somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহুরে ফোকলোর

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিদ্যুত চমকানী আর বৃষ্টি দেখে ভাবলাম । বোধহয় আর যাওয়া হবেনা । ঈদ ঢাকাতেই সারতে হবে । আরও ভেবেছিলাম শেষ বাস হবে কিংবা এই শহর ছেড়ে যাওয়া শেষ যাত্রী আমি হব । শেষ বাস বা শেষ যাত্রী কোনটাই না । আমার পড়েও বাস যাচ্ছে । বহু মানুষ ছুটছে শেকড়ের টানে । নাড়ির টানে । বন্ধু মানসের ও সুমিতাভের ফোনের উপর ভরসা করে কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পেলাম । ব্যাস যাত্রা শুরু ।

গত একবছর এই শহরের বাইরে যাওয়া হয়নি । রাতের আধারে পর্দা সরিয়ে শহর কে দেখবার আর ইচ্ছা হলনা । গাড়ী চলতে শুরু করল । গাড়ীর দুলুনি আর মোচরে ঘুম থেকে জেগে যেতাম । হেড লাইটের আলোতে তাকিয়ে বুঝতাম গাড়ী রাস্তাতেই অাছে । বেলাইনে যায়নি । মনের অজান্তেই বলতাম লাইনে থেক বাস । তারপর ঘুম । ঘুম ভাংল যাত্রা বিরতিতে ।

থাকতে হয় বলে থাকা । না হলে হোটেলের বেয়ারা গুলো কখন ভাগত । হোটেল ছেড়ে । ঢুলু ঢুলু চোখে ওরাও আশা করেনি এখনো ঢাকা থেকে গাড়ী আসবে ।

চা খেয়ে তামাক জ্বালানোর জন্য বাইরে এসে রাত্রী দ্বিপ্রহরের খোলা আকাশ রাস্তা দেখতে দেখতে ছাগলের ডাক শুনলাম । কিন্তু আশে পাশে ছাগল নেই । তাহলে ছাগল কই ? পরে একটুু এগিয়ে গেলে দেখলাম গাড়ীর লাগেজ বকসের ভিতরে থেকে আওয়াজ আসছে । লাগেজের বকসে ছাগল । বেশকিছুখন অবাক হয়ে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করলাম । কি করে একটা সুস্থ মানুষের মাথায় এই চিন্তা এল । ছাগল কে গাড়ীর লাগেজ বকসে ঢুকাতে হবে ।

লেখকের নামটা মনে পড়ল না উক্তিটা মনে পড়ল । বাংগালী যদি এত ভাল সভ্যই হবে তাইলে পিশাচ শব্দটি কেন বাংলা অভিধানে এ্ল ।

গাড়ী ছুটল আবার । কখন বাড়ীর কাছাকাছি চলে এলাম মনে নেই । সিট ছেড়ে ইন্জিন বকসের পাশে এসে বসলাম । মনে হল ক্যামেরার এক বিশাল ফ্রেম । সব পেছনে চলে যাচ্ছে । সময়ের মত, জীবনের মত, নদীর স্রোতের মত, শৈশবের মত । ছোটবেলাতে প্রথম প্রথম বাসে উঠলেই তাকিয়ে থাকতাম পাশের গাছ গুলোর দিকে । মনে হত গাছ গুলো দুরে হারিয়ে যাচ্ছে ।

এসে গেল আমার ছোট্ট থানা শহর । ফলওয়ালা, চা ওয়ালা জেগে আছে । চায়ের কাপের টুং টাং আওয়াজ । শেষ প্রহরের বাসের যাত্রী নেমে এক কাপ চা খাবেই । আবার অনেকে ফল কিনে নিয়ে বাড়ী ফেরে বাড়ীর প্রিয় মানুষদের জন্য। রিকশাওয়ালারা বিমানের বিজনেস ক্লাশের সিটের মত পা লম্বা করে রিকশার সিটে সটান লম্বা হয়ে শেষরাতের ঝিমুনি চোখে মাথা দোলাচ্ছে । কখনো মশা মারছে আবার কখনো ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাচ্ছে । ঘুমের মধ্যেও আশা নিয়ে অাছে যদি কোন দুরের যাত্রী ডেকে তুলে বলে চল । ভাল একটা খ্যাপ পেলে কালকে বছরকার দিন বা ঈদের দিন ভাল কাটবে । বছরকার দিন শব্দটা হঠাৎ মনে এল । ঈদের সকালে ফকির ফকিন্নিরা বাসায় এসে প্রথম বলবে বছরকার দিন কিছু দেও মা । ওরা কেন বছরকার দিন বলে জানা হয়নি কখনো ।

শৈশব, কৈশর পেরোনো এ মফস্বল শহর । দল বেধে হেলিকপ্টারের পেছনে দৌড়াতাম । কোথা থেকে পল্লব এসে বলত এ্ই সিগারেটের টিপস (মোতাটা) মাত্র হেলিকপ্টার থেকে পড়ল । আমাদের আফসোস বারবার ওই পায় । গড মাস্ট বি ক্রেজি মুভর হেলিকপ্টার থেকে কোকের বোতল পড়া দেখলে বারবার পল্লবের কথা মনে পড়ত ।

এযেন সেই গানের কথা
জমেছে গভীরে যত সবি সময়ের খত
ভাংগে ঘর
ঈশ্বর
বাকা চোখে চেয়ে থাকে
ধুসর পিছু ডাকে

সবাই বড় হয়ে গেলাম । কে কোথায় চলে গেল । ঠায় দাড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে দাড়িয়ে তাামাশা দেখে পুরনো আমলীর তল আর বটো বৃখ্খ ।

যে গতিতে বাড়ী যাওয়া সেই গতিতে ফেরা । দুশহর দু প্রান্তে আমায় ডাকে । কারও সাথে দেখা হয় কেউ দেখা না করেই চলে যায় ।
যেমন টা চলে গেলেন আমার বিল্ডিং এর সেই ভদ্র মহিলা । নামটা জানিনা । বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে আসতে দেখা হত । সালাম দিতেন । হাজবেন্ড এর সাথে পরিচয় হল । শিপে কাজ করেন । গত দুদিন আগে নিশাচর এর মত বাসায় ঢুকছিলাম । ভদ্রলোক আগ বাড়িয়ে সালাম দিলেন, যেটা ওনি প্রায়শই করতেন । পাশে ভদ্রমহিলা কাদছেন । বল্লাম কোথাও যাচ্ছেন ভাই ?
উওরে বললেন হ্যা । বল্লাম কোথায় ?
শিপে । শিপ কোথায় ?
নেদারল্যান্ডে । কোন এয়ারে যাচ্ছেন ? উওরে বল্ল টার্কিস ।
ভদ্রমহিলার কান্নার কারনটা এতখনে বুঝলাম । হয়তোবা আগামী পাচ ছয়মাস স্বামীর সাথে দেখা হবেনা ।

আজ সকালে কান্নার আওয়াজের শব্দে উঠে আমার নীচের ফ্লরে গেলাম । শুনি সেই ভদ্রমহিলা মারা গেছেন । বারবার আমার মনে হচ্ছে সে রাতে ভাবী কাদছিল । ভাবীর স্বামী এতটা পথ এটা জেনে আসবেন আমার সাথে দেখা না করেই সে চলে গেল । আর হয়তোবা মনে মনে বলবেন -

When you hear my soft voice
echoing in your tomb,
you will realize
that you were never hidden from my eyes.
I am the pure awareness within your heart,
with you during joy and celebration,
suffering and despair. - রুমি ।

সেপ্টেম্বর - ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৪৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×