somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিংবদন্তির চিত্র শিল্পী ভিনসেন্ট ভেন গগ এর জীবনালেখ্য : সে সাথে বাংলাদেশী সহ বিশ্বনন্দিত আরো কিছু শিল্পী ও তাদের মুল্যবান চিত্রকর্ম পরিচিতি ।

১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিশ্বের সবচেয়ে মুল্যবান চিত্রশিল্প সৃজনকারী হিসাবে যাদের নাম প্রথমেই উঠে আসে তাদের মধ্য অন্যতম হলেন ভিনসেন্ট ভেন গগ, লিউ নার্দু দা ভিঞ্চি, পল গাওগিন, পল জিজান, আমেদু মগদিগলিয়ান, গুস্তাভ কিম, পিয়ারে অগাস্তি রিনয়ার, পাবলু পিকাসু, পিটার পল রুবেনস, টিটান, এবং এডওয়ার্ড মেনেট । এছাড়াও আরো অনেক বিখ্যাত চিত্র শিল্পী রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে । আমাদের দেশের প্রথিতযসা কয়েকজন বরেন্য শিল্পী যথা শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদিন , এস এম সুলতান , কাইউম চৌধুরী তাদেরো রয়েছে জগত জোড়া খ্যাতি । এই সল্প পরিসরে এ সমস্ত বিখ্যাত চিত্র শিল্পী ও তাদের কর্ম পরিচিতি তুলে ধরা একান্ত ভাবেই অসম্ভব । উপরে উল্লেখিত শিল্পী ও তাদের গুটি কয়েক বিখ্যাত ও দামী চিত্র কর্মের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হয়েছে । যাদের শিল্প কর্ম ও পরিচিতি এ স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি তাঁদের প্রতি রইল অকৃত্তিম শ্রদ্বা ও ভালবাসা ।

উল্লেখ্য ডাচ চিত্র শিল্পী ভিনসেন্ট ভেন গগের অনেক চিত্র কর্মের মধ্যে একটি চিত্র কর্ম তথা “ দি রেড ভিনিয়ার্ড “ তার জিবদ্দশায় বিক্রয় হয়েছিল, অনেকের বিবেচনায় সেটিকেও বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামী চিত্র কর্ম মোনালিসার সমকক্ষ বলে গন্য করা হয় । লিউনার্দু দা ভিঞ্চি ও ভিনসেন্ট ভেন গগ আমাদের সকলের নিকটই অতি পরিচিত, বিশেষ করে মোনালিসার কল্যানে লিউনার্দু দা ভিঞ্চি এ দেশের ঘরে ঘরে সুপরিচিত । ভেন গগের নামটি কম উচ্চারিত হলেও তার জীবনালাখ্যের সাথে আমাদের দেশের গৌরব এস এম সুলতানের অপুর্ব একটি মিল রয়েছে যা এই সামুর পাতায় প্রকাশিত বিভিন্ন লিখায় প্রভাসিত হয়েছে ।

এই পোস্টের মুল আলোচনা ও ছবি ব্লগে যাওয়ার পুর্বে কিংবদন্তির চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভেন গগের জিবনালেখ্য সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করে নেয়াটা প্রাসঙ্গগিক বলে মনে করি । ভেন গগের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য উপন্থাপনার পর অন্য শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও তাদের মুল্যবান কিছু শিল্প কর্ম তুলে ধরা হয়েছে সে সাথে ।

১৮৫৩ সনে নেদারল্যান্ডের ব্রাবান্ট গ্রামের ঝুনডার্টে ভেন গঘের জন্ম । তিন ভাই তিন বোন। ভাইদের মধ্যে ছোট ভাই থিউ তাঁর জীবনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন , যা লিখার পরের অংশে দেখা যাবে ।
ঝুনবার্টের গ্রামের স্কূলে ভেন গগের শিক্ষা জীবন শুরুর পর সেখানে লেখাপড়ায় মনযোগী না হওয়ায় তাকে ১১ বছর বছর বয়সে নিকটবর্তী জুভেনগার্নের বোর্ডিং স্কুলে ভর্তী করা হয় । শিক্ষাকালের মাঝপথে দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতেই তিনি সে স্কূল ত্যাগ করেন, অজানা কারণে তাঁর আর স্কুলে ফিরে আসা হয়নি ।
স্কুলের লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে গ্রামে উড়নচন্ডির মত জীবন যাপনের কারণে ষোল বছর বয়সকালে তার চাচা তাকে একটি বহুজাতিক আর্ট কোম্পানী গোপী “এন্ড সি” এর অধীনে কেরানীর চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন । চাকিরীতে যোগদানের কিছুদিনের মধ্য়েই তাকে কোম্পানীর লন্ডন শাখায় বদলী করা হয় । সেখানে তার ভাই থিউ পুর্ব থেকেই কর্মরত ছিলেন ।
লন্ডন অবস্থানকালীন সময়ে তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও ন্যাশনাল গ্যালারীতে অনেক বিখ্যাত শিল্পকর্ম বিশেষত ফ্রাঙ্কিস মিলেট এবং জুলিশ ব্রিটন কৃত কৃষকের উপর অঙ্কিত শিল্পকর্ম গুলী গভীর অন্তরদৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করেন । তিনি মিউজিয়ামের গাইড বই , মেগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকি থেকেই বিভিন্ন শিল্পকর্মের উপরে পড়াশুনা করেন । লন্ডনে বছর দুয়েক না কাটতেই তাকে ১৮৭৫ সালে প্যরিসে বদলী করা হয় যেখানে তিনি ধর্মীয় বিষয়াদির প্রতি বেশী অনুরক্ত হয়ে পড়েন । কর্মের থেকে ধর্মের দিকে বেশী মনযোগ দেয়ায় এক বছরের মাথায় ১৮৭৬ সালে তাকে চাকুরী হতে বরখাস্ত করা হয়
চাকুরী হতে বরখাস্ত হওয়ার পরে তিনি আবার ইংল্যান্ডে ফিরে যান এবং রামসগেইটে একটি বোর্ডিং স্কুলে অবৈতনিক সহকারী শিক্ষকের কাজ নেন । পরে অবশ্য লন্ডনের নিকটে একটি স্কুলে সবেতনে কাজ করার সুযোগ পান । তাঁর দায়িত্ব ছিল স্কুলে ও আশেপাশের গ্রামে বাচ্চাদেরকে ধর্ম শিক্ষা দেয়া । কিনতু এই চাকরীটা ছিল একান্তই সাদামাটা যেখানে ভবিষ্যত উন্নতির কোন সম্ভাবনাই ছিলনা, তাই পিতামাতার পরামর্শ অনুযায়ী ভেন গগ ইংল্যান্ড ছেড়ে তাদের কাছে নেদারল্যন্ডেই ফিরে ফিরে যান।
তার চাচার সহায়তায় ১৯৭৭ সালে স্থানীয় একটি বই এর দোকানে বই বিক্রেতা হিসাবে একটি চাকরী পান কিন্তু ভেন গগ আবারো ধর্মের দিকেই বেশি যোকে পরেন । এর মাস কয়েক পরে পারিবারিক সিদ্বান্ত অনুযায়ী ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে ( theology) পড়াশুনার জন্য তাকে আমস্টারডামে একটি স্কুলে ভর্তী করানো হয় , কিন্তু স্কুলের সে পাঠও তিনি শেষ করেন নাই । পাঠে মনোনিবেশ না করে গ্রামাঞ্চলের নিভৃত আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানোতেই বেশী সময় দেন । এর ফলে সেখানেও অকালেই তাঁর পাঠের ইতি ঘটে ।
লেখাপড়ার পাঠ চুকে গেলেও ভেন গগ ভগবান সেবায় নীজকে নিবেদিত করাতেই বেশী উদ্দিপিত হন । জীবনের একটি নতুন ব্রত নিয়ে তিনি বেলজিয়ামের উদ্দেশ্যে আমস্টারডাম ত্যাগ করেন এবং সেখানকার একটি কয়লা খনি এলাকায় ধর্মযাজকের কর্ম শুরু করেন , পিড়িত কয়লা খনি শ্রমিকদের পাশে গিয়ে তাদেরকে বাইবেল পাঠ করে শুনানুই ছিল তাঁর কাজ । তিনি সেখানকার কয়লা খনিতে দরিদ্র খনি শ্রমিক পরিবারের সাথে দিন দিন কাটাতেন । তাদের সাথে মেঝেতে শুয়ে নিদ্রা যেতেন এবং নীজের সর্বস্য তাদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন । তাঁর বদান্যতা এমন পর্যায়েই পৌঁছেছিল যে তাকে কয়লা খনির খৃষ্ট হিসাবে অভিহিত করা হত । এ সময় তিনি কয়লাখনিতে যা দেখতেন তার ছবি আকতেন। ১৮৭৯ সালে তিনি কয়লা খনির জলন্ত চুল্লীর একটি রেখ চিত্র (sketch ) আঁকেন ।
ছবি-১/৩৬ : কয়লা খনিতে জলন্ত চুল্লীর একটি রেখ চিত্র (sketch ) : ১৮৭৯


