সাভারের আনন্দপুরে সুরম্য এক বালাখানার সন্ধান মিলেছে। রহস্যময় বালাখানাকে ঘিরে এলাকায় প্রচার নানা গল্পকথা। বালাখানায় স্থায়ী কোনো বাসিন্দা নেই। সম্পূর্ণ মার্বেল পথরে নির্মিত বাংলো ডুপ্লেঙ্টি অত্যাধুনিক ও ছিমছাম। কয়েক জন কর্মচারি সার্বণিক দেখভাল করেন।
7-8 বিঘার ত্রিকোণ প্লটের মা্ঝখানে 2-3 কাঠার ওপর বাংলো প্যাটার্নের ডুপ্লেঙ্টির নিচতলায় ড্রয়িং, ডাইনিং এবং একটি ক। ওপরতলার পুরোটিই ফাঁকা ফোর। সেখানে চিত্রকর্ম এবং গান-বাজনার নানা সরঞ্জাম। নিঝুম-নিঃস্তব্ধ বালাখানাটি মাঝে মধ্যেই জেগে ওঠে অতিথিদের সমাগমে।
বালাখানার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকতেই দেয়াল কেটে নির্মাণ করা হয়েছে বিউটি পারলার। দুলহান নামের বিউটি পার্লারটি সিনে নায়িকাদের ছবিতে মোড়া। রহস্যময় বাংলোটি নিয়ে এলাকায় আছে নানা গুঞ্জন-কৌতূহল। অনেকের প্রশ্ন, এটি কার?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক যুগ আগে যার নামে এ বাড়ির দলিল হয়েছে তিনি 3 যুগ ধরে জাপান প্রবাসী। এলাকায় তার কোনো পরিচিতি নেই। বাড়ির কেয়ারটেকার সাইদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেছেন, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের ব্যবসায়িত পার্টনার জাপান প্রবাসী চিত্রশিল্পী গিয়াস উদ্দিন। তার নামেই বাড়ির দলিল। তার অনুপস্থিতিতে প্রথম আলো সম্পাদককেই তারা বাড়ির মালিক হিসেবে জানেন। প্রতি মাসে কয়েক দফায় মতিউর রহমান কখনো একা বা কখনো বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে আসেন।
সাইদুর রহমান বলেন, তার সঙ্গে বাড়ির দেখাশোনায় নিয়োজিত আছে তপন ও শুকুর আলী। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন নামে সাভারের স্থানীয় একজন মতিউর রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পরিচালনা করেন। সাইদুর রহমান জানান, প্রথম আলোর স্টাফ হিসেবে তাদের বেতনাদি হয় এবং প্রতি মাসে তাদের তরফে একজন ঢাকায় প্রথম আলো অফিসে গিয়ে তিনজনের বেতন তুলে নিয়ে যান। সাইদুর রহমানের অপর দুই সহকর্মী তপন ও শুকুরকে পাওয়া যায়নি।
গতকাল দুপুর একটায় 3/1 আনন্দপুর, সাভার মৌজার বাড়িটির গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখা গেলো, দেয়াল কেটে নির্মাণ করা খুব সুন্দর বিউটি পারলারটি। চারদিকে সিনে নায়িকাদের ছবি দিয়ে মোড়ানো পালর্ারের ভেতরটা ওয়েল ডেকোরেটেড। তবে কোনো কাস্টমার নেই। নিরিবিলি জায়গায় এমন বিউটি পারলার কীভাবে চলে তা নিয়েও এলাকায় চাউর আছে নানা কাহিনী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি মাসে কয়েক দফায় বাড়িতে অতিথিরা আসা-যাওয়া করেন। বিলাসবহুল গাড়িতে আসেন ভিআইপি অতিথিরা। এসব অনুষ্ঠানে হোস্ট থাকেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। #
আজকের দিনকালে এই সংবাদটি ছাপা হয়েছে :
রহস্যময় বালাখানা নিয়ে তোলপাড় লেগে গেছে সাভারে। এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ৰোভ-অসনত্দোষ। বালাখানার বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে বেরিয়ে এসেছে রসালো কাহিনী। জনমনে প্রশ্ন তীব্র হয়েছে_ 'নির্জন এলাকায় কার জন্য এই বিউটি পার্লার'। রহস্যময় বালাখানা নিয়ে দিনকালের খবরটি গতকাল ছিল 'টক অব দ্য কান্ট্রি'। সাভারের নানা শ্রেণী-পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা-বার্তায় বেরিয়ে এসেছে বালাখানার আরো কাহিনী। বালাখানার লোকাল তত্ত্বাবধায়ক দেলোয়ার হোসেনের নাম প্রতিবেদনে ছাপা হয়েছিল। গতকাল বুধবার তার সঙ্গে বিসত্দারিত কথা হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন সাভারের অত্যনত্দ পরিচিত জন। গতকাল টেলিফোন আলাপচারিতায় তিনি এ প্রতিবেদককে বলেছেন, বালাখানার তিনি নামমাত্র তত্ত্বাবধায়ক। মাসে এক-দুবার তিনি ওই বাড়িতে যাতায়াত করেন মাত্র। তিনি বলেন, জাপানি সাহেবের অনুপস্থিতিতে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানই এ বাড়ির সবকিছু। তত্ত্বাবধায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান, কাজী গিয়াসউদ্দিন আহমদ 3 যুগ ধরে জাপান প্রবাসী। জাপানিজ বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ী বসবাস করছেন। 