প্রধানমন্ত্রী আসবে। তাই সবার মনেই একটা কৌতূহল। আর তিন চার দিন পরেই আসবে। একটা সাজ সাজ রব পড়ে গেল। আমাদের বাসার পাশেই মাঠ। সেই মাঠে দেখলাম চুন দিয়ে রঙ করে হ্যালিপ্যাড বানানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকরা এসে মাঠে পানি দিচ্ছে। পুলিশরা এসে পাহারা দিচ্ছে। কাউকে সামনে যেতে দিচ্ছেনা। মানুষ তাই দূর থেকেই সব আয়োজন দেখছে।
কিন্তু আমার মনে এই চিন্তা যে কিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হ্যালিকপ্টার এসে এই হ্যালিপ্যাডে নামবে। একটা বড় ধরনের রিস্ক নিতে হবে নিশ্চিত। কারন আমাদের কোয়ার্টারের যা অবস্থা। তা দেখলে কেউই আর আসবেনা- প্রধানমন্ত্রীতো নস্যি। যেন সারের গুদাম আমাদের কোয়ার্টার। রাস্তা রাস্তা ভর্তি হয়ে গেছে সারে। বিকল্প রাস্তা বের করে হাটাহাটি করতে হয়।
পরে আমার কথা সত্যি করে খবর এল প্রধান মন্ত্রী আমাদের মাঠে নামবেন না। নামবেন সরিষাবাড়ি যেহেতু ওখানেই তার দরকার- একটি রেললাইন উদ্ভদন করবেন (আমাদের এখানে নামার কথা হয়েছিল নিরাপত্তার কথা ভেবে)
আগেই বলে নেই আমরা থাকি সরিষাবাড়ির পাশেই একটি ফার্টিলাইজার অর্থাৎ সারকারখানা কোম্পানীতে। সার উৎপাদন করা হয়। কিন্তু এবার যা হয়েছে তা আর কখনোও হয়নি। এবার কোম্পানী কর্তিত উৎপাদিত সকল সারই রয়ে গেছে , বিক্রি হয়নি, কোনো ডিলার পাওয়া যায়নি। এখানে বলা দরকার কোম্পানীটি অবশ্যই সরকারি।
সার বিক্রি হয়নাই কেন? আমাদের মধ্যে বিস্ময় ভাব কাজ করতো, কোনোবার তো এরকম হয়নি?
এবার হয়েছে কারন এবার সরকার বিদেশ থেকে সার কিনে এনেছে যাতে আর সারের কোনো কমতি থাকেনা এবার ( উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ বর্তমানে এমনিতেই দানাদার সারে প্রায় সয়ংসম্পুর্ণ)। এমন পরিমান সার কিনা হয়েছে যে আর কোনো সারের দরকার নেই। আমাদের কোম্পানীর সার হল অপ্রয়োজনীয়! তাই পরেই আছে তা। এভাবেই রাস্তার মধ্যেই। বৃষ্টি পড়ছে, সার নষ্ট হচ্ছে, কে আছে দেখার।
আর আমাদের হাটা চলার ক্ষতি হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় মাঠের মধ্যেও রাখছে। প্রথম দিকে বিরক্তির কারনে অপ্রকাশ্যে এমডিরে(কোম্পানীর প্রধান) গালাগালি করতাম। কিন্তু এখন বুঝি তার কিছুই করার নেই।
যাইহোক, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আর আমাদের মাঠে নামবেন না কেন এর কারন হিসেবে যা জানলাম তা হল ঢাকা থেকে এসে যারা (তাঁর কর্মচারীবৃন্দ) হ্যালিপ্যাড পরীক্ষা করছিল তারা নাকি তার আশপাশ থেকে সারের বস্তাগুলো সরাতে বলছিল কিন্তু জায়গার অভাবে সরানো যায়নাই(অথবা সরাতে দেওয়া হয়নাই)। তাই সরিষাবাড়িতেই তিনি নামলেন শেষ পর্যন্ত। অবশ্য খাওয়া দাওয়া সব আমাদের এখানেই হইছে। তখন হয়তো তিনি দেখেছেন কোয়ার্টারের পরিনতি- যা মুলত হয়েছে তার গঠিত সরকারের কারনে। এখানে আসলে সরকার বলতে তো তিনিই। আর কেউ কি আছে? তিনি কি কিছু ভাবলেন এই কোম্পানীকে নিয়ে- যে এই কোম্পানীর সারের একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।
নাকি তিনি বলবেন যে সারের যখন আর দরকার নেই তাহলে কোম্পানী রেখে দরকার কি, দেই বন্ধ করে!
[কেন যেন ছবি আপলোড করা যাচ্ছে না। কেন কেউ বলবেন কি? এটা কি কোনো বাগ? আর ছবি অন্য কোনো সময় পারলে দিয়ে দেব]
বিঃদ্রঃ লেখাটি সম্পুর্ণ অরাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