চিত্র শিল্পী হিসাবে টার্নিং পয়েন্ট
এসময় ভেন গগ সেখানে যা দেখতেন তার স্কেচ এঁকে চিঠির সাথে তার ভাই এর কাছে পাঠাতেন । এটাই তার জীবনে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে দেখা দেয় ,কারণ তাঁর আঁকা স্কেচগুলি দেখে অভিভুত হয়ে থিও তাকে ছবি আঁকায় বেশী মনযোগী হতে বলেন । এটা শুনে ভেন গগ মনে করেছিলেন ছবি আঁকার মাধ্যমেই তিনি আরো বেশী করে ভগবান সেবায় মনোনিবেশ করতে পারবেন । যাহোক ভাই এর প্রেরণায় ১৮৮০ সনে তিনি ব্রাসেলসে গমন করে চিত্র অংকন কৌশলের উপর কাজ শুরু করেন এবং সেখানকার শিল্পীদের সাহচর্যে আসার সুযোগ পান । এ সময় তাঁর কোন চাকুরী ছিলনা তবে তার ভাই থিও তাকে হাত খরচের জন্য টাকা পাঠাতেন ।
ভেন গগের বোহেমিয়ান জীবনের আর এক করুন অধ্যায়ের শুরু হয় এখান থেকেই । ১৮৮১ সালে ভেন গগ তাঁর পিত্রালয়ে ফিরে যান এবং ছবি আঁকা আঁকির কাজে সময় দেন । তার ভাই থিউ তাকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা দেন । কিন্ত এ সময় ভেন গগ আর এক বিপত্তি বাধিয়ে বসেন । তিনি তার বিধবা চাচাতো বোন ‘কি বচে’র সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন , তাঁর পরিবারের লোকজন এটাকে সহজভাবে মেনে নেননি , ফলে ভেন গগকে আবার ঘর ছেড়ে বের হয়ে যেতে হয় , এবার তিনি হেগে তার নতুন নিবাস গড়েন ।
সেখানে তিনি দেখা পান হেগের সেলিব্রটেট আর্টিস্ট এনটন মভের । তিনি ভেন গগকে অংকন শিল্পের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে বিশেষ করে জল রং ও তৈল কর্মের উপর শিক্ষা দান করেন ও নিয়মিত তার স্টূডিও ব্যাহারের সুযোগ দেন । এর মাঝে সেখানেও ঘটে আর এক বিয়োগান্তক ঘটনা । ১৮৮২ সালে ভেন গগ দেখা পান ‘শীণ হুমিক’ নামক এক মহিলার পে ক্রমান্বয়ে তাঁর মডেল ও প্রেমিকায় পরিনত হয় । গগের এ আচরণ তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে একেবারেই মনপুত হয়নি । কারণ শীণ একেতু ছিল একজন প্রাক্তন পতিতা তার উপরে ছিল গর্ভবতী ও সাথে পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান । এতে ভেন গগ দু:খিত হলেও কন্যা শিশুটির দেখবালের দায়িত্ব ঠিকই গ্রহণ করেন । তিনি একটি নতুন স্টডিও ভাড়া নেন যা ছিল তিন জনের বসবাস উপযোগী । তাঁর ভাই থিউ বিষয়টি মেনে নিতে না পারলেও তার অর্থ সহায়তা বন্ধ করেনি । কিন্তু বিভিন্ন তিত্ততার কারণে শীনের সাথে তার সম্পর্ক অচিরেই ভেঙ্গে যায় । এ সময় ভেন গগ রচনা করেন তার “ দু:খ ও মায়ের কোলে শিশু “ শির্ষক চিত্র কর্মটি ।
ছবি-২/৩৬ : দু:খ ও মায়ের কোলে শিশু : ১৮৮২


শীনের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ভেন গগ শহড় ছেড়ে ড্রেনথির গ্রামাঞ্চলে গমন করেন এবং সেখানকার প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে ল্যন্ড স্কেপের উপর বেশ কিছু চিত্র কর্ম করেন । কিন্তু ড্রেনথির গ্রামাঞ্চলের বৃস্টি , ও অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় টিকতে না পেরে তিনি আবার তার নীজ গ্রাম ব্রাবান্তে ফিরে যান।
ছবি-৩/৩৬ : Women on the Peat Moor, : ১৮৮৩


১৮৮৩- ৮৫ সময়কালে ভেন গগ নীজগ্রামে অবস্থান করে চাষাভুষাদেরকে নিয়ে ছবি আঁকেন । কথা ছিল ভেন গগ ছবি আঁকবেন আর থিউ তা প্যরিসে বিক্রয় করবেন , কিন্তু প্যরিসে ভেন গগ এর ডার্ক কালার ছবি তেমন কোন দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেনি এসময়কালে তিনি আঁকেন পটেটু ইটার্স এর মত বিখ্যাত চিত্র ।

মডার্ন আর্ট সম্পর্কে জানা ও শিখার বাসনা নিয়ে ১৮৮৬ সালে তাঁর ভাই থিউ এর কর্মস্থান ও শিল্প কর্মের তীর্থভুমি প্যরিসে গমন করেন এবং সে সময়কার অনেক বিখ্যাত চিত্র শিল্পীর সান্নিধ্যে আসেন ।
প্যরিসে আসার পর তাঁর ডার্ক কালার ছবিগুলি অনেকটা ব্রাইটার কালার পেতে থাকে যার প্রমান তার পটেটু ইটার থেকে স্টোন কোয়ারী ছবিতে দেখা যায়

ছবি ৪/৩৬: পটেটু ইটারস ডার্ক কালার ছবি ১৮৮৫ দি হিল অফ মনটেমরী উইথ স্টোন কোয়ারী১৮৮৬


