somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রগতি বিশ্বাস
জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

সামাজিক আভিজাত্যই দাসত্ব

১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে করুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের নিছক একজন কর্মী। ঘটনাক্রমে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির জন্মোৎসব পালনের গুরুভার আপনার কাঁধেই এসে পড়ল। আপনি পরিপাটি পোশাকে মঞ্চে দাঁড়ালেন আপাতদৃষ্টে সবটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন আপনাকে আপনার শব্দভাণ্ডার থেকে খুঁজে বের করতে হয় সেইসব অলীক স্তুতিবাক্য, যা আপনার বসের জন্য বরাদ্দ করতে বাধ্য হন। আপনি এমন সব শব্দের কারুকার্য তৈরি করেন যা শুনলে স্বয়ং ঈশ্বরও আপনাকে স্বর্গে ঠাঁই দিতে বাধ্য হবেন; অথচ সেই শব্দজালের বিনিময়ে আপনার বস হয়তো আপনাকে একটি সামান্য 'ইনক্রিমেন্ট' দেওয়ার সৌজন্যও দেখাবেন না।


যাকে আপনি শয়নে-স্বপনে নিভৃতে ঘৃণা করেন, যাকে দেখলে মনে হয় ঈশ্বর বোধহয় ইবলিশ সৃষ্টির আগে আপনার এই বসকেই 'প্রোটোটাইপ' হিসেবে তৈরি করেছিলেন আজ পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের দায়ে আপনিই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা কীর্তন করছেন। আপনার মুখে সেই বসের গুণগান শুনে স্রষ্টা হয়তো ক্ষণিকের জন্য দ্বিধায় পড়ে ভাববেন, "তবে কি এই ব্যক্তিই আসল ঈশ্বর? আমি কি তবে অন্য কেউ?" আপনার স্তুতিবাক্যের প্রাবল্যে ঈশ্বর হয়তো নিজের ঐশ্বরিক পরিচয়টুকুও বিস্মৃত হবেন


মূলত আপনার সামাজিক এই মুখোশই আপনাকে প্রকৃত মানুষ হতে অন্তহীন বাধার সৃষ্টি করে। আপনি এক মেরুদণ্ডহীন ভিক্ষুকের মতো সেই মানুষটির প্রশংসা করলেন যার গুণগান শুনে ঈশ্বর তাঁর সিংহাসন নিয়ে শঙ্কিত হন। কেন আপনি এমনটি করলেন? কারণ, আপনি অফিসের বসের প্রতি আপনার দাসত্ব, আপনার শুভ্র পোশাকের প্রতি আপনার আভিজাত্যের মোহ এবং আপনার সুগন্ধির তীব্রতায় ঢাকা পড়া আপনার প্রকৃত সত্তার প্রতি দাসত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। এই ঠুনকো সামাজিক স্বীকৃতির মোহে আপনি একজন সুসভ্য দাসে পরিণত হয়েছেন।

মানুষ হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে আপনি আজ শুধু টিকে থাকার এক সামাজিক আধুনিকায়িত এক দাস; যেখানে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে বা পা ফেলতে ভুলে যাওয়াই এখন আপনার একমাত্র বাস্তবতা।


চলমান থাকবে...
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:১৯
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম কর্ম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



আপনার দিনের পর দিন ধর্মীয় লেখা পোস্ট করার কারণে -
হয়তো, আপনার কম্পিউটারটি স্বর্গে যেতে পারে।
কিন্তু, আপনার নিজে স্বর্গে যেতে হলে -
আপনার নিজের ধর্ম কর্ম করতে হবে।


ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ



...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মা আমার পৃথিবী

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

" আমার মা,আমার পৃথিবী "

মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই মাগো তুমি আমার স্বপ্নে এসে আমার হ্রদয় ছুঁয়ে যাও। সেদিন সারাটাক্ষন আমি আমার মায়ের মাঝে ডুবে থাকি। কোনো কাজে মন বসাতে পারিনা।
কিশের এতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিমস যুদ্ধ: রাজনীতিতে হাসি-ঠাট্টার কৌশল”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১০ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯

সাম্প্রতিক সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডগুলো বেশ মজার। ট্রল আর মিমসের দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে যা আমাদের বিনোদনের খোরাক জোগায়। ওপরের তালিকার সাথে আরও কিছু চলমান মিমস... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমার কোন এক মুহূর্তের শব্দ শুনি

লিখেছেন সামরিন হক, ১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩১


ছবি- নিজস্ব সংগ্রহ


কেঊ এসে মেরে রেখে যাক তা চাই নি কখনো ।
তবুও সে আসে,মেরে ফেলে চলে যায়।
তখন খুব জোড় করে বেঁচে থাকি,
বলতে পারো জোড় করে বাঁচিয়ে রাখি নিজেকে।

জীবন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×