somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন বেতন কাঠামো ২০১৪ – যাহা লাউ তাহাই কদু ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহু প্রতিক্ষার পর আজ অর্থ মন্ত্রির কাছে জাতীয় পে স্কেল প্রতিবেদন জমা দেয়া হল। যা পর্যবেক্ষণপূর্বক আগামি জুলাই ২০১৫ থেকে বাস্তবায়ন করার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০ টি থেকে ১৬ টি ধাপ করার নতুন পরিকল্পনা সহ সর্বনিম্ন ৮২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০০ টাকার প্রস্তাবনা এসেছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। চাকুরীজীবীরা এখন শুধুই দিন গুনছেন আর পরিকল্পনা করছেন কবে আসবে সেই দিন।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হচ্ছে। কেউ পক্ষে কেও বা বিপক্ষে। তবে বেক্তিগত ভাবে আমি এর বিপক্ষে। কেন তার ব্যাখ্যা দেব। তার আগে একটু বলে নেই বর্তমান দেশের বর্তমান অবস্থা। ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর দেশের আহামরি পরিবর্তনের কোন সুবাতাস এখনও আমরা কেউ পাইনি। উন্নয়নের যে জয়গান গাওয়া হচ্ছে তার ছিটে ফোটাও কেও পাচ্ছে কি না আমার জানা নেই। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের একটি কথা বলি যে দেশে বিরোধী দল শক্তিশালী নয় সে দেশে সরকারি দল স্বেচ্ছাচারিতা করে। আমাদের দেশের অবস্থাও তাই। মানুষের যে পাঁচটি মৌলিক চাহিদা রয়েছে তার ভেতর দুটি রুটিকে অন্ন বলে খেয়ে বেঁচে আছি, বস্ত্র যা পরছি তার হাল হাকিকত করুন, বাসস্থান যা ছিল তাতে আর রং করা হয়নি বরং এখানে অখানে খসে পরছে, শিক্ষা যা অর্জন করেছি তাতে মামার জোর না থাকায় গলায় আর টাই বাঁধা হয়ে উঠেনি, স্বাস্থ্য যার দিকে তাকানোর চিন্তাই করা যায় না। অথচ আমরা নাগরিক, সরকার কে নিয়মিত টাক্স দেই ভাট দেই আবার ভোট দেই, পাই কি?

বেশ কয়েক বছর থেকেই আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। ছিলাম আছি হয়তো থাকবো। তবু বলবোই। বাংলাদেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলতে কর্মরত বেক্তিরা আমাদেরই কেউ না কেউ। তাদেরকে ছোট করে বলছিনা। আবার সবাইকে নয় অনেকেই বলছি , একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আপনি ১ টাকাও অসৎ উপার্জন করেন নাই। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে সুখে আছে চাকুরীজীবীরা । কারন সকলের জানা। আর যদি কেউ অস্বীকার করেন তাহলে উনি মিথ্যে বলবেন। ঢাকা শহরের এমন অনেক পিওন আছে যারা ২/৩ টা ফ্লাটের মালিক। যা অনেকেই জানেন। আবার শহর হয়ে গ্রামে গিয়ে দেখেন একজন চাকুরীজীবী কত সুখে আছেন। চাকুরি করে যদি খারাপি থাকা যায় তাহলে মানুষ কেন ১০ লাখ ২০ লাখ টাকা দিয়ে চাকরিতে ঢোকে। অই টাকা দিয়ে তো উনি ভালো বাবসা করতে পারেন। এবার নিশ্চয় অনেকে আমাকে গালি দেবেন। সময়ের সাথে নিত্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বেড়েছে তাহলে বেতন কেন বারবেন? কথা ঠিক। এখন দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে একথা ঠিক নয়, বেড়েছে আরও কয়েক বছর আগে থেকে। চাকুরীজীবীরা কি না খেয়ে ছিলেন? ছিলেন না । উপার্জন ঠিকই হয়েছে। আমার পরিচিত এক পুলিশের কনস্টেবল ৭০ লাখ টাকা খরচ করে এবারই বাড়ি করলেন।

বেতন দ্বিগুণ হলে দেশে দুর্নীতির হার কমব, এ মতবাদে যদি সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করেন তবে তা হবে হরিষে বিষাদ। যা লাউ তাহাই কদু। আগে তবু ১০-২০ লাখ টাকায় চাকরি পাওয়া জেত। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগেই চাকরিরই দাম এখন আকাশ চুম্বি। বাস্তবায়ন হলে যে কি হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে দুর্নীতির হার কমান। আর যে টাকা অতিরিক্ত টাকা দিতে যাচ্ছেন তা কার টাকা? অবশ্যই জনগনের।

দেশে আজ মধ্যবিত্ত বলে আর কোন শ্রেণী নেই । এখন উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত। শ্রেণী বাবধান অনেক। বেতন না বাড়িয়ে দেশের দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করুন। দেখবেন অই টাকায় অনেক ভালো ভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। আর যদি ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমলাদের খুশি রাখতে চান সেটাও যে খুব ভালো হবে তা নয়।

শেষ কথা এত কথা কেন বললাম? কারন একটায় আমি দেশের ট্যাক্স প্রদান কারি একজন নাগরিক। মুক্তবাক স্বাধীনতা আমার অধিকার। আমি আমার চাহিদা মাফিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমি দল বুঝি না বুঝি দেশ।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×