প্যরিসে অবস্থান কালে জাপানী চিত্র কর্ম দর্শনে তাঁর মননে একটি বৈচিত্রতা আনে । তাঁর ছবিতে ব্রাইটার কালার আরো বিকসিত হতে থাকে ।
ছবি ৫/৩৬ :
বামে ১৮৫৭ সালে জাপানী শিল্পী ওতাগা হিরুসির আঁকা Sudden Shower on the Great Bridge near Atake, এবং ডানে ১৮৮৭ সনে ভেন গগের আঁকা Bridge in the Rain (after Hiroshige


প্যরিসে বছর দুয়েক থাকার পর শহুরে জীবনে ভেন গগ আবারো হাপিয়ে উঠেন , তিনি ফিরে যান প্যরিসের দক্ষিনাচলে ছোট রোন নদী কুলে Arles গ্রমে ।গ্রামাঞ্চল তাকে বিমোহিত করে, তিনি জাপানী ল্যান্ডস্কেপে আকৃস্ট হন , এ সময়ে অনেক লেন্ডস্কেপ আঁকেন যার মধ্যে ফুলদানীতে চাইনীজ ফুল এবং পেডি ফিল্ড এর উপর অনেক কাজ রয়েছে ।
ছবি ৬/৩৬ : ফুলদানীতে চাইনীজ ফুল


ছবি ৭/৩৬ : ভেন গগ : paddy field


এখানে তিনি আর এক বিখ্যাত চিত্র শিল্পি পল গাওগিন ( Paul Gauguin) এর সাথে যৌথভাবে একই স্টূডিওতে কয়েকটি ব্যতিক্রমী কাজ করেন । অবশ্য এই সময়ে গগিনের সাথে তাঁর অনেক বিষয়ে তীব্র মতরিরূধ হত । তার পরেও তিনি গাওগিন উপর একটি পোট্রেট করেন ।
ছবি ৮/৩৬ : পল গাওগিন উপর একটি পোট্রেট :১৮৮৮


গাওগিনের কাজগুলি যেখানে মুলত স্মৃতি ও কল্পনার উপর ভিত্তি করে রচিত সেখানে ভেন গগ কাজ করতেন বাস্তবতার নিরিখে চোখের সামনে যা দেখতেন তাকেই শিল্প কর্মে ফুটিয়ে তুলতেন, তাঁর ছবি যেন বাস্তবেরই কথা বলত । এই বিপরিত মুখীতা দুজনের মধ্যে ক্রমান্বয়ে একটি বড় ধরনের অন্ত : দ্বন্দ্ব তৈরী করে । এর ফলে গাওগিন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইলে ভেন গগ উত্তেজিত হয়ে পরেন এবং এটা তার উপর একটি ভীষন মানসিক চাপের জন্ম দেয় । তিনি গাওগিন কে ধারালো ক্ষুর দেখিয়ে কিছু একটা করার ঈঙ্গীত দেন । ঐদিনই সন্ধায় তিনি ক্ষুর দিয়ে তার নীজের এক কান কেটে ফেলেন এবং খবরের কাগজের টুকরো দিয়ে কাটা কান মুরিয়ে রাখেন । পরদিন এটা স্থানীয় সংবাদ পত্রের খবর হয় ।
কান কাটার সংবাদ পেয়ে তার ছেট ভাই থিউ প্যরিস থেকে এসে তাকে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যান । গাওগিনের সাথে যৌথভাবে স্টুডিওতে কাজ করার স্বপ্ন তার এখানেই শেষ হয় ।
ছবি ৯/৩৬ : ভেন গগের কাটা কানে বেন্ডিজ : ১৮৮৯


জানুয়ারী ১৮৮৯ এর শেষ দিকে হসপিটাল থেকে ফিরে এসে তিনি আবার ছবি আঁকায় মন দেন কিন্তু তার মানসিক ভারসাম্য দোলায়মান হওয়ার কারণে মাসখানেকের মধ্যে তিনি স্বত প্রনোদিত হয়ে আবারো সেন্ট রিমিতে মানসিক হাসপাতালে ভর্তী হন । এখানে তিনি বেশ আরোগ্য লাভ করেন এবং হসপিটালের বাইরে বাগানে বেড়ানো এবং বাগানের ভিতরে বসে ছবি আঁকার সুযোগ পান । এখানে এক বছর অবস্থান কালে তিনি প্রায় ১৫০ টির মত ছবি আঁকেন যার মধ্যে আলমন্ড ব্লজম এর মত বিখ্যাত শিল্প কর্মও অন্তর্ভুক্ত ।
ছবি ১০/৩৬ : আলমন্ড ব্লজম : ১৮৮৯


প্রসংসা ও স্বীকৃতির শুরু
১৯৮০ সনের পথম দিকে আর্টিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে ভেন গগের ছয়টি চিত্রকর্ম স্থান পায় এবং এর মধ্যে “দি রেড ভিনিয়ার্ড’’ নামের একটি চিত্র বিক্রিত হয় । এ বিষয়ে এ লিখার পরে অংশে বিস্তারিত বলা হয়েছে । ইতিমধ্যে থিউ অবশ্য তাঁর কিছু চিত্রকর্ম প্যরিসের ‘Salon des Indépendants এ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন যা ভাল দর্শক সারা পেয়েছিল বলেও জানা যায় ।
১৮৯০ এর মে মাসে ভেন গগ সেন্ট রিমী হসপিটাল ত্যাগ করে প্যরিসের উপকন্ঠে Auvers-sur-Oise তে গমন করেন এবং সেখানে বেশ কিছু শিল্পির সান্নিধ্যে বসবাস করেন । সেখানে ড: পল গেসেট নামে একজন ডাক্তার তাঁর উপর নজর রাখতেন , এবং সে ডাক্তার ছিলেন খুবই বন্ধু ভাবাপন্ন এবং তিনি ভেন গগকে শিল্প কর্মে পুর্ণ মনযোগ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন । ড: গেচেট এর উপরে ভিনসেন্ট এতই খুশী ছিলেন তিনি তাকে নিয়ে একটি পোট্রেটও করেছেন , যার বিবরণ ও বর্তমান বাজার দরে হাজার কোটি টাকা মুল্যমানের চিত্র সম্পর্কে এ লিখার পরবর্তী অংশে বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে ।
ভেন গগের আর্থিক দুরাবস্থা
১৮৯০ এর শেষভাগে তাঁর অর্থ সহায়তাকারী ছেটভাই থিউ চাকরী ছেড়ে দেয়ার কথা তাকে জানান দেয়ায় অর্থ প্রাপ্তির দু:শ্চিন্তায় ভেন গগকে উদ্ববিগ্ন করে তুলে । তিনি তার ভাইকে এ সময় লিখা চিঠিতে জানান যে তার অবর্ণীয় দু:খ দুর্দশার কথা ভাষায় পএকাশ করতে পারবেন না, তবে এসময়ে তিনি যে বৃহৎ কেনভাসের উপর বিক্ষিপ্ত আকাশের নীচে গমক্ষতের উপর ছবি আঁকছেন সে গুলির দিকে তাকালে থিউ বুজতে পারবে কেমন যাচ্ছে তাঁর একাকিত্ব ও দু:খ কস্টের দিনগুলি । নীচে ল্যন্ডস্কেপের উপর ছবি তিনটি দেখানো হল।
ছবি ১১/৩৬ : ভেন গগ : মেঘের বর্জ তলে গম ক্ষেত (Wheatfield under Thunderclouds):১৮৯০


