রাস্তার মোড়ে কখনো দেয়াল জোড়া খবরের কাগজের সামনে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি। কাগজের অর্ধেকটা খেয়ে ফেলেছে সর্বভুক কর্মাশিয়াল- ইটের পর ইট, স্বপ্নের পর স্বপ্ন! ঠিক সেখান থেকে অনতিদূরে ফুটপাতে সন্তানের মুখে স্তন পুরে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন মা। স্বপ্নকামী ভদ্রলোকদের পায়ের তলায় দেদারসে বদল হয় ফুটপাত আর চাকরীকামীর বদলায় পাদুকা!
হাইড্রোলিক হর্ণ আর ট্রাফিক হুইসেলের যান্ত্রিকতায় বেড়ে ওঠে মেট্রোপলিটান ব্যস্ততা। বিষাক্ত নগরের নগরপতি হাইরাইজ বিলডিং এর ছোট শীতল কক্ষে বসে স্বপ্ন দেখছেন তিলোত্তমা ঢাকা! আর মানুষ উপহার হিসেবে পায় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা।
এদিকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভিনগ্রহের এলিয়ন হয়ে নীতিবিবর্জিত ক্ষমতালিপ্সুরা আমাদের কপালে এসে চুমু খান। ভোট চান। আমরা ভোট দিই, তারপর স্বপ্ন ভরা ব্যালট বাক্স বগল দাবা করে ওনারা অদৃশ্য হোন। এরপর কোট সাফারি , সিল্ক-শিফন শাড়ির ডামি সরকার আমাদের প্রতিদিন বিবস্ত্র করে। ধর্ষণ করে, ঘুম কেড়ে নেয়। পেশাজীবি মৌলবাদী আর সমাজসেবীরা গ্রাস করে পতিতাদের(!) কবরের মাটি, গর্ভনিরোধক কনডমের মতো যত্রতত্র পড়ে থাকে আমাদের মানবতাবোধ- মূল্যবোধ! দেশে প্রতিষ্ঠা পায় বিদঘুটে সুবিধাবাদী উপহাসতন্ত্র!!
হয়তো তারপরও থেকে যায় আশাবাদ কিন্তু স্বপ্ন তো এখন কেবল বৈষম্য বাড়ায়। এখন স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন অর্থ- স্বপ্নের অপচয়! কে রাখবেন এই অপচয়ে হিসাব? স্বয়ং ঈশ্বর কি অংক ভলো বোঝেন??
বিঃদ্রঃ পাক্ষিক অন্যদিন-এ ' এ পক্ষের সেরা" ফিচার নির্বাচিত, 'একটি বৈষম্য- অপচয়ে স্বপ্নগাথা" শীর্ষক এ ফিচার বিপ্রতীপ শিকদার (ছদ্মনাম) নামে প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


