সব মিলিয়ে তারা বেশ দিলদরিয়া স্বভাবের মানুষজন, আমার বাটার ৪০০ টাকা দামের স্যান্ডেলশু, সেটাও চলবে, আরেকটু কমদামের ২৫০ টাকা দামের স্যান্ডেল সেটিতেও তাদের আপত্তি নাই, আবার কখনো ফুটপাতের থেকে কেনা ৩০ টাকা দামের স্পঞ্জটিকেও তারা মায়া করে উঠিয়ে নেন। দেখলাম যে এমন মুক্তমনা প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের সাথে কম্প্রমাইজ করে সহবস্থান করা মোটামুটি মুশকিল হয়ে গেল। তাই দেখলাম যে, হয় আমি থাকব নাহয় তেনারা থাকবেন। সব মিলিয়ে দেখলাম যে তেনাদের সবাইরে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার চেইয়ে মানে মানে নিজেই অফ যাওয়া ভাল। তাই রাত বিরাতে লাইনঘাট করে লন্ডন ভাগলাম। এইখানে এসে ভাবলাম আইসা গেসি পয়সাওয়ালাগোর দেশে এইখানে আমার ফকিরা জুতার দিকে কেউ তাকাবে না।
সপ্তাহদুয়েক পরে গেছি এক মসজিদে, নামাজ শেষ করেটরে বের হয়ে দেখি যে স্যান্ডেল সাহেবের দেখা নাই। অনেক খোঁজাখুজি করে কনফার্ম হলাম যে, আসলেই হাওয়া হয়ে গেছে। আমার তো মাথায় হাত অবস্থা, না মানে ঢাকা থেকে ৩০ টাকা দিয়ে কেনা স্যান্ডেলের জন্য না, তার চেয়ে বেশী ভয় হল যে তেনারা যদি আমারে ফলো করে বিলাতেও চলে আসে তাহলে আমার হইব কি? এমনিতেই বিদিশ বলে কথা আবার তার মধ্যে যদি নিয়মিত দন্ডী দেয়া লাগে তাহলে তো খবর খারাপ। আমার কান্নাকাটি দেখে মানুষজন জড়ো হয়ে গেল, কিঞ্চিত গবেষণার পরে দেখা গেল যে, আমার স্যান্ডেল এমনি ফকিরা যে মানুষজন ওইটারে বাথরুমের স্যান্ডেল মনে করে আরেকদিকে নিয়ে গেছে। সেই দফা ওইটার আর দেখা পাওয়া গেল না। আমি মসজিদের এক কপি স্যান্ডেল নিয়া হন্টন করিয়া বাটী ফিরিলাম।
শেষ করছি আরেকটা পিচ্চি ঘটনা দিয়ে, আরেকবার মসজিদ থেকে বের হয়ে তাজ্জব, যেখানে রেখে গেছিলাম সেখানে এক পাটি আছে আরেক পায়ের জুতার কোন নামগন্ধও নাই (অনেক কষ্ট করে ততোদিনে স্যান্ডেল ছেড়ে নিয়মিত জুতো পরা ধরেছি) আমার খোঁজাখুজি দেখে আবার এক দুইজন দাঁড়ায়ে গেল, সব শুনে টুনে একজন বলল, লেংড়া চোরে আপনার জুতা নিয়ে গেছে। তার তো দুই পায়ের জুতো দরকার নাই, যেই পায়ের দরকার সেটা নিয়ে বাকিটা রেখে গেছে। আমিও তখন মনে মনে ল্যাংড়া ভাইয়ের প্রতি মৃদুমন্দ কিছু বাক্য উদ্গীরণ করলাম। আরো পাঁচ সাত মিনিট অনুসন্ধানকর্মের পরে তাকের পেছনের চিপা থেকে বের হল আরেক পাটি। এইদফা মহানন্দে ঘর ফিরিলাম।
তবে বাংলাদেশে জুতোচোরের দশদিন হলেও মাঝেমধ্যে জনতার একদিন হয়ে যায়, তখন জনতার পুঞ্জীভূত রূদ্ররোষ যে কতটা কুৎসিত রূপ নিতে পারে সেটা হয়তো অনেকেরই জানা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