ছবি ১২/ ৩৬: ভেন গগ : গম ক্ষেতে কিষান ১৮৮৯


ছবি ১২ :ভেন গগ : গম ক্ষেতের উপর কাক: ১৮৯০


ভেন গগের আত্মহত্যা
তাঁর নীজের শারিরিক অসুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এতই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে ২৭ জুলাই ১৮৯০ সালে তিনি একটি গম ক্ষেতের মধ্য ভাগে পদচারণা করার সময় পিস্তল দিয়ে নীজের বুকে নীজেই গুলি করেন । আহত শিল্পী নীজ ঘরে ফিরে এসে যথোপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে দুই দিন মৃত্যু যন্ত্রনায় ভুগে তার ভাই থিউ এর উস্থিতিতিতে ২৯শে জুলাই ১৮৯০ সনে আভার্সে (Auvers ) ইন্তেকাল করেন । মৃত্যু কালে তিনি অমুল্য ৮৫০ টি চিত্রকর্ম এবং কাগজের উপরে প্রায় ১৩০০ স্কেচ বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়ে যান । তাকে প্যরিসের উপকন্ঠে ( প্যরিস হতে ২০ মাইল দুরে) আভার্স এর মিউনেসিপাল গুরস্থানে দাফন করা হয় ।
ভিনসেন্ট ভেন গগের মৃত্যুর ছয় সপ্তাহের মধ্যে ছোট ভাই থিউ তার শিল্প কর্ম নিয়ে একটি স্মৃতি প্রদর্শর্নীর আয়োজন করেন । প্রদর্শনীটি সমাপনের দিন কয়েক পর থিউ ভিষনভাবে স্নায়ু বৈকল্পে পতিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তী হন । ভেন গঘের মৃত্যুর পর মাত্র ছয় মাসের মাথায় জানুয়ারী ১৮৯১ সনে ভেন গগের সুহৃদ অনুপ্রেরণা ও অর্থসংস্থানকারী থিউ মৃত্যুমুখে পতিত হন । তাকে প্রথমে উরিস্টে দাফন করা হলেও পরে ১৯১৪ সনে তার মরদেহ স্তানান্তরিত করে ভাই এর পাশে সমাধিস্থ করা হয় ।
ছবি ১৩ : ভিনসেন্ট ভেন গগ ও তার ভাই থিউ এর কবর


ভেন গগের মৃত্যুর পর তার চিত্র কর্মগুলিকে সংরক্ষনের জন্য ১৮২৫ সনে থিউ এর পুত্র ভিনসেন্ট উইলিয়াম গগের কাছে দেয়া হয়, তিনি পরে ১৯৩০ সনে চিত্র কর্মগুলিকে সংরক্ষনের জন্য আমস্টারন্ডামের স্টেজিক মিউজিয়ামের কাছে ধার হিসাবে প্রদান করেন । ভেন গগের খ্যাতি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে তার চিত্র কর্মগুলির সঠিক সংরক্ষন ও প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হতে থাকে । ১৯৬২ সনে নেদারল্যন্ড সরকার ভেন গগ ফাউন্ডেশন সৃজন করেন এবং তার নামে একটি মিউজিয়াম নির্মান করেন । ১৯৭৩ সনে নেদারল্যন্ডের রানী জুলিয়ান ভেন গগ মিউজিয়ামের দ্বার উন্মোচন করেন এবং সকলের দর্শনের নিমিত্ত এটাকে চিরদিনের জন্য উম্মোক্ত করে দেন ।
ছবি ১৪/৩৬: ভিনসেন্ট ভেন গগ মি্উজিয়াম



২য় অধ্যায় : বিশ্ববিখ্যাত চিত্র শিল্পী ও তাদের মুল্যবান কর্ম পরিচিতি

ভিনসেন্ট ভেন গগ : চিত্রটির নাম “দি রেড ভিনিয়ার্ড” এটা তাঁর জীবদ্দশায় বিক্রিত এক মাত্র শিল্পকর্ম ।
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র , সাইজ : ৭৫ × ৯৩ সেমি: তারিখ : ১৮৮৮
বর্তমান অবস্থান : পুসকিন মিউজিয়াম, মস্কো
ছবি -১৫/৩৬ : “দি রেড ভিনিয়ার্ড” : ১৯৮৮


১৮৮৮ সালের অক্টোবরে ভিনসেন্ট ভেন গগ তাঁর চাচা ইউগেন বচের কাছে পাঠানো এক পত্রে ‘দি রেড ভিনিয়ার্ড’’ চিত্র প্রকল্পের নিম্ন রূপ বিবরণ দিয়েছেন

"Ah well, I have to go to work in the vineyard, near Mont Majour.
It’s all purplish yellow green under the blue sky, a beautiful, colour motif."
১৫ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে ব্রাসেলসের সেলুন ডি এক্ম এক্স (salon de XX ) প্রদর্শনীতিতে শিল্প কর্ম উপস্থাপনের জন্য অকটেভ মাউস ভেন গগের কাছে একটি আমন্ত্রণ পত্র প্রেরণ করেন । সে প্রেক্ষিতে ভেন গগ প্রদর্শনীতে উপস্থাপনের জন্য তার ৬টি চিত্রকর্ম প্রেরণ করেন , এর মধ্য়ে ‘দি রেড ভিনিয়ার্ড “ চিত্রটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল ।
প্রেরিত শিল্প কর্মগুলি প্রদর্শনীর বিষয়ে সেখানে অবশ্য একটি বিতর্কের সৃস্টি হয়েছিল । শিল্প কর্মগুলিকে অফিসিয়াল কিংবা একাডেমিক হিসাবে গন্য করা হবে কিনা তাই নিয়ে বিতর্কের সুত্রপাত । বলা হচ্ছিল যেহেতু শিল্প কর্মগুলী কালত্তীর্ণ অভিক্ষা taste of the time পার হয়নি , সেহেতু এগুলিকে অফিসিয়াল শিল্পকর্ম হিসাবে গন্য করা যাবেনা । প্রদর্শনীটির সহ-অংশীদার হেনরী ডি গ্রক্স ভেন গগের শিল্প কর্মকে প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহারের জন্যও মতামত রেখেছিলেন । কিন্ত্ আর্টিস্ট জার্নালে ভেন গগকে বহুল আলোচিত আর্টিস্ট হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে বলে প্রদর্শনীটির সহ-অংশীদার ও সম্পাদক মাউস অকটেভ জোড়ালো ভুমিকা রাখেন এবং চিত্র কর্মগুলিকে প্রদর্শনীতে ঠাই করে দেন । সে সময়কার কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী ক্লড মোনেটের মতে ভেন গগের কর্মগুলিই ছিল প্রদর্শনীর সেরা শিল্প কর্ম ।
চিত্র প্রদর্শনীটি ১৮ জানুয়ারী ১৮৯০ এ শুরু হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৮৯০ পর্যন্ত চালু ছিল । ভেন গগের প্রতি গন সমর্থন দেখানোর জন্য আন্না বচ দি রেড ভিনিয়ার্ড চিত্রকর্মটি ক্রয়ের সিন্ধান্ত নেন এবং এটিকে ৪০০ ফ্রা ( বর্তমান বাজার মুল্যে ২০০০ ডলার সমপরিমান ) দিয়ে ক্রয় করেন । এটা ক্রয়ের পিছনে আরো একটি বড় কারণ ছিল এই অপরূপ শিল্প কর্মটিকে তিনি খুবই পছন্দ করেছিলেন । তাছাড়াও একজন অভাবী শিল্পীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করাও তার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য ছিল ।


