‘হয়তো তিনি ভিতু, কাপুরুষ’
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল সফিউলস্নাহর ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানিতে সুলতান শাহরিয়ার রশিদের আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এ প্রশ্ন তুলে বলেছেন, সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সফিউল্লাহ এগিয়ে আসেননি। ঘটনার রাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান টেলিফোনে জেনারেল সফিউলস্নাহকে বলেছিলেন, তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে। শেখ কামালকে হয়তো হত্যা করেছে। তুমি ফোর্স পাঠাও। তখন সফিউলস্নাহ বলেন, আমি কিছু করার চেষ্টা করছি। ক্যান ইউ গেট আউট অব দ্য হাউজ? ভোর ছয়টার পর সফিউলস্নাহ ফোন করে আর বঙ্গবন্ধুকে পাননি। রেজাক খান বলেন, সফিউল্লাহর এ বক্তব্য তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মন-ব্য করে, হয়তো তিনি ভিত,ু কাপুরুষ ছিলেন। কিন' তাতে শাহরিয়ার রশিদ কি সুবিধা পাবে? জবাবে রেজাক খান বলেন, ১৫ই আগস্টের ঘটনার নির্দেশদাতা ও সমন্বয়কারীরা নেপথ্যেই রয়ে গেছে। তার মধ্যে তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ খালেদ মোশাররফকেও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। বিচারপতি মো. তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল এ মামলার ১৭তম দিনের শুনানি হয়। শুনানিতে আবদুর রেজাক খান আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর কেউ আজ কাঠগড়ায়, কেউ সাক্ষী ও কেউবা নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন। তিনি একটি সাক্ষ্য উপস'াপন করে বলেন, ঘটনার পর জিয়াউর রহমানকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড। জবাবে জিয়া বলেছিলেন, সো হোয়াট? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন। রেজাক খান বলেন, বিচারিক আদালতে সফিউলস্নাহর ভূমিকা নিয়ে তাকে জেরা করেছিলাম। তিনি জেরায় বলেছেন, আমি সবকিছু করেছি গানপয়েন্টে। রেজাক খান বলেন, তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপনি সেনাপ্রধান। ১৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। গানপয়েন্টে কেন ভয় পাবেন? এ সময় আপিল বিভাগ মন-ব্য করে, সেনা আইনে বিদ্রোহ দমন না করাও অপরাধ। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সাজা হয়েছিল বিদ্রোহ দমন না করার অপরাধে। আবদুর রেজাক খান বলেন, শাহরিয়ার রশিদ ১৫ই আগস্ট ঘটনাস'লে উপসি'ত ছিলেন না। ব্যক্তিগতভাবে উপসি'ত না থাকলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা যায় না। হত্যার অভিন্ন উদ্দেশ্য ও অংশীদারিত্ব না থাকলে হত্যার অভিযোগ আনা যায় না। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কথা বারবার বলা হলেও ষড়যন্ত্রকারী কারা, রায়ে কোথাও কি এর জবাব দেয়া হয়েছে? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে রীতিমতো একটি গার্ড রেজিমেন্ট ছিল। ঘটনার সময় তারা কেবল দৌড়াদৌড়ি করে ‘গুলি কই গুলি কই’ বলেছেন। এই বিষয়ে একটি কল্পকাহিনী সাজানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ঘটনার আগের রাতে ওহাব জোয়ারদার গুলি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, শাহরিয়ার রশিদ এ হত্যাকাণ্ডে কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না। ঘটনার সুবিধাভোগী চিহ্নিত করে শাহরিয়ারকে ফাঁসি দেয়া যাবে কিনা- এটাই প্রশ্ন। সরাসরি খুনের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ৩ ও ৭ই নভেম্বরের ঘটনার সঙ্গে ১৫ই আগস্টের ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট বিডিআরের ডিজি খলিলুর রহমানের যে ভূমিকা ছিল শাহরিয়ার রশিদের একই ভূমিকা ছিল। কিন' খলিলুর রহমান এ মামলার সাক্ষী, শাহরিয়ার রশিদ আসামি। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট সামরিক আইন জারি করা হয়নি। ওইদিন ক্ষমতার বদল হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ছিলেন কেবল দু’জন। তারা হলেন- শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও কেএম ওবায়দুর রহমান। সামরিক আইন জারি সম্পর্কে রেজাক খান বলেন, সামরিক আইন জারি সবসময় অবৈধ ও অসাংবিধানিক। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য এ মামলার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। আজ আবার শুনানি চলবে। গতকাল শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে আরও উপসি'ত ছিলেন খান সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুলস্নাহ আল মামুন প্রমুখ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে উপসি'ত ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আনিসুল হক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।
-দৈনিক মানব জমিন, ২৮.১০.০৯
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


