somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইডস

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অমিত সাহেবের স্ত্রী কোন দিন স্বামির অফিস ফেরার অপেক্ষায় থাকেন না।তিনি থাকেন টিভি সিরিয়াল আর আবিদকে নিয়ে।
কিন্তু আজ তিনি টিভি সিরিয়াল বা আবিদকে নিয়ে নেই।আজ তিনি অধিক আগ্রহ নিয়ে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছেন।ঘড়ির দিকে খানিক বাদে তাকাচ্ছেন আর বলছেন-"এখনো আসছেনা কেন?"
আবিদকে প্রতি সন্ধ্যায় বই ধরিয়ে টেবিলে বসালেও আজ তাকে তার সব খেলনা দিয়ে খলতে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

অমিত সাহেব প্রতিদিনের ন্যায় আজো ঠিক সন্ধ্যা ৭ টায় ফিরেছেন।কোন দিন তার স্ত্রীর মুখে যে প্রশ্ন শোনে নি সেই প্রশ্নই প্রথমে শোনলেন-"এত দেড়ি করলে কেন?"
প্রশ্ন শোনে অবাক হয়ে উত্তর দিলেন-
-প্রতিদিনতো এ সময়ই ফিরি।কেন,কি হয়েছে?
-হয়েছে অনেক কিছু, আসো,বসো,বলছি।
-সব ঠিক আছেতো? তোমাকে এত অস্থির লাগছে কেনো।
-আমাদের পাশের বাসার রিয়া আছেনা,রিয়া।
-হ্যা,কি হয়েছে রিয়ার?
-কি হয়নি বলো।
-ধুর,যা বলার ডাইরেক্ট বলো।
-এইডস হয়েছেগো,এইডস।
-কি বলছো এসব?
-সত্যি বলছি,পুরো মহল্লা হয়েছে।

খানিক চুপ থেকে "আসছি " বলে উঠে দাঁড়ালেন অমিত সাহেব।সাথে সাথে স্ত্রী প্রশ্ন করলেন-
-যাচ্ছো কোথায়?
-রিয়ার বাবার সাথে কথা বলবো।
-নেই,কেউ নেই।
-কেনো....! কোথায় ওরা?
-দুপুরে জানা-জানি হয়েছে,বিকেলেই দরজায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে।
-বাজে বকবেনা,পালিয়েছে কি?
-বাজে বকছি?আমার কথা তোমার বাজে লাগছে? যাও,মহল্লার কাকে জিজ্ঞাসা করবে জিজ্ঞাসা করো,সবাই এক কথাই বলবে।

স্ত্রীর কথা বলার নষ্ট যন্ত্র থামানো কঠিন অমিত সাহেব ভালো করেই জানেন।
ফ্রেস না হয়েই "আসছি" বলে দরজার দিকে আগালেন।
আবারো স্ত্রীর সেই একই প্রশ্ন-যাচ্ছো কোথায়?
এবার উত্তর না দিয়েই বের হয়ে গেলেন।

রিয়া ভালো মেয়ে।মহল্লার সবচেয়ে ভদ্র মেয়ে।পর্দাশীল মেয়ে।মেধাবি মেয়ে।বাবা মায়ের বাধ্য মেয়ে। স্কুল,কলেজ বা ভার্সিটি ভর্তি পর্যন্ত তার নামে কেউ দু কথা বলতে পারেনি।রিয়ার কি করে এইডস হতে পারে।অমিত সাহেব তার স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না। আবার অবিশ্বাস করবেন সে সুযোগও নেই।রিয়ারা পালিয়েছে।
অমিত সাহেব রিয়াকে খুব পছন্দ করেন, পছন্দ করেন রিয়ার বাবাকেও।এমন ভদ্র ফ্যামিলি তিনি দ্বিতীয়টি দেখেন নি।

মুঠো ফোন বের করেই রিয়ার বাবাকে কল দিলেন অমিত সাহেব।
মোবাইল বন্ধ।অমিত সাহেবের সন্দেহ,দুশ্চিন্তা দুটোই বাড়ছে।
রিয়ার মায়ের নাম্বারে কল দিতেই কল ঢুকলো।ওপাশ থেকে কান্না জড়িত কন্ঠে প্রশ্ন শোনা গেলো-
-হ্যালো,কে?
-ভাবি,আমি আবিদের আব্বু,অমিত।
-ভাই সাহেব,কেমন আছেন?
-আমি ভালো,রিয়ার বাবাকে দেয়া যাবে?
-ধরুন,দিচ্ছি।

কয়েক সেকেন্ড পর ওপাশ থেকে।
-হ্যালো।
-রফিক সাহেব,আমি........
-অমিত ভাই,আপনার কন্ঠ চিনেছি,বলুন।
-আমি আপনার সাথে একটু দেখা করতে চাই।আছেন কোথায় আপনি?
-নিউ মার্কেটের পাশে বোনের বাসায়।
-কোন অসুবিধা না হলে আমি এখনি আসতে চাচ্ছি।
-আসুন,আমি লোকেশন বলছি।

৩০ মিনিটের মধ্যে অমিত সাহেব রফিক সাহেবের বোনের বাসায় উপস্থিত হলেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাত পাঁচ না ভেবে রফিক সাহেবকে প্রশ্ন করলেন-"রিয়ার কি হয়েছে?"
প্রশ্ন শোনে খুব স্বাভাবিক ভাবেই রফিক সাহেব উত্তর দিলেন-"এইডস"
রফিক সাহেবের স্বাভাবিক অবস্থা দেখে অমিত সাহেব সামান্য ধাক্কা খেলেন।
সংকোচ করতে করতে বললে-"একটু বিস্তারিত বলা যায় কি?"
রফিক সাহেবের মুখে মেয়ের এইডস হবার কারনের ব্যাখ্যা শোনে অমিত সাহেব আকাশ থেকে পরলেন।
"রিয়া ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিলো।বাসে উঠতে গিয়ে পরে গিয়েছিলো,গুরুতর আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি করানো হলো। ইমার্জেন্সি রক্তের দরকার।মেডিকেল থেকেই রক্তের ব্যবস্থা করা হলো।কোন রূপ পরীক্ষা ছাড়াই সেই রক্ত রিয়ার শরীরে প্রবেশ করানো হলো।তখন রক্ত পরীক্ষার কথা মাথায় ই আসেনি।সেই রক্তে HIV ভাইরাস ছিলো"

অমিত সাহেব কিছু না বলেই উঠে দাঁড়ালেন।বেড় হতে গিয়ে দরজার সামনে গিয়ে থামলেন।
রফিক সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন-আমি গাড়ি ডাকছি,ভাবি আর রিয়াকে নিয়ে রেডি হন,আপনারা আমার সাথে এখন মহল্লায় ফিরে যাবেন"।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×