somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'অকূলে '

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিবাহিত জীবনে বিচিত্র অনুভূতির ভিতর দিয়ে বিশটি বছর পার করেছে সেহেলি। সবাইকে সুন্দর ভাবে ম্যানেজ করে চলছিল।
কিছু পাওয়া আর অনেক কিছু না পাওয়ার ভিতর দিয়ে বছর বছর বয়স বাড়ছিল। এক সময় সে খেয়াল করল জীবন কাটাতে কাটাতে তার জীবনের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। মনে মনে তার জীবনের সাথে যুক্ত সবার কাছ থেকে, সব প্রয়োজন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে শুরু করেছে নিজেরই অজান্তে । জীবনের শুরু থেকে চারপাশের সবার অবিরাম প্রত্যাখ্যান আর সেই প্রত্যাখ্যান থেকে কৌশলে টিকে থাকার উপায় বের করতে করতে সে চরম ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে । তার বিশ্রাম দরকার। তার আর কিছু চাইতে ইচ্ছে করছে না। সম্পর্কগুলি থেকে সন্তর্পণে সরে এসে নিজেকে ধ্বংস করে এক রকম নিষ্ঠুর প্রতিশোধের আনন্দ পাচ্ছে! সব বুঝে তার নিজেকে নিজের ভয় লাগছিল। ভাবল মৃত্যু বেশ কাছে চলে এসেছে।

মৃত্যুর ভাবনায় খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার হল। সবাই ছেড়ে যাওয়ার পর 'কেউ কাছে আসছে 'এই ব্যাপারটা নিয়ে সে এতটা অভিভুত হল, 'কেউ' টা যে মৃত্যু, তা সে খুব একটা অনুভব করল না। নি:সংগতা তার আর সহ্য হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় সে তার বহু বছরের পুরানা এক বন্ধুকে ফিরে পেলো। অল্প বয়সের ঝগড়ার বন্ধু। এত বছর পরে দেখা! এর মধ্যে 'জীবন গিয়াছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার.. '
স্মৃতির দিনগুলি সময়ের হেরফেরে বদলে গেল। অল্প বয়সের স্মৃতি থেকে টুকরা টুকরা এটা সেটা তুলে আনতে আনতে মধ্যবয়সের স্বভাব, অভাব, অভিযোগ, প্রয়োজন, অপ্রয়োজন বিনিময় হতে থাকল। তারা এক সময় অনুভব করল তাদের একের জীবনে অন্যের উপস্থিতিটা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে! প্রেম নয়, তার চেয়ে বেশি কিছু। গভীর একটা টান। একে অন্যের সব দু:খের দুখী হল তারা। সেহেলি নিরবে সব কষ্ট নিয়ে বন্ধুদের আসরে বসল। দু:খী বন্ধুকে আসরে ডাকল। বন্ধুদের সুখ থেকে ভাগ নেবে বলে। নিজেদের মধ্যে সুখ তৈরী করবে বলে। ওরা দেখল, ওরা সুখের কল্পনা করতে ভয় পাচ্ছে । সুখ তাদের সাথে সারাজীবন ছলনা করেছে। কষ্টকে বরং তারা বিশ্বাস করতে পারছিল। এক সময় দু:খী বন্ধু জানালো দু'জনের মাঝখানে একটা সমান্তরাল রেললাইন আছে। সে কষ্ট পাচ্ছে। সেহেলি তার বন্ধুর এই কষ্টটাও বুক পেতে নিল। কিন্তু তার আর বইবার শক্তি রইল না। সে চলতে চলতে ভারসাম্য হারাতে লাগল। এরপর হয়তো একেবারেই পড়ে যেত - কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম, মৌসুম বদলায়। একদিন যাদুর মত সব বদলে গেল। দুজনেরই পুরনো এক প্রিয় বন্ধু ফিরে এলো। দু'জনই সুখী হল। বন্ধুকে মাঝখানে রেখে তারা নিজেদের মধ্যে সুখ দু:খ লেনদেন করে চলল। সেহেলি তার নি:সংগ সময়ের আনাচ কানাচ ভরে সুখ নিতে থাকল। দু:খী বন্ধু তার গুছানো জীবন এলোমেলো হওয়ার ভয় থেকে মুক্ত হয়ে নিশ্চিন্ত হল। কিন্তু মনের অজান্তে একান্ত নিজস্ব জগতে সে সেহেলির জন্য একটা জায়গা করে দিয়েছিল, সেই জায়গাটাতে শুন্যতা এসে তাকে কষ্ট দিতে লাগল। সেহেলি ফিরল না। সে তার সুখী বন্ধুর সাথে সাথে ঘুরে ঘুরে সুখ ফেরি করতে শুরু করল। তারা দু'জনে একটা সুখের গাছ লাগাল। তার শিকড়ে রইল স্বপ্নের মাটি আর দু:খধারা। গাছ জ্যাকের ম্যাজিক বীনের চারার মত রাতারাতি আকাশ ছুঁয়ে ফেলল। তা ফুলে ফলে ছেয়ে গেল।

ভাগ্যের পরিহাস! সুখী বন্ধুটা সুখ ছড়াচ্ছিল ঠিক, নিজে সেই সুখের একটা কণাও স্পর্শ করতে পারছিল না। সে সুখের ভান করতে শুরু করল। দিনে দিনে নিজের এই দৈন্য তাকে অস্থির করছিল। একদিন সেহেলি তার বন্ধুর এই অবস্থা দেখল। তার অপরাধবোধ হল। সে সুখের গাছটা পিছনে ফেলে একটা নির্জন পথ ধরে একা হাটতে শুরু করল। কেউ জানল না। শুধু সেই একদা সুখী বন্ধু জানল। সে সেহেলিকে খুঁজতে থাকল। খুঁজে পেলো। তারপর সে দেখল তার আর সেহেলির মাঝখানে নদী হয়ে বয়ে যাচ্ছে সংসার, সমাজ, ধর্ম!

নদীর এক কূলে বসল বন্ধু, অন্য কূলে সেহেলি। নদী বইতে থাকল। তাদের মন সাঁতার দেয় , নদী পার হয়, তারা নিরবে বসে দেখে।

"নদীর কূল নাই, কিনার নাই রে... "
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×