somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘হয়তো তিনি ভিতু, কাপুরুষ’

২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘হয়তো তিনি ভিতু, কাপুরুষ’


১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল সফিউলস্নাহর ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানিতে সুলতান শাহরিয়ার রশিদের আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এ প্রশ্ন তুলে বলেছেন, সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সফিউল্লাহ এগিয়ে আসেননি। ঘটনার রাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান টেলিফোনে জেনারেল সফিউলস্নাহকে বলেছিলেন, তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে। শেখ কামালকে হয়তো হত্যা করেছে। তুমি ফোর্স পাঠাও। তখন সফিউলস্নাহ বলেন, আমি কিছু করার চেষ্টা করছি। ক্যান ইউ গেট আউট অব দ্য হাউজ? ভোর ছয়টার পর সফিউলস্নাহ ফোন করে আর বঙ্গবন্ধুকে পাননি। রেজাক খান বলেন, সফিউল্লাহর এ বক্তব্য তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মন-ব্য করে, হয়তো তিনি ভিত,ু কাপুরুষ ছিলেন। কিন' তাতে শাহরিয়ার রশিদ কি সুবিধা পাবে? জবাবে রেজাক খান বলেন, ১৫ই আগস্টের ঘটনার নির্দেশদাতা ও সমন্বয়কারীরা নেপথ্যেই রয়ে গেছে। তার মধ্যে তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ খালেদ মোশাররফকেও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। বিচারপতি মো. তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল এ মামলার ১৭তম দিনের শুনানি হয়। শুনানিতে আবদুর রেজাক খান আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর কেউ আজ কাঠগড়ায়, কেউ সাক্ষী ও কেউবা নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন। তিনি একটি সাক্ষ্য উপস'াপন করে বলেন, ঘটনার পর জিয়াউর রহমানকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড। জবাবে জিয়া বলেছিলেন, সো হোয়াট? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন। রেজাক খান বলেন, বিচারিক আদালতে সফিউলস্নাহর ভূমিকা নিয়ে তাকে জেরা করেছিলাম। তিনি জেরায় বলেছেন, আমি সবকিছু করেছি গানপয়েন্টে। রেজাক খান বলেন, তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপনি সেনাপ্রধান। ১৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। গানপয়েন্টে কেন ভয় পাবেন? এ সময় আপিল বিভাগ মন-ব্য করে, সেনা আইনে বিদ্রোহ দমন না করাও অপরাধ। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সাজা হয়েছিল বিদ্রোহ দমন না করার অপরাধে। আবদুর রেজাক খান বলেন, শাহরিয়ার রশিদ ১৫ই আগস্ট ঘটনাস'লে উপসি'ত ছিলেন না। ব্যক্তিগতভাবে উপসি'ত না থাকলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা যায় না। হত্যার অভিন্ন উদ্দেশ্য ও অংশীদারিত্ব না থাকলে হত্যার অভিযোগ আনা যায় না। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কথা বারবার বলা হলেও ষড়যন্ত্রকারী কারা, রায়ে কোথাও কি এর জবাব দেয়া হয়েছে? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে রীতিমতো একটি গার্ড রেজিমেন্ট ছিল। ঘটনার সময় তারা কেবল দৌড়াদৌড়ি করে ‘গুলি কই গুলি কই’ বলেছেন। এই বিষয়ে একটি কল্পকাহিনী সাজানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ঘটনার আগের রাতে ওহাব জোয়ারদার গুলি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, শাহরিয়ার রশিদ এ হত্যাকাণ্ডে কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না। ঘটনার সুবিধাভোগী চিহ্নিত করে শাহরিয়ারকে ফাঁসি দেয়া যাবে কিনা- এটাই প্রশ্ন। সরাসরি খুনের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ৩ ও ৭ই নভেম্বরের ঘটনার সঙ্গে ১৫ই আগস্টের ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট বিডিআরের ডিজি খলিলুর রহমানের যে ভূমিকা ছিল শাহরিয়ার রশিদের একই ভূমিকা ছিল। কিন' খলিলুর রহমান এ মামলার সাক্ষী, শাহরিয়ার রশিদ আসামি। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট সামরিক আইন জারি করা হয়নি। ওইদিন ক্ষমতার বদল হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ছিলেন কেবল দু’জন। তারা হলেন- শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও কেএম ওবায়দুর রহমান। সামরিক আইন জারি সম্পর্কে রেজাক খান বলেন, সামরিক আইন জারি সবসময় অবৈধ ও অসাংবিধানিক। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য এ মামলার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। আজ আবার শুনানি চলবে। গতকাল শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে আরও উপসি'ত ছিলেন খান সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুলস্নাহ আল মামুন প্রমুখ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে উপসি'ত ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আনিসুল হক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।

-দৈনিক মানব জমিন, ২৮.১০.০৯
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×