somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হার না মানা এক ছোট্ট শিশুর বেড়ে ওঠা

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় ও বেশ হাবা টাইপ ছিল। আমরা ওকে ক্ষেপিয়ে অনেক মজা পেতাম, ওকে জরিনা বললে সাথে সাথেই শুরু হতো!! যদিও ও আমার থেকে ৮/৯ বছরের ছোট। ওর নাম জাহিন, আমার কাজিন। ওর যখন বয়স ১১ বছর তখন ওর ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। সেবার ও খুলনায় আসার পর খালি মাথার পিছনে ব্যথা বলে কাদতো। তারপর বাসায় যাবার পর খালু মানে ওর আব্বু(ডাক্তার) ওকে টেস্ট করান এবং ওর রোগ ধরা পড়েছিল। প্রথম যখন ওর অসুখের কথা শুনি তখনকার আঘাতটা এখনও মনে করলেও ভয় লাগে।


একথা প্রথমে নানীকে বলা হয়েছিল না কারণ আমার সবচেয়ে ছোটমামা্ ১৫ বছর বয়সে ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেছিলেন। যখন মামা অসুস্থ ছিলেন তখন নানীকে বলতেন মা আমি বাচতে চাই, কিন্তু আজ থেকে ৩৮ বছর আগে কিছুই করা যায় নি। নানী সারাজীবন এই দু:খ নিয়ে কাটিয়েছেন।
যে কথা বলছিলাম, আমার কাজিনকে যখন চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন নানীকে বলতেই হয়েছিল। তারপর ও সুস্থ হয়ে ফিরে আসলো। আমরা সবাই ভাবলাম এবার বুঝি আমরা পার পেয়ে গেলাম, ওর সমস্যা মিটে গেছে। কিন্তু না ওর এবার নতুন আরেক সমস্যা শুরু হল, ঘাড় থেকে হাত পর্যন্ত প্রচন্ড ব্যথা আর আরেকটি অপারেশন। এই অপারেশনের পর ছোট্ট আমার এই বোনটার রগে টান লেগে বাম পাশটা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। ডাক্তার ওকে বিভিন্ন এক্সারসাইজ করতে দিয়েছে। সবই করে কিন্তু কোন উন্নতি নাই। তারপরও ও হরমোনের সমস্যার জন্য ওষুধ খেয়েছে প্রায় একবছর।

এখন ও আর আগের মত নাই অনেক বুদ্ধি হয়েছে। আমরা ওকেই এখন নানী বলি। ওর অনেক কিছুই ইচ্ছা করে আমরা বুঝি কিন্তু ও নিজেকে ইদানীং গুটিয়ে নিয়েছে, লোকজনের কথার জ্বালায়। ও তেমন লোকজনের সামনে বের হতে চায় না। আমি নিজেই একবার একজনকে বলতে শুনলাম ওর সামনে বলতে, “বাচবে না মনে হয়!!” তবুও আমাদের বাসায় আসলে আমরা চেষ্টা করি সব ধরনের মজা করে ওকে আনন্দে রাখতে।

ওর একবছর গ্যাপ গেছিলো। কিন্তু ও থেমে থাকে নি, ক্লাস ফাইভে ও এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ওকে সাইন্স পড়াতে চাইছিলো না খালা কারণ ওর শরীর প্রায়ই খারাপ থাকে। কিন্তু ও নিজেই সাইন্স নিয়েছে। আমি প্রায়ই নিজের পড়াশুনার ব্যাপারে বলি, এত কষ্ট করতে আর ভাল লাগে না। যখন ওর কথা ভাবি তখন আর কিছু মনে হয় না।

আমার বিশ্বাস এই ছোট্ট আপুটা আমার একদিন অনেক বড় হবে। আপনারা ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২০
২৫টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×