুক্তি পাইনি । আমরা এখনো দুর্ণীতি আর স্বজন প্রীতি থেকে মুক্তি পাইনি ।আমরা এখনো আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা পরাধীন অন্যায়ের কাছে । তাহলে কার স্বার্থে এদেশ স্বাধীন হল ?
মাঝে মাঝে ভাবি, স্বাধীন বাংলাদেশ আর বৃটিশ শাসিত বাংলাদেশের মধ্যে আমার মত খেটে খাওয়া মানুষ কোন পার্থক্য পাবেনা । পার্থক্য পাবেনা পূর্ব পাকিস্তান আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যেও ।তাহলে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের প্রয়োজনীয়তা কার স্বার্থে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

