# মাম্মা! কালকে শবে বরাত। আম্মুরে কইছি সারারাত নামাজ পড়ুম!
- হালার পুত নামাজ পড়বি? তাইলে মাল খাইব ক্যাডা? আমরা না আয়োজন করছি আমার ম্যাচে সারারাত আমরা মাল খাইয়া টাল হইয়া থাকুম?
- আরে বলদ! মাল খামু দেইখাই তো আম্মুরে নামাজের মিথ্যা কইছি। নাইলে রাইতে থাকতে দিব বাইরে? তা মাম্মা কি কি থাকব? স্টিক না পানি?
- দুইটাই মাম্মা! পিনিক আর পিনিকে বুদবুদ হইয়া থাকমু। তারপর সারারাত পুরা ঢাকায় ঘুরুম।
-
# দোস্ত! আমি চকবাজার থাইক্কা ৫০ টা চকলেট বোম আর ৫০ টা ডান্ডি বোম কিনেছি। কালকে শবে বরাত ফুটাইতে হবে। তুই কয়টা কিনছস?
- আমি কিনিনাই দোস্ত। আমার আব্বু কইছে শবে বরাতে এগুলো ফুটানো গুনাহ! শবে বরাতে এগুলো ফুটাইলে মানুষের নামাজ পড়তে ডিস্টার্ব হয়।
ধুর! হালা! শবে বরাতে আনন্দ করতে হয়। গুনাহ টুনাহ হইব ক্যান?
- দোস্ত! আমিতো কিনিনাই। আমারে কয়েকটা দিবি?
মাগনা দিতে পারুম না কইলাম। একটা ৫ টাকা হইলে বেচুম।
- আচ্ছা দোস্ত। টাকা দিয়াই কিনুম। আমার লাইগা রাখিস কয়েক পিস।
(১) আপনাদের ২০১১ সালের শবেবরাতে আমিন বাজারের ঘটনাটার কথা মনে আছে? সাভারের আমিনবাজারে গণপিটুনিতে নিহতরা সবাই রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শবে বরাতের রাতে ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে ওই ৬ ছাত্র নিহত হয়। সেই ঘটনার আহত আল আমীন জানিয়েছিল, রাতে শব-ই-বরাতের নামাজ পড়তে তারা ৭ বন্ধু মিরপুর, দারুস সালাম ও শ্যামলি এলাকার বাসা থেকে বের হন। নামাজ পড়া শেষে বাসায় ফেরার পূর্বে মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আমিন বাজার ট্রাক স্টান্ডের পেছনের কোলার চর বালু মাঠে গিয়েছিলেন। তারা সবাই গোল হয়ে বসে গাঁজা সেবন করার সময় এলাকাবাসী তাদের ঘিরে ধরে। কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ডাকাত বলে চিৎকার করতে করতে তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে হামলা শুরু করে। কিছু বোঝার আগেই তার অপর ৬ বন্ধু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
(২) গত বছর শবে বরাতের মিরপুর কালসীর দুর্ঘটনার কথা মনে আছে? আতশবাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে বিহারীদের আর সাধারন মানুষদের দুইগ্রুপের সংঘর্ষ আর অগ্নিকান্ডে ১০জন নিহত ও পুলিশসহ আহত হয়েছিল কমপক্ষে ৩০ জন। ভোর ছয়টার দিকে সংঘর্ষের সময় অগ্নিকান্ডে কালসী বিহারী পট্টির কমপক্ষে ২০টি ঘরে আগুন দেয়া হয়।
ছোটবেলা হতেই আতশবাজি ফোটানোর নিয়ম ঢাকা শহরে দেখেছি। তখন বোম কিনতে পারতাম না। তবে তারাবাতি জ্বালাতাম। তখন ভাবতাম যে, শবে বরাতে বোম বা তারাবাতি ফুটাতে হয়। আস্তে আস্তে বড় হয়েছি বুঝতে শিখেছি। যে এটা ভুল। তখন হতেই তারাবাতি জ্বালানো বন্ধ করে দেই। আমাদের দেশেই শবে বরাতের দিনে আতশবাজির ফুটানোর নিয়ম বিহারীরা পালন করে থাকে। তাদের দেখা দেখি বাঙালিরাও এই আতশবাজি ফুটাতে শুরু করে। ছোট ছোট ছেলেরা সাধারনত আতশবাজি ফুটিয়ে থাকে। এই আতশবাজির জন্য শবে বরাতে ইবাদতরত মুসুল্লিদের যে কত সমস্যা হয় তা আপনারা সবাই জানেন। গত বছর এই ঘটনার জন্য ১০ জনের নির্মম মৃত্যু হতে প্রাপ্ত শিক্ষা আগামী শবেবরাতে সবাইকে এই আতশবাজি ফুটানো হতে দূরে রাখবে তো?
প্রশাসনের এত বড় ঘটনার পর টনক নড়বে তো?
২০০৯ সালে প্রথম জানতে পারি যে, শবে বরাত আর শবে কদরে ঢাকা শহরের ছেলেরা মদ বা বিভিন্ন মাদক সেবন করে। এরা বাসায় সারারাত মসজিদে নামাজ পড়ার অজুহাত দেখিয়ে বাসা হতে বের হয়। আর এই সুযোগে এই কাজ করে থাকে। অনেকে আছে সারারাত পুরো ঢাকায় পিক ভ্যানের পিছনে চড়ে এক স্থান হতে আরেক স্থানে ঘুরাঘুরি করে আর হৈ হুল্লোড় করে। ২০১১ সালে এই ঘটনার জের ধরে আমিনবাজারে ৬ জন ছাত্রের নির্মম মৃত্যু ঘটে।
এতক্ষন ধরে এতকিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই ছিল; উপরোক্তিও ঘটনার আর পুরনাবৃত্তি যেন না ঘটে এই কামনা করছি। আপনার সন্তান শবে বরাতের রাতে কোন বাজে কাজে না জড়িয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আসুন পবিত্র শবে বরাতের পবিত্রতা বজায় রাখি। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
#অন্তর_মাশঊদ

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৫ রাত ১১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



