
ক্লিওপেট্রা, এখন তোমার ঘরের দেয়ালেও রবীন্দ্রনাথ শোভা পায় ?
বেশতো ! তুমিও দেখছি অনেক আধুনিক হয়েছো।
জানতো ! আমি এখনও সেই পুরনো পিরামিডেই সমাধিস্থ।
তোমার বিছানায় জেগে থাকা একাত্তুরটা সাপের সাথে রাত্রি যাপনের সেই স্মৃতি কি তোমার মনে পড়ে ?
হাতুড়ি আর পেরেক দিয়ে হারমাচিস বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন কাদম্বরীর মূর্তি গড়ছিলো;
আমি তখন শ্যাওলা বনে মমি হওয়ার নেশায় মত্য।
মালতীর মন ভাল নেই,
প্রিয় আকাশটা ভুগছে নিওমোনিয়ায়;
সর্দি কাশি লেগেই আছে,
এরই মাঝে কি আর বিধবা সাঁজা যায় !
শোন মালতী, তোমাকে আবারও বলছি; আগেও বলেছি বহুবার –
লাল রঙের বেনারসি শাড়িতে আমার ভীষণ অরুচি।
যদি বিধবা বেশে নাই আসতে পারো;
তবে, আমার জন্য ক্লিওপেট্রাই শ্রেয়।
দেখনা ! বাগানের গোলাপগুলো কেমন করে নগ্ন হয়ে চেয়ে থাকে শিশিরের তৃষ্ণায়।
সাগরের কাছে কেমন করে খাজনা দিয়ে বৃষ্টি তার জমি ফিরে পায়।
ভূতাত্ত্বিক জরীপে যদিও দ্রৌপদীর নাম এসেছে;
আমি জানি, সেই শাড়ির অধিকারিণী সেদিন মালতী তুমিই ছিলে।
বসন্তের হলুদ দুপুরে মানুষ হয়েও আমি মানুষীর বেশে দিগন্ত রেখা মেপেছি,
বেহুলা মন নিয়ে তোমার মাতাল মরুতে ময়ূরের পেখম তুলে উন্মাদ নেচেছি,
জানি তুমি আমারই মতো করে মেঘনার সাথে সহমরণে হাসবে বলে।
শুঁকনো পাতায় মোমের প্রলেপ লেপে দিয়ে যদি জীবন ফিরে পাওয়া যেত,
যদি কেওকারাডং এর বিশাল দেহে কাঠ ঘষে ঘষে আগুন জ্বালানো যেত,
তবে, আমিও কচুরিপানা ফুল হয়ে তোমার খোঁপায় শোভা পেতাম !
হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা প্রাণহীন এক কঙ্কাল আমি,
তবু, তোমার ঘাসের ‘পরে একটু ঘুমাবো বলে;
স্বর্গের স্বপ্ন কুড়াই !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