আন্না বচ এই শিল্প কর্মটি ক্রয়ের মাধ্যমে ভেন গগের জীবদ্দশায় তাঁর একমাত্র বিক্রিত শিল্প কর্মের সাথে তার নীজের নাম টিকেও ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন ।
১৮৯০ -১৯০৬ পর্যন্ত “দি রেড ভিনিয়ার্ড “ আন্না বচের ব্রাসেলস এর ভিলা আন্নার নীচ তলায় অতিথি আপ্যায়ন ঘরের দেয়ালে শোভা পাচ্ছিল ।
১৯০৬ সনে “দি রেড ভিনিয়ার্ড “ প্যারিসে অবস্থিত গ্যলারী বার্নহেইম জুনে’ ১০০০০ ফ্রা এর বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়া হয় । আন্না বচ টাকার প্রয়োজনে এটা বিক্রয় করেন নাই । তিনি ভেন গগের চিত্র কর্মকে খুবই ভাল বাসতেন । তবু তিনি চিত্র শিল্প কর্মের উন্নতি ও প্রসারের জন্য “দি রেড ভিনিয়ার্ড” এর বিক্রয় লব্ধ অর্থ ব্রাসেলস এর Royal Museeums of Fine Arts কে দান করে দিয়েছিলেন ।
১৯০৬ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত “দি রেড ভিনিয়ার্ড “ এর অবস্থান ছিল মস্কোর ট্রবেজকি প্রাসাদে
সেই বছরেই অর্থাৎ ১৯০৬ সালেই এটাকে রাশিয়ান বস্র ব্যবসায়ি সার্গে শুকিন ক্রয় করে নেন । তিনি এটাকে তার মস্কোতে অবস্থিত ট্রভেসকি প্রাসাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় ঠাই দেন । এর পাশে ছিল পিকাসোর ৫৭ টি , ম্টিসের ৩৮টি , গগিনের ১৬ টি , মনোনেটের ১৩টি এবং সিজেনের ৮ টি চিত্রকর্ম । দি রেড বিনিয়ার্ডের সাথে ভেন গগের আরো ৪ টি শিল্প কর্মও ছিল সেখানে । এ সমস্ত শিল্পীর চিত্র ছাড়াও তার সংগ্রহ শালায় আরো অনেক বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রকর্মও ছিল ।
১৯০৯ সালে সার্গে শুকিনের স্রীর মৃত্যুর পর শুকীন তার সংগ্রহের শিল্প কর্মগুলি তার অবর্তমানে রাশিয়ান সরকারের সম্পত্তি বলে গন্য হবে মর্মে উইল করে দেন ।
১৯১৮ সালের নভেম্বরে রাশিয়ান বিপ্লবের পরে লেলিন আইন করে শুচিনের সংগ্রহশালার চিত্র গুলিকে রাস্ট্রীয় সম্পত্তিতে অধিভুক্ত করে নেন এবং বাড়ীটিকে স্টেট মিউজিয়াম অফ ওয়েস্টার্ন আর্ট এ পরিনত করেন । শুকিন অবশ্য প্যারিসে চলে যেতে সক্ষম হন এবং তার জীবনের বাকিটা সময় সেখানেই কাটান ।
১৮৪১ সনে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় বোমা এবং নাৎসিদের হাত থকে রক্ষা করার জন্য রাশিয়ার সরকার অন্য শিল্প কর্মের সাথে এটিকেও নোভোসিবিরস্কতে সরিয়ে ফেলেন এবং সেখান হতে কিছু নিয়ে যা ওয়া হয় পুসকিন মিউজিয়ামে আর কিছু নিয়ে যাওয়া হয় সেন্ট পিটার্সবার্গে । দি রেড ভিনিয়ার্ডকে নিয়ে যাওয়া হয় পুসকিন মিউজিয়ামে ।
১৮৪৮ এর পর থেকে এই শিল্প কর্মটি মস্কোর “পুসকিন মিউজিয়ামেই’ আছে ।
বলা হয়ে থাকে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী চিত্র কর্ম হিসাবে চিহ্নিত হবে , যদি এটাকে কখনো বিক্রয় করা হয় ( যদিও এ সম্ভাবনা এখন একেবারেই নেই )। এটার মুল্য শুধু অপরূপ শিল্প কর্ম বলেই নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্ব বিখ্যাত কিংবদন্তির চিত্রশিল্পীর জীবদ্দশার একমাত্র বিক্রিত শিল্প কর্মের ইতিহাস ।
জগত বিখ্যাত শিল্পী লিউ নার্দু দা ভিঞ্চির মোনালিসাই হতে পারে আর একটি সবচেয়ে মুল্যবান শিল্পকর্ম যদি তা একই অকসানে বিক্রয় করা হয় (প্যরিসের লাভরী মিউজিয়ামে রক্ষিত এ শিল্প কর্মটিরও বিক্রয়ের জন্য আদৌ আর অকশনে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই ) । তবে ১৫০৩-০৬সময়কাল ৭৭ X ৫৩ সেমি: সাইজের এই পেইন্টিংটিকে ১৯৬২-৬৩ সনে বীমার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারে মূল্যায়ন করা হয়, সে সময়ে বীমা কেনা হয় নি, পরিবর্তে এর নিরাপত্তা য় আরো অর্থ ব্যয় করা হয়। মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে এবং মুদ্রাস্ফীতি হিসাবে ধরে ১৯৬২ সনের বীমার জন্য ধার্যকৃত ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যমাপের এ চিত্রটির মুল্য ২০১৫ সনে এসে দাঁড়ায় প্রায় ৭৮২ মিলিয়ন ডলারে, যা টাকার মুল্যে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার উপরে । তাই এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পেইন্টিং বলেই এখন পর্যনত গন্য করা হয় ।
ছবি -১৬/৩৬ : লিউনার্দু দা ভিঞ্চি অঙ্কিত মোনালিসা


পল গাওগিন( Paul Gauguin) : চিত্রটির নাম : কখন তুমি করবে বিয়ে (When Will You Marry?)
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র , সাইজ : ১০১ X ৭৭ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৯২ সন, বিক্রয়ের তারিখ : ফেব্রুয়ারী ২০১৬
মুল্য : ৩০০ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২৩৫০ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান: Reina Sofía museum in Madrid
ইউগেন হেনরী পল গাওগিন ( জন্ম ৭জুন ,১৮৪৮, - মৃত্যু ৮ মে ১৯০৩) একজন ফরাসী পোস্ট প্রতিচ্ছায়াবাদী শিল্পী (post-Impressionist artist) । মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত তিনি বলতে গেলে ছিলেন লোক চক্ষুর অগোচরে । মৃত্যুর পর তাঁর শিল্পকর্মের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেন বিশেষ করে আর্ট ডিলার এমব্রোজ ভলার্ড আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ।
ছবি-১৭/৩৬ : কখন তুমি করবে বিয়ে (When Will You Marry?) : ১৮৮২



