somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারেকের কাল্পনিক কথাবার্তা

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারেক রহমান। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব; প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাঁর বক্তব্যের কারণে বিএনপিও রীতিমতো বিপদে আছে। অতি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকে তিনি রাজাকার বলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছেন। কিন্তু কেন! কেন তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলছেন?

তারেক লন্ডনে অবস্থান করায় আমরা তাঁর কাছে পৌঁছতে পারছি না। আমরা তাঁর কিছু কাল্পনিক কথাবার্তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি।

প্রশ্ন : আমরা শুনেছি, আপনি লন্ডনে বসে গবেষণায় বেশ মনোযোগ দিয়েছেন। আপনার গবেষণার বিষয় কী?

তারেক : আমার তো একটাই ইস্যু, বঙ্গবন্ধু। থুক্কু শেখ মুজিব।

প্রশ্ন : থুক্কু কেন?

তারেক : আসলে আমিই তো এখন বিএনপির কর্ণধার, তাই না! আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ। আবার শত্রুপক্ষও বলতে পারেন। আমার মুখে বঙ্গবন্ধু শব্দটাই বেমানান। আর প্রকাশ্যে বলা আমার রাজনীতির জন্যও হুমকি। রাজনীতির স্বার্থেই আমাকে অনেক সত্য গোপন করতে হয়। মিথ্যার ঢোল বাজাতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করতে হয়।ৃ

প্রশ্ন : কিন্তু ইতিহাসে তাঁর অবস্থান তো নির্ধারিত। আপনার মা-বাবা কেউই তো তাঁকে অসম্মান করেননি। তাতে কি তাঁদের রাজনীতি শেষ হয়ে গিয়েছিল?

তারেক : কী যে বলেন! আপনাকে আমি কিছু অব দ্য রেকর্ড কথা বলি। লেখার জন্য না। আমার মা ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করছেন না? কেন করছেন? রাজনীতির জন্যই তো তাঁকে ১৫ আগস্ট বেছে নিতে হয়েছে! অবশ্য তিনি এটা নিজের সিদ্ধান্তে করেননি। সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারা চাপিয়ে দিয়েছে সে কথা নাই বা শুনলেন।

প্রশ্ন : সেটা একটা ভুল! সেই ভুল পথে যদি আপনিও পা দেন, তাহলে নতুন ধারার রাজনীতি কী করে হবে?

তারেক : হা হা হা! নতুন ধারার রাজনীতি! ওই শব্দটা ডিকশনারিতে তুলে রাখুন। আমরা এখন একটা কঠিন সময় পার করছি। মনে হচ্ছে, চারদিক থেকে আমাদের ঘিরে ফেলা হয়েছে। গন্তব্য জানা নেই। মায়ের বয়স হয়েছে। তার ওপর মামলার বোঝা। আমি দেশান্তরী। আমার নামেও অসংখ্য মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীরা মামলা আর হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিএনপি নামক দলটির নাম-নিশানা মুছে ফেলা। আমরা এখন আন্দোলনের ডাক দিলে সাড়া মেলে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বিপক্ষ বা প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। সব এক পক্ষ। এ অবস্থায় আমরা দলে নেতা-কর্মীদের ধরে রাখতে পারছি না। তাহলে আমার করণীয় কী হবে? তাই অনেক ভাবনাচিন্তার পর কথার রাজনীতি শুরু করেছি। কিছুদিন পর পর একটা করে কথার বোমা ফাটাব। সেটা নিয়ে আওয়ামী লীগাররা হইচই, লাফালাফি-দাপাদাপি করবে। আর দেশের মানুষ তা দেখে হাসবে, মজা পাবে।

প্রশ্ন : তাই বলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান?

তারেক : ওই নামটাই তো আওয়ামী লীগারদের অ্যাসেট। বড় অস্ত্রও বলতে পারেন। আগেও বলেছি না, বঙ্গবন্ধু! ধুত্তরি! বারবার শব্দটা মুখে এসে যায়। উনি ওদের লালসালু। কিছু ভ- লোক তাঁকে বিক্রি করে খায়। তাই ওই জায়গাটায় হিট করেছি।

প্রশ্ন : এতে তো বিএনপিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে!

তারেক : আরে ভাই; মড়ার আবার মাইরের ভয় কী? আমি তো মরছিই। আমার আর মরার ভয় কী? আমি যখন দেখি, আমার কথায় খোদ প্রধানমন্ত্রী উত্তেজিত হয়ে উল্টাপাল্টা বকেন; তখন আমি দূরে বসে হাসি। এখানেই আমার সফলতা। খুব তো সুখে আছেন তিনি। খালি মাঠে একটার পর একটা গোল দিয়ে যাচ্ছেন। আমি কথার ছলে তার একটু ছন্দপতন ঘটাচ্ছি আর কি! দূরে বসে এটুকুই অনেক না!

প্রশ্ন : তার মানে, আপনি আগাম নির্বাচন বা আন্দোলনের কথা ভাবছেন না?

তারেক : ওসব ভেবে লাভ নেই। খুব বেশি সুবিধা করা যাবে না। ছোটখাটো ধাক্কায় ওদের সরানো যাবে না। মহাপ্রলয় ঘটলে যদি কিছু হয়। আপাতত তার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

প্রশ্ন : তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তারেক : আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, কোনো রকম আন্দোলন ছাড়া আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করতে হলে কথার বোমার চেয়ে বড় কোনো দাওয়াই নেই। আমি কথার বোমা তৈরির কৌশল শিখছি। এ বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা করছি। কতভাবে কথার বোমা তৈরি করা যায়, সেই বোমা ফাটানোর মোক্ষম সময় কোনটি, কিভাবে ফাটাতে হবে- এসব নিয়ে গবেষণা করছি।

প্রশ্ন : আপনি মহাপ্রলয়ের কথা বলছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে তার কি কোনো ইঙ্গিত পাচ্ছেন?

তারেক : মহাপ্রলয় তো ঘটতেই হবে। মহাপ্রলয় না ঘটলে রাজনীতির এই দৈন্যদশা কাটবে না। তবে কখন ঘটবে সেটাই হচ্ছে বিষয়।

প্রশ্ন : আপনি কি সেই মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় আছেন?

তারেক : অবশ্যই। এ ছাড়া আর উপায় কী? তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন, তারেক একদিন না একদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। সেদিন বেশি দূরে নয়।

প্রশ্ন : পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

তারেক : কী আর বলব! শুধু এটুকু বলি, আমি ভালো নেই। তুমি ভালো থেকো স্বদেশ! কা:ক:
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×