3 যুগ ধরে প্রবাসী একজনের পৰে এত অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের স্থাপনা বানানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে এখন প্রশ্ন উঠেছে। 2/3 বছর বাদে গিয়াসউদ্দিন দেশে আসেন। কয়েকদিন থেকে আবার চলে যান। জনমনে এমনও প্রশ্ন উঠেছে যে, তাহলে কি কোনো কালো টাকার সেফটির জন্যেই বালাখানাটি নির্মিত হয়েছে। বাড়িটি সরেজমিনে ঘুরে মোটেই সাধারণ মনে হবে না। স্বাভাবিক বাড়ি বা বাংলোতে যেভাবে সব ব্যবস্থা থাকে এৰেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। বাড়িটি অত্যনত্দ মূল্যবান মার্বেল পাথরে নির্মিত। ডুপেস্নঙ্ এই বাড়িটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসের সিস্টেম নেই। সাময়িক আরাম-আয়েশ বা গোপন আড্ডা-দরবারের কাজেই এটার উত্তম ব্যবহার হতে পারে। সাভারের গান্ডা এলাকায় আনন্দপুর মৌজার 301 নম্বর দাগের বালাখানাটির অভিনব নির্মাণ শৈলী, স্থাপত্য এবং বিউটি পার্লার নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এলাকাবাসী এতদিন তা জানতে পারেনি। আনন্দপুরের বাসিন্দা রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী বাবুল আহমদ এবং একজন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এ প্রতিবেদককে বলেন, বাড়িটি নিয়ে অনেকের মতো তাদেরও কৌতূহল আছে। কিন্তু চেষ্টা করেও কখনই বাড়ির ভেতরে যেতে পারেননি। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক দেলোয়ার হোসেনও একথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বালাখানার জায়গাটি তার কাছ থেকেই কেনা। এটা তার পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। জাপান প্রবাসী চিত্রশিল্পী গিয়াসউদ্দিনের নামে জায়গাটি বিক্রি করার সুবাদে তাদের সম্পর্ক। একই সূত্রে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব বলে জানালেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মতিউর রহমানের সঙ্গে এ বাড়িতেই তার দেখা হয়। তিনি জানান, বর্তমান মালিকদের নির্দেশেই বাড়ির ভেতরে সাধারণ কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং তার বিশেষ কেউ এলেই কেবল বাড়ির শার্টার ওপেন করা হয়। সেৰেত্রে গভীর রাতেও জেগে ওঠে নিঝুম-নিরিবিলি বালাখানাটি। কবিতা আর সুমী দু'বোন, পরিচালনা করছে বালাখানা সংশিস্নষ্ট 'দুলহান বিউটি পার্লার'। এলাকায় দু'বোনের পরিচিতি ভালো নয়। কবিতা (21)'র স্বামী পলাশ, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন রাসেল স্মৃতি পরিষদের সাভার থানার সভাপতি। সুমীর বিয়ে হয়নি। সুমীর মোবাইলে ফোন করলে রিসিভ করেই কেটে দেয়। কবিতার স্বামী পলাশ নিজের ট্যাঙ্কি্যাব চালায়। সাভার থানা পুলিশ পরিবহণে ভাড়ায় চলে পলাশের ট্যাঙ্কি্যাব। বালাখানা এবং বিউটি পার্লারটি এলাকার বড় ফেনসিডিল স্পট বলেও জানিয়েছে পাড়া-প্রতিবেশী। কবিতা ও সুমীর এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি। পরিচিতজনরা জানিয়েছেন, দুটি মেয়েরই আচার-আচরণ রহস্যজনক। বিউটি পার্লারটি কেবলমাত্র মেয়েদের জন্য হলেও সেখানে 3 ঘণ্টার বেশি অবস্থান করে কোনো মহিলা কাস্টমার দেখা যায়নি। গতকাল সারাদিন সর্বসত্দরের মানুষকে বালাখানা এবং বিউটি পার্লারটি ঘিরে ভিড় করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, মাসে কয়েক দফা এ বাড়িতে ভিআইপিদের আনাগোনা ঘটে। কখনো কখনো 5/7টি দামী গাড়িতেও অতিথিদের আগমন ঘটে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে বিদেশী মেহমানদেরও এখানে সমবেত হতে দেখা গেছে। এ সময় গভীর রাত পর্যনত্দ আড্ডা-দরবার চলে। ডিনার-মচ্ছব হয়। তারপর এক সময় ভেঙে যায় বালাখানার আড্ডা। এভাবেই বছরের পর বছর আনন্দপুরের এই আনন্দ বালাখানাটি চলছে। #
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