পল জিজান (Paul Cézanne) : তাস খেলোয়ার (The Card Players)
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৯৭ X ১৩০ সে মি :
অংকন কাল : ১৮৯২ বিক্রয়ের তারিখ : এপ্রিল ২০১১
মুল্য : ২৭২ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২১৩১ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : রাজকীয় কাতার পরিবারের কাছে
পল জিজান ( জন্ম ১৯ জানুয়ারী ১৮৩৯- ২২ অকটোবর ১৯০৬) ১৯ শতকের ইমপ্রেশনিজ্ম অংকন শৈলী এবং বিশ শতকের কিউবিজমের মধ্যে সেতু বন্ধন রচনা করে একটি নতুন ধারা সৃজন করেছেন বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে । মাটিস এবং পিকাসু উভয়েই জিজানকে নতুন ধারার জনক হিসাবে হিসাবে মন্তব্য করেছেন
ছবি -১৮/৩৬ : তাস খেলোয়ার (The Card Players) : ১৮৯২



আমেদু মগদিগলিয়ান Amedeo Modiglian : চিত্রটির নাম Nude Sitting on a Divan
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৬০ X ৯২ সে মি :
অংকন কাল : ১৯১৭ বিক্রয়ের তারিখ : ৯ নভেম্বর ২০১০
মুল্য : ৭৪.৮ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : Liu Yiqian, owner, Shanghai, China
Amedeo Clemente Modigliani ( জন্ম ১২ জুলাই ১৮৮৪ - মৃত্যু ২৪ জানুয়ারী ১৯২০) একজন ইতালীয় চিত্রশিল্পী এবং ভাস্ককর্যবিদ যিনি প্রধানত ফ্রান্সে কাজ করেছেন । তিনি পোর্ট্রেট , মুখমন্ডল ও সংখ্যাতাত্বিক শৈলীতায় নগ্নতাকে অঙ্কব শিল্পে টেনে এনেছেন , জীবদ্দশায়ই তার ভাল কোন প্রাপ্তি ছিল না , তিনি পরিচিতি ও স্বীকৃতি পান মৃত্যুর অনেক বছর পরে । রেনেসাঁ শিল্প চর্চিত প্যারিসে অবস্থান কালে তিনি পাবলো পিকাসো এবং কনস্ট্যান্টিন ব্রাংকোসের মত বিশিষ্ট শিল্পীর সংস্পর্শে আসেন ।
ছবি -১৯/৩৬ : Nude Sitting on a Divan : ১৯১৭



গুস্তাভ কিম Gustav Klimt : চিত্রটির নাম Portrait of Adele Bloch-Bauer I
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১৪০ X ১৪০ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৯০৭ বিক্রয়ের তারিখ : ১৮ জুন ২০০৬
মুল্য : ১৫৮.৫০ মিলিয়ন ডলার, এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১২৪২ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : Neue Galerie New York
গুস্তাভ Klimt (জন্ম ৪ জুলাই, ১৮৬২ - মৃত্যু ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯১৮) একজন অস্ট্রীয় প্রতীকাশ্রয়ী ঘরানার বা প্রতীকীবাদী কবি ও চিত্রশিল্পী । তিনি ভিয়েনা বিচ্ছিন্নতাবাদ আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন । পেইন্টিং, ম্যুরাল, স্কেচ, এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর শিল্প কর্মের জন্য গুস্তাভ তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেন । তাঁর শিল্প কর্মের প্রধান বিষয় নারী দেহ, এবং তাঁর কাজ একটি অকপট কামদ দ্বারা চিহ্নিত । তাঁর রূপক কাজের মধ্যে পোর্ট্রেট ছাড়াও রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ ।
ছবি -২০/৩৬ : Portrait of Adele Bloch-Bauer I : ১৯০৭



ভিন সেন্ট ভেন গগ , চিত্রটির নাম Portrait of Dr. Gachet
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৬৭ X ৫৬ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৯০ বিক্রয়ের তারিখ : ১৫ মে ১৯৯০
মুল্য : ১৪৯.৪ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য) ঐ সময় কার বিক্রয় মুল্য ছিল ৮২.৫ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১১৭১ কোটি টাকা , টাকার অংকে মুল্যায়ীত এটা ভেন গগের সবচেয়ে দামী চিত্রকর্ম ।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা , টোকিও জাপান
ছবি -২১/৩৬ : Portrait of Dr. Gachet : ১৮৯০



পিয়ারে অগাস্তি রিনয়ার Pierre-Auguste Renoir চিত্রটির নাম Bal du moulin de la Galette
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১৩১ X ১৭৫ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৭৬ বিক্রয়ের তারিখ : ১৭ মে ১৯৯০
মুল্য : ১৪১.৫ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য) ঐ সময় কার বিক্রয় মুল্য ছিল ৭৮.১০ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১১৭১ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান: প্যরিসের Musée d'Orsay
পিয়ের-অগাস্ট জঁ রিনয়ার, সাধারণভাবে অগাস্ট রিনয়ার নামে পরিচিত (জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৪১ - মৃত্যু ২ ডিসেম্বর ১৯১৯ ), একজন ফরাসি শিল্পী যিনি প্রতিচ্ছায়াবাদী চিত্র শৈলীর একজন অগ্রণী চিত্রকর ছিলেন , সৌন্দে্যের পুজারী বিশেষত মেয়েলী যৌনতার প্রতিকী শিল্পী হিসাবে " রিনয়ার নাম সমধিক পরিচিত ।
ছবি ২২/৩৬ : Bal du moulin de la Galette : ১৮৭৬



পাবলু পিকাসু (Pablo Picasso) চিত্রটির নাম Garçon à la pipe
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১০০ X ৮১.৩ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৯০৫ বিক্রয়ের তারিখ : ৪ মে ২০০৪
মুল্য : ১৩০.৫ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য) ঐ সময় কার বিক্রয় মুল্য ছিল ১০৪.৩ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০২৩ কোটি টাকা
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ব্যক্তিগত সংগ্রহে (Chairman Guido Barilla, an Italian food company)
পাবলো রুইজ ওয়াই পিকাসো, সর্বসাধারণের কাছে পাবলো পিকাসো নামে পরিচিত ( জন্ম ২৫ অক্টোবর ১৮৮১ – মৃত্যু ৮ এপ্রিল ১৯৭৩ ) একজন স্পেনীয় চিত্রশিল্পী, তিনি একজন ভাস্কর্যবিদ , মঞ্চ ডিজাইনার কবি ও নাট্যকার হিসাবেও বিশ্ব নন্দিত । জীবনের অধিকাংশ সময় ফ্রান্সে ব্যয় করেছেন । বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পী হিসাবে গণ্য । তিনি কিউবিস্ট আন্দোলনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা , কিউবিক নির্মাণ ভাস্কর্য কে চিত্র শিল্পের মাঝে সাফল্যের সাথে প্রয়োগ করেছেন । বিংশ শতাব্দির প্রারম্বে কিউবিজম ইউরোপীয় পেইন্টিং সঙ্গীত, সাহিত্য , স্থাপত্য এবং ভাস্কর্য শিল্পে বৈপ্লবিক প্রভাব বিস্তার করেছে ।
ছবি ২৩/৩৬ : ১৯১০ সালে ১০০ x ৭৩ সেমি: কেনভাসের উপর পাবলু পিকাসুর আঁ কা Girl with a Mandolin কিউবিসিজম ধারার একটি তৈল চিত্র ( শিল্প কর্মটি নিউ ইয়র্কের মিউজিয়াম অব আর্টে প্রদর্শনের জন্য রক্ষিত আছে )


