somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিমন্ত্রণ

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তোর নামের পাশে সবুজ আলোর জ্বলজ্বল করতে দেখে,
‘’শুভ সকাল’’ লিখে আলাপ চারিতার শুরু সামাজিক যোগাযোগে ।
তোরা বিছানায় যাচ্ছিস আর
কি অবস্থা জানতে চেয়ে ফিরতি বার্তা পাঠিয়েছিলি সঙ্গে সঙ্গে।
আমাদের দিন আর তোদের রাত, অবস্থান ভেদে সময়ের তফাৎ
ভুলেই গিয়েছিলাম । অথচ, একটা সময় ছিল
আমরা চাইলেই সকালকে বিকাল আর দুপুর কে
রাত বানাতে পারতাম ! মাঝ রাত্তিরে উঠে গলা ছেড়ে গান গাইতাম !
তখন আমাদের সময় ছিল একই রকম
শরীরের গড়ন ও রঙ ছাড়া আমরা ছিলাম একই রকম ।

কিছু প্রশ্ন মেখে দ্রুত জবাব দিলাম লিখে
‘’ভাল, ভাল আছিস ? ছেলে মেয়ের কি অবস্থা ?
কেমন আছে ও ?’’ তেসরা সেপ্টেম্বর দু হাজার আঠারো,
রাত আর দিনের পার্থক্য ভেদে ঘড়িতে নটা উনচল্লিশ ছিল
‘’সবাই ভাল, তোদের কি খবর ? কাজ-কাম চলছে কেমন ?’’
নটা চল্লিশেই ফিরতি জবাব প্রশ্ন মাখা এমন ।
‘’আল্লাহ সহায়, চলছে এক রকম !
ঘুমিয়ে পড়তে পারিস যদি পেয়ে থাকে ঘুম ।‘’
জবাবের সাথেই দিলি জবাব, ‘’এখনো এক ঘণ্টা ,
আর কি খবর, হবার কথা ছিল যে চাকরিটা ?’’
ভাইভার রেজাল্ট হয়নি যেনে কি যেন কি হোল
মিনিট তিনেক পরে ভাল থাকিস বলে তার আলো নিভেছিল ।

পরবর্তী দু বছরে দুএকটি বার
হয়েছিল কথা কিছু এই দুজনার ।
তার পরে বিশ্বজুড়ে এলো যখন মহামারী করোনার কাল
অল্প কথায় তাড়াতাড়ি জানিয়ে ছিল সে তার নিজের আকাল !
দু বছর পেরিয়ে গেছে, আমার অবস্থা আগের মতোই আছে
তোর খবর জানতে ইচ্ছে হয় না, এমনটা ভাবিস না ।
ঢের ইচ্ছে হয়, তোদের তথাকথিত চাকরি আমার হয়নি বলে
অনড় অবস্থার কথা জানাবার ইচ্ছে মোমের মত গেছে গলে ।
তিন টাকার চায়ের সাথে দু টাকার বিস্কুটের আবদার
এই জন্মে কখনো কি করতে পারিস আবার ?
জ্বলন্ত সিগারেট হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দুচারটে কষে টান
এমন ইচ্ছে হয় কিনা, জানতে প্রাণ করে আনাচান !

নানা বাড়ী রোডের তোর সেই বান্ধবীর কি খবর ?
বেচারি বন্ধুত্বের জন্য করেছিল কতই না দস্তি-জবর !
কলেজ গেটের কেয়া, বন্যা, পিয়াস, লিটন মোক্তার পাড়ার রতি,
এস এস রোডের জাহিদ, বাপন, ফেরদৌস, পলি আর সাথী,
ফরহাদ, খুশি, রানা, জনি, ঝিল, রনি জানিস কি কেমন অবস্থা কার ?
সাজ্জাদ, মাসুদ, শামিম, আমিনুলের সাথে বুঝি যোগাযোগ নেই আর !
মনে কি আছে তোর, দুলালের সেলুন আর রাজু-মন্নাফের স্মৃতি মাখা স্টুডিও
আল আমিনের পুকুর চালা, সাদা কালো টিভি আর পকেট রেডিও !
মনে কি পড়ে তোর? একদিন আমাদের দেখা না হলে
দিনটাই মাটি হত, বৃথা হয়ে রাত যেত জ্বলে !

হয়তো ভুলেই গেছিস ফুলজোড় নদী আর যমুনার ঘাট
মতিনের দোকান, সাহাদের পুকুর আর কলেজের মাঠ ।
ভুলে যাওয়া তাস খেলা, হেরে গেলে হেলাফেলা
অকারণে মারামারি, বহুদূর হাঁটাহাঁটি রাতের বেলা ।
আরও কত কথা যে মনে আসে রোজ
কখনো কি সে সবের করেছিলি খোঁজ ?

মঙ্গল-অমঙ্গলে,
লোকালয় সহ চেনা সকল প্রাঙ্গণে
আমরা ছিলাম সবাই যেন অভিন্ন সদৃশ হরিহর প্রাণ
চোখে মায়া, বুকে প্রেম, মনে ছিল উদাসী ফাল্গুনী গান ।
এই সব ভুলে থাকা তোদেরই সাজে
আমার কবিতা-গানে বেদনার ছন্দ-সুরে সকলই বাজে ।

আয় সখা, আয় সখি, করি ফের মাখামাখি
কথা দিয়ে কথা নিয়ে ভুলে যাওয়া কথা রাখি ।
একদিন চুপচাপ, গল্পেরা টুপটাপ ঝরে পড়ুক আমাদের চেনা অঙ্গনে
হরিহর আত্মারা এক হয়ে মিশে যাক সযতন আর প্রকাশিত সঙ্গোপনে ।


কবিঃ রুদ্র আতিক, সিরাজগঞ্জ
২৫ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং
রাত্রি ০১.৫৫ মিনিট ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৩:২৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×