শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ খারাপ।
কারণ, সেশনজটের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করতে ৫/৭ বছর লেগে যেত, সেখানে মাত্র ৪ বছরেই অনার্স শেষ করার ব্যবস্থা তিনি করেছেন। এখন আর কোন সেশনজট নেই।
**শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ খারাপ। কারণ, তাঁর হাত ধরেই বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নতুন বই সরবরাহ করা শুরু হয়। যা তৃতীয় বিশ্বে বিরল রেকর্ড।
***শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ খারাপ। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৮ লাখ এবং মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করেছেন। বৃত্তি আগে দেওয়া হতো বাংলাদেশের ২৬ টা স্কুল, ৩৮ টি কলেজে। এখন বলেন, কোন কলেজ স্কুলে বৃত্তি উপবৃত্তি নেই।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো উচ্চ মাধ্যমিকে ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রদেরও উপবৃত্তি দেওয়া হয় তাঁর সময়েই।
****মেয়েদের শিক্ষার জন্য আলাদা মাস্টার প্যানেল লোক নিযুক্ত করেছেন। *****A+ প্রাপ্তদের বৃত্তি উপবৃত্তি ৯ গুন করে দিয়েছেন।
শুধু কি তাই?
*****শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ******সম্প্রতি সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত করিয়েছেন। মাদ্রাসার শিক্ষক, মক্তবের শিক্ষকদের আগে ছাত্র নিয়ে চলতে হতো, আর এখন সবার বেতন দেওয়া হচ্ছে।
আর শিক্ষকদের বেতন যে কয় গুন করা হয়েছে, তা কারও অজানা নয়।
*******আধুনিকতার সাথে তাল মেলানোর জন্য মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম চালু করেছেন।
উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও বিনয়ী নিপাট ভদ্রলোক এই মানুষটা, যাঁর বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় নি, অন্যেরা যেখানে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে সেখানে যাঁর সম্পদের পরিমাণ দিনদিন কমেছে, শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন। কখনো রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন নি। ওয়ানম্যান আর্মি হিসেবেই তিনি সব কিছু মোকাবেলা করেছেন।
এই আধুনিকতার ইন্টারনেটের এক ক্লিক যুগে ২০১৮ সালে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কোন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় নি। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে যে প্রশ্নফাঁস হয়েছে, যে কারণে তিনি বিতর্কিত; তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন তা এড়াতে। হয়ত সফল হন নি। দায়টা তাঁর একার কি?
ডিজিটাল এ যুগে সেটা নিয়ন্ত্রণ কঠিনই। তিনি একা কী করবেন যেখানে সংশ্লিষ্ট আর ব্যক্তিরা, আমাদের শিক্ষকদেরই নীতি-নৈতিকতার ঠিক নেই। প্রশ্ন সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক ধরাও তো খেয়েছেন। আর সব খাতের মতো শিক্ষার মতো মহান খাতেও সৎ লোকের বড় অভাব।
আমাদের অভিভাবকেরা রেডিমেড জিনিস খোঁজেন। কীভাবে কম পড়িয়ে বেশি নাম্বার পাওয়ানো যায় সেই ধান্দা খোঁজেন। অথচ শিশুর ভিত্তি তৈরিতে পরিবারের যথোপযুক্ত ভূমিকাই মুখ্য।
যারা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে যুক্ত আছেন, দেখেছেন কীভাবে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন বলে দেওয়া হয়। লোভে পড়ে হোক আর চাপে পড়ে হোক শিক্ষকেরা প্রশ্ন বলে দেন। এখানে আপনি কাদের দোষ দেবেন? প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষা না দিতে দেওয়া অথবা নাম্বার কম দেওয়ার কথা তো বলাই বাহুল্য।
ছেলেমেয়েরা ২১ ফেব্রুয়ারি কী, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কবে- এসব জানে না। এসবের দোষও কি নাহিদ সাহেবের? বাপের নাম জিজ্ঞেস করলে কেউ চাচার নাম বললে সেই দায়ও নিশ্চয়ই নাহিদ সাহেবের নয়।
৭ টা সৃজনশীল নিয়ে অনেকের চুলকানি আছে। তোমাদের বলতে চাই, ৭ টা সৃজনশীল করার কারণে তোমরা আজ A+ পাও। না হলে নৈর্বক্তিকে ৫০ নাম্বার করা হলে কে ১ মিনিটে ১ টা দাগিয়ে ৫০ এর মধ্যে ৫০ পেতে তা জানা আছে।
একটা সময় কিছু কিছু প্রশ্ন মুখস্ত করে ভালো নাম্বার পাওয়া যেত। ওভাবে সৃজনশীলতা বিকশিত হতো না। এখন ভাবার সুযোগ আছে, চিন্তার সুযোগ আছে। একই লেখকের এক লেখা পড়ে তিন প্রজন্ম পার হয়েছে, এখন লোকজন বুঝতে পারে ঐ লেখকের আরও লেখা আছে। অথবা সৃজনশীল করতে গেলে নিত্যনতুন এমন অনেককিছু আসে যা ছেলেমেয়েদের বাস্তব জীবনেও কাজ লাগে।
হয়ত অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বোঝে না, এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, দক্ষতা বাড়ানো দরকার। যারা নিজেরাই ঠিকমতো জানে না তারা বাচ্চাদের পড়াবে কী।
অস্বীকারের সুযোগ নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি আছে। ফি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হচ্ছে অথচ চাকরি পাচ্ছে না। প্রচলিত ব্যবস্থায় বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়, কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। স্বাধীনতার এত বছরেও যেদেশে একটা মানসম্মত শিক্ষানীতি দেওয়া যায় নি। সেদেশে রাতারাতি এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব? সৃজনশীল পদ্ধতিটা আপাতত প্রাথমিক ধাপ। আমরা হয়ত আরও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থায় চলে যাব একদিন। বেকার সমস্যাও নিশ্চয়ই থাকবে না।
যাহোক, শিক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা ও অবদানের জন্য ‘World Education Congress Global Award for outstanding contribution to Education’ পদকে ভূষিত করা নুরুল ইসলাম নাহিদকে। যেটা তিনি অর্জন করেন প্রথম বাংলাদেশী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে।
প্রিয় নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি,
আশাকরি আপনি আপনার কাজের যথাযথ মূল্যায়ন একদিন পাবেন। কেননা, দিনশেষে জয়টা যে যোগ্য লোকেরই হয়। আফসোস, আমরা যোগ্য লোককে সম্মান করতে জানি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