এবার দেখা যাক পাবলু পিকাসুর বিশ্ব বিখ্যাত চিত্র কর্মটিকে
চবি -২৪/৩৬ : পা্বলু পিকাসু ; Garçon à la pipe : ১৯০৫



লিউনার্দু দা ভিঞ্চি (Leonardo di ser Piero da Vinci): চিত্রটির নাম Salvator Mundi
ওয়াল নাটের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৪৫ X ৬৫ সে মি :
অঙ্কন কাল : সঠিক তারিখ নিরুপিত হয়নি তবে ধারণা করা হয় ১৫০০ সালে দা ভিঞ্চি কতৃক এটা আঁকা হয়েছিল ।
বিক্রয়ের তারিখ : ৯ মে ২০১৩
মুল্য : ১২৯.৫ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ১২৭.৫০ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম ১০১১ কোটি টাকার মত
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত ব্যক্তিগত সংগ্রহ শালা
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ( জন্ম ১৫ এপ্রিল ১৪৫২ - 2 মৃত্যু ২ মে ১৫১৯ ), ছিলেন একজন ইতালীয় বহুবিদ্যা বিষেযজ্ঞ যার যার বিচরণ ক্ষেত্র বিস্তৃত ছিল জ্ঞান বিজ্ঞানের বি।ইন্ন শাখায় যথা পেইন্টিং, ভাস্কর্য , স্থাপত্য, বিজ্ঞান, সঙ্গীত, গণিত, প্রকৌশল, সাহিত্য, শারীরত্ব , ভূতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, লেখা, ইতিহাস, এবং মানচিত্রাঙ্কন প্রভৃতিতে পরিব্যপ্ত । তিনি বিভিন্ন জীবাশ্মবিজ্ঞান, এবং আর্কিটেকচার এর জনক বলা হয়ে থাকে এবং ব্যাপকভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী হিসাবে এক বিবেচনা করা হয় । কখনও কখনও তাকে প্যারাশুট, হেলিকপ্টার এবং ট্যাংক এর জনক হিসাবেও অভিহিত করা হয় । রেনেসাঁ মানবতাবাদী আদর্শ উদ্ভাবন এর কৃতিত্বও তাঁকে দেয়া হয়

ছবি ২৫/৩৬ : Salvator Mundi : ১৫০০
চিত্র কর্মটিতে এক হাত দিয়ে খ্রীষ্টের একটি আবক্ষ মূর্তির আশীর্বাদ এবং অন্যান্য একটি হাতে অক্ষিগোলক অধিষ্ঠিত হিসাবে দেখানো হয়েছে ।



ভিনসেন্ট ভেন গগ : চিত্রটির নাম Irises
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৭৩ X ৯৩ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৮৯, বিক্রয়ের তারিখ : ১১ নভেম্বার ১৯৮৭
মুল্য : ১১২.৩ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৫৩.৯ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম ৮৮০ কোটি টাকার মত
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : লস এনজেলসের গ্রেটি সেন্টার এক্জিবিশন প্যভিলয়ন
ছবি ২৬/৩৬ : ভিনসেন্ট ভেন গগ অঙ্কিত Irises : ১৮৮৯



পিটার পল রুবেনস( Peter Paul Rubens ): চিত্রটির নাম Massacre of the Innocents
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১৬৪ X ২৩৪ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৬১১, বিক্রয়ের তারিখ : ১০ জুলাই ২০০২
মুল্য : ১০০.৯ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৭৬.৭ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : রয়াল মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস বেলজিয়াম
স্যার পিটার পল রুবেনস : স্যার পিটার পল রুবেনস ( জন্ম ২৮ জুন ১৫৭৭ – মৃত্যু মে ১৬৪০) একজন ফ্লেমিশ বারোক ( ষোড়ষ শতাব্দিতে স্পেন নিয়ন্ত্রিত নেদারল্যন্ডের দক্ষিনাঞ্চল) চিত্রশিল্পী । তিনি অসংযত বারোক শৈলী আন্দোলনের প্রবক্তা, রুবেনস একজন জবাবী-সংস্কার প্রবক্তা , পোর্ট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ, ইতিহাস ,পৌরাণিক কাহিনী এবং রূপক বিষয়াদির উপর পেইন্টিং এর জন্য তিনি সমধিক পরিচিত
ছবি-২৭/৩৬ : Massacre of the Innocents : ১৬১১



ভিনসেন্ট ভেন গগ : চিত্রটির নাম A Wheatfield with Cypresses
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র,সাইজ : ৭২ X ৯১ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৮৯, বিক্রয়ের তারিখ : ৬ মে ১৯৯৩
মুল্য : ৯৩.৪ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৫৭ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৭৩২ কোটি টাকা।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ন্যাশনাল গ্যালারী , ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডন ।
ছবি ২৮/৩৬ : A Wheatfield with Cypresses : ১৮৮৯



ভিনসেন্ট ভেন গগ : চিত্রটির নাম Vase with Fifteen Sunflowers
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৯২ X ৭৩ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৮৮, বিক্রয়ের তারিখ : ৩০ মার্চ ১৯৮৭
মুল্য : ৮২.৬ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৩৯.৭ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা ।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ন্যাশনাল গ্যালারী , ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডন ।
ছবি ২৯/৩৬ : Vase with Fifteen Sunflowers : ১৮৮৮



টিটান Titian : চিত্রটির নাম Diana and Actaeon
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ৮০ X ৭৩ সে মি :
অংকন কাল : ১৫৫৬, বিক্রয়ের তারিখ : ১ ফেব্রুয়ালী ২০০৯
মুল্য : ৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৭০.৬ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম ৬১০ কোটি টাকার বেশী ।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ন্যাশনাল গ্যালারী , ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডন ।
Tiziano Vecelli বা Tiziano Vecellio ( জন্ম ১৮৮৮ – মৃত্যু আগস্ট 1576.) ইংরেজিতে তিনি Titian নামে পরিচিত একজন ইতালীয় চিত্রশিল্পী । তিনি ১৯ শতকের ভিনিটারিয়ান স্কুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন
ছবি-৩০/৩৬ : Diana and Actaeon : ১৫৫৬



শিল্পী Titian : চিত্রটির নাম DianaCallistoEdinburgh
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১৮৭ X ২০৪ সে মি :
অংকন কাল : ১৫৫৯, বিক্রয়ের তারিখ : ২ মার্চ ২০১২
মুল্য : ৭৩.৯ মিলিয়ন ডলার ( সমন্বিত মুল্য ) অকশনের সময় বিক্রয় মুল্য ছিল ৭১.৭ মিলিয়ন ডলার । এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম ৫৬৪ কোটি টাকার বেশী ।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : ন্যাশনাল গ্যালারী , ট্রাফালগার স্কয়ার লন্ডন ।
ছবি ৩১/৩৬ : DianaCallistoEdinburgh : ১৫৫৯



এডওয়ার্ড মেনেট Édouard Manet : চিত্রটির নাম :বসন্ত ( Spring)
কেনভাসের উপর তৈল চিত্র, সাইজ : ১৮৭ X ২০৪ সে মি :
অঙ্কন কাল : ১৮৮১, বিক্রয়ের তারিখ : ৫ নভেম্বার ২০১৪
মুল্য : ৬৫.১ মিলিয়ন ডলার এখনকার বাংলাদেশী মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৫১০ কোটি টাকা।
চিত্র কর্মটির বর্তমান অবস্থান : The J. Paul Getty Museum, লস এনজেলস কালিফরনিয়া ।
Edouard Manet ( জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৮৩২ - মৃত্যু ৩০ এপ্রিল ১৮৮৩) একজন ফরাসি চিত্রকর । তিনি ১৯ শতকের আধুনিক জীবন অঙ্কনকারী শিল্পীদের এক জন , যিনি চিত্র কর্মকে সফলতার সহিত কেন্ত্রিভুত বাস্তববাদ থেকে ইমপ্রেশনিজ্ম রূপান্তর ঘটিয়েছেন ।
ছবি ৩২/৩৬ : বসন্ত ( Spring) : ১৮৮১



