somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবিঘর থেকে চাপঘর: সিনেমা ভাবনা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা ছিল ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ । মাঝ কৈশোর বা তার শেষ প্রান্তে ছিল বয়সটা। নিউরনের পরতে পরতে সবকিছু নেই সব কিছু। তারপরও মনে পরে আছে সিনেমা হলের সামনে কাপড়ে আকা পোস্টারের কথা। রিক্সা এর পিছনে কাঁচা বা পাকা হাতের আকার প্লেট গুলর ছবি বেশ ভাসে চোখে। সেই সময় হাতেই আকা হত এগুল । মডিফাইড লেদ সেমিকমার্শিয়াল চার রঙের পোস্টারের খুব একটা বেশি প্রচলন ঘটেনি। ফটগ্রাফের মত নিখুঁত মুখশ্রি ছিল না পোস্টারগুলোতে । কিন্তু বয়সের দোষে (বা গুনে) বেশ টানত সেই পোস্টারগুলো। নায়িকার তনুশ্রী (অনেকক্ষেত্রে দেহশ্রি) আকর্ষিত করত বেশ।

সময়ের সাথে পরিবর্তন আছে সবকিছুর। পোস্টারের প্রতি সেই ভাল লাগা আর থাকে না, সেই সাথে যুক্ত হয় দেহ পল্লব (নাকি চর্বির) প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। তনুশ্রী গল্প এখানে শেষ, দেহশ্রি (পড়ুন দেহকুশ্রি) এর গল্প শুরু। আলোচনা আসলে সেখানে যাবেন না,কোন ভাবনা বা কথা নেই এখানে ২০০০ থেকে ২০০৬ শাল পর্যন্ত সিনেমা শিল্পের বিস্তার, প্রসার আর মান নিয়ে। কথা আছে সেই পোস্টার নিয়ে। সেই পোস্টার হতে পারে “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” , “আগুনের পরশমনি” , “দুখাই” অথবা “জুম্মান কসাই” এর। প্রযুক্তির মারপ্যাঁচ আর প্রয়োগ বেশি না থাকার কারনে সেই পোস্টারগুলো (আসলে সিনেমা হলের ব্যানার গুলো) আঁকা হতো হাতে।

সেই সময় রিকশার পিছনে ছবিগুল আঁকা হতো হাতে । বাঘ-ভাল্লুক থেকে শুরু করে বিড়াল-পাখি কিছুই বাদ যেত না সেই ছবিগুলোতে। অনেক সময় যে জনপ্রিয় বাংলা সিনেমার ছবিও উঠে আসত। এরপর আসে অন্য এককাল, এখন হাতে আঁকা হ্যান্ডম্যানশিপের স্থান দখল করে নেয় প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কোন তর্ক নেই এখানে , কিন্তু সমস্যাটা শুরু হয় যখন নামকা-ওয়াস্তে কিছু বাতিল প্রিন্টিং প্লেট দিয়ে কাজ চালান হয়। হাতে আঁকা ছবিগুলোকে মেনে নিতে হবে সংস্কৃতির অংশ হিসাবে । হয়ত বা সুশিল সামাজের অনেকেই নাক কুঁচকে ভুরু পাকিয়ে তাকাবে। কিন্তু শত বছর ধরে যা চলে আসছে, অনুশীলিত হচ্ছে সেটা অবশ্যই আমাদের নিজেদের অংশ।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আসে, হারিয়ে যায় অনেক কিছু। ঠিক তেমনি ভাবে অনেক কিছুই ফিরে আছে অন্যভাবে। আর তাই সিনেমা ঘর হয়ত ফিরে আসছে কাবাব ঘরে । আজকাল বেশ কিছু ফাস্ট ফুড দোকানের নাম থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, অনেক কিছুতেই সেই চেনাজানা বাংলা সিনেমার অনুভূতি । কখনও বা দোকানের নাম সেটা হতে পারে “চাপ সামলাও” বা “চাপ এক্সপ্রেস” , অথবা “কোপা সামসু” ধরনের কোন সাইনবোর্ড । খারাপ কী? কোন ভাবে টিকে থাকছে সেই সিনেমার অনুভূতি


// একই সাথে বিডি নিউজ্২৪ ব্লগে প্রকাশিত
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×