জয়নুল আবেদীন (জন্ম: ২৯ ডিসেম্বর, ১৯১৪ - মৃত্যু: ২৮ মে, ১৯৭৬) একজন বিখ্যাত বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী। তাঁর শৈল্পিক এবং দূরদর্শী বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি বাংলাদেশে শিল্পাচার্য নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে- দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড় এবং আরো অনেক ছবি। ১৯৭০ সালে গ্রাম বাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ তাঁর বিখ্যাত ছবি নবান্ন । জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য সারা বিশ্বের কাছে খ্যাত হয়েছেন। এ ছাড়াও তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল : ১৯৫৭-এ নৌকা, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম, ১৯৬৯-এ নবান্ন, ১৯৭০-এ মনপুরা-৭০, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ম্যাডোনা, ১৯৭৬ -এ সংগ্রাম, প্রভৃতি ।
২০০৯ সালে, বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখ চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন সম্মানে আবেদীন নামে নামকরণ করা হয়( সুএ : ইউ এস জিওলজিকেল সার্ভে)
ছবি ৩৩/৩৬ : জয়নুল আবেদিন অঙ্কিত তৈল চিত্র সংগ্রাম ( Struggle) : ১৯৭৬



শেখ মোহাম্মদ সুলতান, ( জন্ম আগস্ট ১০, ১৯২৩ - মৃত্যু অক্টোবর ১০, ১৯৯৪) এস এম সুলতান নামে সমধিক পরিচিত, একজন বাংলাদেশী বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনি জীবনের মূল সুর-ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে। তাঁর ছবিতে গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হাল ফুটে উঠেছে। তাঁর ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৮২ সালে তাকে এশিয়ার ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর বিখ্যাত চিত্র কর্মের মধ্য থেকে ২ টি চিত্রকে দেখানো হল ।
ছবি ৩৪/৩৫ : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদে এস এম সুলতানের আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্ম "প্রথম বৃক্ষরোপন"


ছবি -৩৫/৩৬ : এস এম সুলতানের আঁকা বাংলাদেশের গ্রামীণ কিষানীর জীবন গাথা


কাইয়ুম চৌধুরী : ( জন্ম: মার্চ ৯, ১৯৩২ - মৃত্যু: নভেম্বর ৩০, ২০১৪) বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তাকেঁ একুশে পদক প্রদান করা হয়। তেল রঙ, জল রঙ, কালি-কলম, মোমরং, রেশমছাপ ইত্যাদি নানা মাধ্যমে কাইয়ুম চৌধুরী কাজ করেছেন। তাঁর প্রকটি প্রবণতা জ্যামিতিক আকৃতির অনুষঙ্গ। বস্তুতঃ তাঁর ছবি নকশা প্রধান। বর্ণিল পটভূমিতে মোটা দাগের নকশা তাঁর প্রধানতম অঙ্কনশৈলী। তাঁর ক্যানভাসের আয়তন প্রায়শঃ বর্গাকার। এছাড়া তাঁর চিত্রাবলিতে এদেশের লোকশিল্পসুলভ পুতুল, পাখা, হাড়িঁ, শিতলপাটি, কাঁথা ইত্যাদির পুনঃপৌণিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাইয়ুম চৌধুরী আমাদের বাংলা দেশীদের চলার পথে সংগ্রামী সাথী। তাঁর বিখ্যাত চিত্র কর্মগুলির মধ্য একটি নীচে দেখানো হল ।
ছবি ৩৬/৩৬ : কাইয়ুম চৌধুরীর একটি বিখ্যাত জ্যমিতিক চিত্র কর্ম


বিশ্ব বিখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পীর আঁকাছবি গুলি আমাদের গর্ব , আমাদের জাতীয় সম্পদ , আমাদের প্রেরণা , আমাদের ভাল লাগার অনুভুতি, বিশ্বের বুকে আমাদের শিল্পকর্মের পরিচিতি । আমাদের জাতীয় মিউজিয়ামে রাখা এ মুল্যবান চিত্র কর্মগুলি সযন্তে আমাদের মিউজিয়ামেই থাকবে চিরকাল সকল দর্শকের জন্য । এগুলি কোনদিনই অকসনে যাবেনা বাজার দর যাচাই এর জন্য । আমাদের প্রাণের ধন এ গর্বিত শিল্পকর্মগুলীর মুল্য আমাদের কাছে হাজার কোটি টাকারো অনেক বেশী । আমরা অকুন্ঠ চিত্তে শ্রদ্ধা জনাই প্রাণপ্রিয় সকল শিল্পীর প্রতি ।

ধন্যবাদ এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ।

ছবি ও তথ্য সুত্র : অগনিত অনলাইন লিংক, লা্‌ইব্রেরী ও ব্লগ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ পোস্টটি গড়া হয়েছে । তবে মুলত নিম্মোক্ত তিনটি সুত্র এবং তাদের শাখা লিংক গুলি এ পোস্টের তথ্য ভান্ডার হিসাবে ভুমিকা রেখেছে ।
https://www.vangoghmuseum.nl
https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_most_expensive_paintings
https://bn.wikipedia.org/wiki

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১১
৩০টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

(আবার ফিরে যাই ঝুমতলি)

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৮

রেললাইন বয়ে যায়।ভোরের প্রার্থনার বিপুল শক্তি।অন্ধকারকে আলো দিতে দিতে সকাল এগোয়! এমন সকাল এলেই ঝুমতলি যেতে ইচ্ছে করে! কুয়াশাঘেরা এক স্টেশনের রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে। কালো রং শাড়িতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনের বেলা ভ্রমণ ........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮


ঢাকা - বরিশাল/বরিশাল - ঢাকা নৌপথে দিনের বেলা বিগত বছরগুলোতে শুধু মাত্র গ্রীন লাইন জাহাজ কোম্পানির দুটি জাহাজ চলাচল করতো। যাত্রী সল্পতায় একটা জাহাজ বন্ধ করে, এক জাহাজেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Four Beautiful Ladies, বাংলাদেশী মডেলিং জগতে যাদের তুলনা ছিল শুধুই তারা - ওরা চারজন (পেছনে ফিরে দেখা)

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:১৫



মাঝে মাঝে এমন হয় যে, একটা দীর্ঘ এক ঘন্টার নাটকের চাইতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর একটা বিজ্ঞাপন আমাদের মনে অনেক গভীর দাগ কেটে যায়। আর নব্বই এর দশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে নয় ঘন্টা

লিখেছেন আবদুল্লাহ আফফান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২


দিনটা অন্যান্য দিনের মতোই শান্ত। তবুও অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। সংক্ষিপ্ত সফরে নারায়গঞ্জে যাচ্ছি। সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হলাম। হোটেলে নাস্তা খেয়ে কমলাপুরের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাটলাম। ট্রেন ছাড়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×